নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে সুরমা নদীর পাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেলা ১১টায় চাঁদনী ঘাটে এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, “বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতেই এই প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে এটি গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির কাজ বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে করতে হবে। সরকার এটা ডোনারের মাধ্যমে করবে।”
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্য বর্ধন এবং শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।
প্রকল্পের অধীনে ৩ হাজার ৭৭১ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণে তিনটি রেগুলেটর ও পাম্প স্টেশন এবং ৫০টি ফ্ল্যাপ গেট স্থাপন করা হবে। খাল ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ৫০ হাজার মিটার বিদ্যমান খাল পুনর্বাসন এবং ২৫ হাজার মিটার ড্রেন পুনর্নির্মাণ এবং ১ লাখ ২০ হাজার মিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হবে।
একইসঙ্গে ৩০ হাজার মিটার খাল সুরক্ষা কাজ (ওয়াকওয়েসহ ২০ হাজার মিটার), পাঁচটি সিলট্র্যাপ স্থাপন এবং ১০ কিলোমিটার বন্যা সুরক্ষা কাজ করা হবে।
এছাড়া প্রকল্পের অধীনে একটি নতুন সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান ৩৫টি সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খালের সীমানাও নির্ধারণ করা হবে।
প্রকল্পের সুফল হিসেবে বলা হয়েছে- সুরমা নদীর তীরে বন্যা প্রতিরোধী দেয়াল বা বাঁধের মাধ্যমে শহর রক্ষা, স্লুইস গেট ও পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে পানির দ্রুত নিষ্কাশন, জলাভূমি সংরক্ষণ ও বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণ।
এছাড়া সুরমা নদী সংলগ্ন আরসিসি ও এসফল্ট সড়ক উঁচু করা, খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থাও প্রকল্পের সুবিধা হিসেবে পাবে নগরবাসী।
এর আগে বেলা ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর তিনি হযরত শাহ জালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন।
বেলা ১২টায় সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে বাইশা নদী পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউজে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকাল ৩টায় সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান। জেলা পর্যায় থেকে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে এটি একটি নতুন কর্মসূচি, যা বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল।
বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এ সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২১ জানুয়ারি সেখানকার আলিয়া মাদ্রাসায় জনসভার মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শনিবারই প্রথম সিলেট সফর করছেন তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন