বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় পার্টিকে ঠেকাতে ছাত্রদের নিয়ে প্রথম বিএনপি সংগঠন শুরু করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে দলকে সংগঠিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এ নির্বাচন আমাদের জন্য অনেক কষ্টার্জিত। ভোটাধিকার আদায়ের জন্য গত ১৫ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই প্রায় দুই হাজার তরুণ প্রাণ দিয়েছে। এত ত্যাগের পরেই আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি।”
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সে লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেন।”
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে বিএনপি আপোষহীন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই এ অঞ্চলে একসঙ্গে বড় হয়েছে। যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করবে, তারা দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষতি করবে।”
একাত্তরের চেতনার বিষয়ে তিনি বলেন, “একটি গোষ্ঠী একাত্তরের চেতনাকে পেছনে ফেলতে চায়। কিন্তু একাত্তরের স্বাধীনতাই আমাদের অস্তিত্ব। একাত্তরকে পিছিয়ে দিলে আমাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।”
ধর্মের অপব্যবহার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। ভোট একটি আমানত—এই আমানতের খেয়ানত করা যাবে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশ আবারও বিপদের মুখে পড়বে।”
তিনি বলেন, দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।