(নোট)
মতিন সৈকত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্টপারসন এআইপি। তিনি একজন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ, কৃষি-উদ্ভাবক, সমাজ সংগঠক, শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক ও লেখক। টেকসই কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, নদী-খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্লাবনভূমিতে সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস অবদান তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন, সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, নাগরিক বর্জ্য থেকে জৈব সার (সিটিজেন ফার্টিলাইজার) উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনসম্পৃক্ত পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর উদ্যোগে খাল, নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার এবং কৃষি-পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ স্কুল-এর প্রতিষ্ঠাতা,
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদের সদস্য ও লাইফ মেম্বার এবং কুমিল্লা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মময় জীবনে তিনি রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র (১৯৮৭), জাতীয় কৃষি পদক (২০১০ ও ২০১৭), জাতীয় পরিবেশ পদক (২০২১) এবং এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন এআইপি সম্মাননা (২০২১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড এন্ড ফেলোশিপ
সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তা, মানবকল্যাণে নিবেদিত কর্মযজ্ঞ এবং প্রকৃতিপ্রেম তাঁকে সমকালীন বাংলাদেশের একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
লেখক, গবেষক ও জনসচেতনতামূলক বক্তা হিসেবে মতিন সৈকত বিশ্বাস করেন—”প্রকৃতি রক্ষা মানেই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষা।” তাঁর কর্ম ও চিন্তা একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনুপ্রেরণার উৎস।
১৯৮৭ সালে তাঁর কবিতা পত্র, অলংকার প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মুক্তি চাই, তোমরাতো সুখেই আছো প্রকাশিত হয়েছে। ‘পানি সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত ও পরিবেশ প্রকৃতি’, চারদশকের কর্মযজ্ঞ নিয়ে ডকুমেন্টারি বই ‘সোনালী অধ্যায়’ প্রকাশের পথে। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নিয়ে কবি, সাহিত্যিকগণ লেখেছেন। এখানে মতিন সৈকত কে নিয়ে ২১ জন কবি বিভিন্ন সময়ে যে কবিতা লেখেন তা উল্লেখ করা হলো।
—- সম্পাদক
(১)
দোয়া
—– মুহাম্মদ রফিকুর রহমান
পশ্চিম বঙ্গ, ভারত
(মতিন সৈকত এর অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে লেখা )
ফুল কুঁড়ি নয় ফোটা গোলাপ
চাঁদের মত মুখ
হাটতে হাটতে নুহের কিস্তি
হয়ে যায় তাঁর বুক।
আকাশ নীলে তারার হরফ
হয়ে যায় তার কাব্য
হারিয়ে গেলে বল তখন
কাকে নিয়ে ভাবব?
সেই ফুলে ঝড়ো হাওয়া
ঝরে যায় গো যদি
হৃদয় হবে ব্যাথার পাহাড়
অশ্রু সাগর নদী।
প্রভূ আমার নীড় করে দাও
তার দরাজ বুক
মানুষ যাতে পায় ঠিকানা
হৃদয় জুড়ে সুখ।
——————————
