মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। বিপরীতে, এ বছর শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে মাত্র চারটি কলেজ। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই কারণ দর্শানোর নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই বোর্ডটিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা সর্বনিম্ন।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৫৬টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ১৯৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯২ হাজার ১৬২ জনের মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৭ হাজার ৪৩৫ জন।
যে ১৫ কলেজে পাস করেননি কেউ
শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর সদরের চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মতলব দক্ষিণের ড. এম শামসুল হক মডেল কলেজ, কুমিল্লার লালমাইয়ের সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চৌদ্দগ্রামের বগৈর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্রাহ্মণপাড়ার প্রফেসর সিকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ, কমলনগরের তুরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফজু মিয়ার হাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দীন আলোকিত কলেজ ও লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে এ তালিকায়।
তালিকার বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো ফেনী সদরের বেগম শামসুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিকন মডেল কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আপার মডেল কলেজ।
শতভাগ পাস করেছে যে চার কলেজ
এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে শতভাগ পাস করা চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো কুমিল্লা সদরের ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেঘনা উপজেলার মুজাফফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ এবং ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে যা বলছে বোর্ড
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এর উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি, কয়েকটি আন্দোলন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, শূন্য পাস করা ১৫টি কলেজকে শিগগিরই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৭০৭ জন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ০.৮২ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় অর্ধেক।
মন্তব্য করুন