মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী, গৃহহীন ও মেধাবী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় উপকারভোগীদের উদ্দেশে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, “কিছু লোক বেরিয়েছে, যারা আপনাদের ভুল বুঝিয়ে টাকা নিতে চায়। কাউকে পাঁচ টাকাও দেবেন না। সমস্ত কিছু বিনা পয়সায় সরকার আপনাদের দিতে চায়।”
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিরামপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সরকারি সহায়তা ও অনুদান বিতরণ করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় দুঃস্থ ও মেধাবী ৩৭ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ২২৩ জন ব্যক্তির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ১ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।
এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নির্যাতিত ও দুঃস্থ নারীদের মাঝে ২০২টি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এডিপি বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ২০১ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে ৮৫টি স্প্রে মেশিন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ৭২টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়।
কৃষকদের সহায়তায় SACP-RAINS প্রকল্পের আওতায় ৮৪০ জন কৃষকের মাঝে সার ও ১২ প্রকারের সবজি বীজ ও নেট বিতরণ করা হয়।
সহায়তা বিতরণকালে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করলে তাকে টাকা না দেওয়ার জন্য তিনি উপকারভোগীদের সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, “কাউকে পাঁচ টাকাও দেবেন না। পাঁচ টাকাও দেবেন না। সমস্ত কিছু বিনা পয়সায় সরকার আপনাদের দিতে চাই।” সরকারি সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোর্শেদ আলী খান, উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুনা পারভীন, বিরামপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু, বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেছ উদ্দিন এবং বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, উপকারভোগী, কৃষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন