ডেস্ক নিউজ
ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় বাসার পার্কিংয়ে ইটের সুড়কির বস্তা থেকে অবিস্ফোরিত আরও ৪টি ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতাররা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত ‘ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আসামি গ্রেফতার সংক্রান্ত’ সংবাদ সন্মেলনে এসব কথা জানান ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোল্লা মো. শাহীন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)।
মোল্লা মো. শাহীন বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে শনাক্ত করি। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, ওইদিন দিবাগত রাতে লালবাগের জেন সাহা রোডে তার ভাড়া বাসার নিচতলায় ইটের সুড়কির বস্তা থেকে ৪টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিষ্ক্রিয় করে।
এসময় গ্রেফতাররকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামি রায়হান কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঢাকা দক্ষিণের বংশাল থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক। গতবছর মতিঝিল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে পাঁচ মাস জেল হাজতে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত হয়। তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
গ্রেফতারকৃতদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আসলে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার জন্যই এগুলো করছে এবং তাদের একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তো আছেই। গত দুই-তিন দিন ঢাকা শহরে বেশ কয়েক জায়গায় এরকম ঘটনা ঘটেছে। এরই একটা অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ীতেও তারা এটা করেছে। তারা কেন করেছে এবং এটার পেছনে আরও কারা আসলে জড়িত, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমরা তাদের রিমান্ডের আবেদন করবো।
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে রায়হানের যোগাযোগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, তাদের মোবাইলে কমিউনিকেশন আছে। এগুলো নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করছি। বিস্তারিত রিমান্ডে নেওয়ার পর জানা যাবে।
মন্তব্য করুন