১২ অগাস্ট ২০২৬, ৫:৩১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

১৯ পরীক্ষার্থী, পাসের খাতায় শূন্য—গোলাপগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয়

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির এবারের পাসের হার শূন্য শতাংশ। দীর্ঘদিনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের অসচেতনতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, তদারকি ও ব্যবস্থাপনার কোথাও ঘাটতি ছিল কি না।

১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষা দিয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৫ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন। এছাড়া একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ ইউসুফ আলী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন পাস করে। ওই বছর পাসের হার ছিল ৭৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৪০ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করে, পাসের হার নেমে দাঁড়ায় ৪৭ শতাংশে। ২০২৪ সালে ৩৭ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করে, পাসের হার ছিল ৫১ শতাংশ। ২০২৫ সালে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ জন উত্তীর্ণ হয়, পাসের হার ছিল ৩১ শতাংশ।

আর চলতি ২০২৬ সালে ১৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও পাস না করায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

অর্থাৎ গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ফলাফলে একটি ধারাবাহিক অবনতির চিত্র ফুটে উঠছে। যদিও কোনো একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না, তবুও টানা কয়েক বছর ফলাফল খারাপ হওয়া এবং এবার শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করায় বিষয়টি এলাকায় সচেতন মানুষদের কাছে সমালোচনর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

See also  উৎসবমুখর পরিবেশে আগানগর ডিগ্রি কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছিল না। নির্বাচনী পরীক্ষাতেও তাদের ফলাফল ভালো ছিল না। বিভিন্ন চাপ ও প্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয় বিবেচনা করে তাদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী ছিল এবং তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন সময় আর্থিক উপার্জনের জন্য কাজকর্মে ব্যস্ত থাকত। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে অভিভাবকদের অসচেতনতাকেও ফলাফল খারাপের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এখানেই প্রশ্ন থেকে যায়—শিক্ষার্থীরা যদি দীর্ঘদিন অনিয়মিত থাকে এবং নির্বাচনী পরীক্ষায়ও সন্তোষজনক ফলাফল না করে, তাহলে তাদের শিক্ষার ঘাটতি পূরণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল? অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ কিংবা ঝরে পড়া রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি।

একজন অভিভাবক সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠান শুধু পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য নয়; ভালো শিক্ষা, নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার প্রত্যাশায়। সেখানে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ১৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করলে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

গোলাপগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা একটাই সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ। কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, অভিভাবকদের স্বপ্ন এবং একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি পুরো এলাকার আস্থা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন (নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক) এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, তিনি মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন আগে নতুন কমিটিতে দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে আগের সময়ের কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার সরাসরি অভিজ্ঞতা সীমিত। ফলাফল শোনার পর তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন বলেও জানান।

See also  সহকারী অধ্যাপক মতিন সৈকত-কে নিয়ে তাঁর শিক্ষার্থীদের স্মৃতি রোমন্থন

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক বলেন, গোলাপগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী দেখা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক মণ্ডলীর সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেনাপোলে ১৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করেছে-বিজিবি

১

সাভার-আশুলিয়ায় দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

২

চৌদ্দগ্রামে সরকারি সড়ক কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ, ড্রাম ট্রাকসহ আটক ৩

৩

অনলাইনে ফি-চার্জ আদায়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সাথে সোনালী ব্যাংকের সমঝোতা স্মারক

৪

মুরাদনগরে ইলিশ মাছবোঝাই পিকআপ ডাকাতি, ১৯মামলার আসামী ডাকাত সর্দার ইদ্রিস গ্রেপ্তার

৫

কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের পেছনের সড়কে ছিনতাইয়ে জড়িত ৪ জন আটক

৬

মালদ্বীপের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফুলেল সংবর্ধনায় সিক্ত ফেনী জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ

৭

বেনাপোলে ১৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করেছে-বিজিবি

৮

কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ

৯

‘এসিল্যান্ডের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি, তাকেও গ্রেপ্তার করুন’: সার্ভেয়ার আসাদুল

১০

ভূল্লী উপজেলায় বিয়ের সিদ্ধান্তে জটিলতায় পরদিন গাছে ঝুলল অর্নাসপড়ুয়া ছাত্রীর মরদেহ

১১

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি স্কুলে কোচিং, ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যুৎও

১২

দুই ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলো শ্রমিকরা

১৩

ডিবি ও জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: শ্রমিক উস্কানিদাতা ও কিশোর গ্যাংসহ গ্রেপ্তার ৩৮৫

১৪

সীমান্তে শান্তি-শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক

১৫

এসআরবির নতুন ডিজি ফারুক, শিল্প পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ বড় পদে রদবদল

১৬

জামালপুরে মশক নিধন ও রোড লাইট স্থাপনে মেয়র পদপ্রার্থী সোহেল রানা খানের উদ্যোগ

১৭

‘হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে’

১৮

বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করে হবে দ্বিতীয় যমুনা সেতু

১৯

পদ্মা ব্যারাজ, পদ্মা ও যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত

২০