২৮ মে ২০২৫, ২:০৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রয়টার্সের প্রতিবেদন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার নেপথ্যে

আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। এক রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের ফলে গত বছর ভারতে পালিয়ে যান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেও সংস্কার নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি হচ্ছে সরকার।
নির্বাচন বিতর্ক: প্রফেসর ইউনূস ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন আগামী বছরের জুনের মধ্যেই বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। এদিকে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার  নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

গত সপ্তাহে দলটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা ‘কঠিন’ হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কর্তৃক ডিসেম্বরের শেষে নির্বাচন করার আহ্বান জানানোর পর সে চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের শেষে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার ওপর জোর দাবি জানিয়েছে রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে জন্ম নেয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারা বলেছে, নির্বাচনের জন্য মূল সংস্কার শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। হাসিনার পতনের পর দেশে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. ইউনূস তার গতি এখন বেশ ধীর।

ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ঐকমত্য গড়ে তুলতে সাত সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে সরকার। যার নাম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বা এনসিসি। কমিশনটি জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের প্রথম দফার সংলাপ হয়েছে। যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং বিচারিক স্বাধীনতার বিষয়ে সামান্য মতপার্থক্য থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঐকমত্য হয়েছে। তবে সাংবিধানিক সংস্কার, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের প্রস্তাবগুলোতে এখনো তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। যাতে বিষয়টা আরও ঘোলাটে হচ্ছে। সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিশন। যা জুনের প্রথম সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।

See also  কেন্দ্র দখলে গেলে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে: মুফতি রেজাউল করীম

আইনশৃঙ্খলা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জনগণের উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রাজধানী ঢাকার জনজীবন। এতে নাগরিকদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, দ্রুত রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

হাসিনার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা: চলতি মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে সরকার। যাতে পরবর্তী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় সরকারকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে এমন অস্থির পরিস্থিতি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টার্মিনালহীন গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

হ্যারি কেইন-এমবাপ্পে নয়, ব্যালন ডি’অর মেসিরই পাওয়া উচিত: বেকহ্যাম

নতুন সরকার আসার পরেও ঘুস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

ইতালিতে মানবপাচার, নৌকা ডুবে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ২

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির তিন নেতার মনোনয়ন ফরম জমা

খানসামায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ প্রকল্পের কর্মসূচি

আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক

খেলনা পিস্তল-ওয়াকিটকি নিয়ে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, গ্রেফতার ৬

আসিফ মাহমুদের সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য চেয়ে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থায় চিঠি

একদিনেই ৫২৫ গ্রেফতার, জব্দ ইয়াবা-গাঁজা-মদ

১০

‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরলে কিছু হবে না’ অডিওটি এআই, দাবি সেই ওসির

১১

জমিতে স্প্রে করতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যু

১২

পরাজয় ঢাকতে হলিউডি সিনেমার মতো গল্প তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

১৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মার্কিন সংবিধান দিবস’ উদযাপিত

১৪

গুলশান-ধানমণ্ডি- নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

১৫

১১ দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না: গোলাম পরওয়ার

১৬

‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন’

১৭

ভারতে সাজাভোগ শেষে শিশুসহ ১৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে হস্তান্তর

১৮

মাথা উঁচু করলেই নেমে আসে চাকরি জীবনের করুণ পরিণতি

১৯

ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতে ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’ উদ্বোধন

২০