সোহেল রানা মিলন, স্টাফ রিপোর্টার
পুলিশ জানায় সলঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দীর্ঘ প্রায় এক বছর পূর্বে সংঘটিত হওয়া ডাকাতি মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৭/ ৪ /২০২৫ তারিখ গত কোরবানির ঈদের পূর্বে চট্টগ্রামের অধিবাসী আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গ হতে ১৪ টি ষাঁড় গরু ক্রয় করে পিকআপ যোগে ঢাকা যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জ বগুড়া হাইওয়ে মহাসড়কের উপর গভীর রাতে কতিপয় দুর্ধর্ষ ডাকাত তাদের ব্যবহৃত পিকআপ দিয়ে আমানুল্লাহর গরু বহনকারী ট্রাকটিকে চাপ দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করে গরুর পিকআপে থাকা ড্রাইভার, হেল্পার ও গরুর রাখালকে জোরপূর্বক হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপে তুলে নিয়ে গরুসহ তাদের পিক আপ ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এই বিষয়ে সলঙ্গা থানায় সে সময় মামলা হলেও দীর্ঘদিন মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ন্যায় বিচার প্রায় অনিশ্চিত হয়ে যায় ।
ঠিক সেই সময় সলঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই মামলার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ঘটনায় অংশগ্রহণকারী মানিকগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত সদস্য হাসান ওরফে রিপনকে ঢাকার আশুলিয়া হতে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এ মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায় সেদিনের দুর্ধর্ষ ডাকাতির কাজে অংশগ্রহণকারী ১২ জন ডাকাত দলের সদস্যদের নাম ও ঠিকানা, তেমনি বেরিয়ে আসে লুন্ঠিত গরুর শেষ পরিণতি।
সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি সম্পন্ন করে লুন্ঠিত গরু ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন এনায়েতপুরে লোক চক্ষুর অন্তরালে প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর সুপার শপে মাংস সরবরাহকারী জিয়ার খামারে রাতের আঁধারে বিক্রয় করে।
সূচতুর কসাইখ্যাত সেই জিয়া গরুগুলিকে জবাই করে মাংস হিসেবে রাজধানীর অভিজাত শপিংমলে সরবরাহ করেছে। কসাইখ্যাত সূচতুর জিয়া ও তার কুকর্মের সহযোগী আলিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে কুখ্যাত ডাকাত হাসান @ রিপন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। সুগম হয়েছে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথ। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে টিম সলংগার অভিযান অব্যাহত আছে।## সোহেল রানা মিলন স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক স্বাধীন ভোর ।
মন্তব্য করুন