(নোট) মতিন সৈকত ১৯৯০ সালে অসুস্থ হয়ে গৌরীপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময়ে বাবা-মা, ভাই-বোন পাড়া-প্রতিবেশীদের উৎকণ্ঠার পাশাপাশি বন্ধুদের উপস্থিতি ছিল সারাজীবন মনে রাখার মত। তখন তরুণ গল্পকার, কবি, সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচিতি জাতীয় পত্রিকায় ব্যাপক। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জগন্নাথ কলেজে বাংলা সাহিত্যে অনার্স পড়েন তিনি । তাঁর অসুস্থতার সংবাদ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়। সে সময়ে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বিশিষ্ট কবি মোঃ রফিকুর রহমান ‘দোয়া’ নামের এ কবিতাটি তাঁর জন্য লেখে পাঠান। তাঁর অপূর্ব এ হৃত্যতা স্বরণীয়।
———–###———-
(২)
তোমাদের অনিদের্শ যাত্রা পথে
—– অধ্যাপক শাহেদ আলী
বাইরে আঁধার ঘোর, তবু খোলো ঝাপ
মেঘে ঢাকা আসমান, তবু দাও লাফ।
হয়ত তারার আলো পথ দেখাবে
হয়ত সাপের মনি-আলো ছড়াবে।
দুইজনে মিলে পেলে পথের ঠিকানা
ক্ষনিকের উৎসবে হবে চেনা জানা।
হিম্মতে তরী বাও, দূরে নয় সৈকত
ওয়েসিস হোক তব দুস্তর মরুপথ।
——————————
(বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক অধ্যাপক শাহেদ আলী সচরাচর কবিতা লেখতেন না। তবুও মতিন সৈকতের বিয়ে উপলক্ষে ১৯৯৬ সালে আট লাইনের এই কবিতাটি শুভেচ্ছা স্বরূপ ডাক যোগে পাঠিয়েছেন। কবিতাটি প্রবাহ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।)
————-###———-
(৩)
আমাদের মতিন সৈকত
————– খন্দকার আল-মামুন
মতিন সৈকত সদা প্রাণঞ্চল এক দৃপ্তময় প্রিয়জন
গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের বন্ধু সে আপন।
নব্বইয়ের আগ থেকেই তাঁর সুনাম পরিচয়
পথ চলারই মাঠে সে এক সেনা অকুতোভয়।
গল্প, নাটক, গান, কবিতা লিখছে উপন্যাস
সাহিত্য অঙ্গন মুখরিত করে করছে সে বসবাস।
গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে শহর মুখি হয়ে,
উল্টো সে যে ফিরলো গ্রামে উঁচু ডিগ্রি লয়ে।
মা, মাটি আর গাঁয়ের গন্ধ তাঁর যে অহংকার
কুসংস্কার সব সমাজ থেকে ঝেটিয়ে করলো পাড়।
গ্রামের কৃষক শ্রমিক মজুর শিক্ষার প্রয়োজন
বয়স্ক শিক্ষার জন্য তাই সে করলো আয়োজন।
উঠোন বৈঠকে কিষাণ-কিষাণী শিখছে লেখাপড়া
চাষাবাদের নতুন ধরণ, সাথে জানছে বিশ্ব ধরা।
রাসায়নিক সার ভীষণ খারাপ বুঝিয়ে ভাল করে
কীটনাশকের ক্ষতির কথা জানায় সবার তরে।
বর্ষাকালে মৎস্য চাষ ঐ জমির রেখে ঠিক
ছড়িয়ে গেলো মৎস্য খামার দেশের চতুর্দিক।
সামাজিক দ্বায়বদ্ধতায় করে কত যে মহৎ কাজ
সবাইকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে, নেই যে শরম লাজ।
গাও গেরামের মানুষদেরে করে সে শ্রদ্বা ভক্তি
অনুপ্রেরণায় জোগায় যে তাঁর সাহস এবং শক্তি।
মানুষের মাঝে মাখামাখি যেন সোনালী রূপালী ঢেউ
মিলে মিশে সবে গড়ে একবার উঁচু নীচু নেই কেউ।
স্থানীয় জাতীয় নানা প্রকারের পায় সে পুরস্কার
ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে গড়েছে এক অবারিত সংসার।
দৃঢ় প্রত্যয়ে সম্মুখে যাও করো মানুষের কল্যাণ
তাঁর প্রতি মোর রইল অবিরাম ভালোবাসা অফুরান।
আলোর উচ্ছ্বাসে উৎভাসিত প্রিয় মতিন সৈকত
কৃষক বন্ধু মসৃণ হোক তোমার চলার পথ।
——————————
(নোটঃ কবিতাটি ২০১৪ সালের অক্টোবরে সাপ্তাহিক গোমতীর কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত)
———-####———
(৪)
কালাডুমুর
(মতিন সৈকত কে নিবেদিত)
———- ড. মনিরুজ্জামান
(সহকারী অধ্যাপক বাংলা
কাজী নোমান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ
কোম্পানিগন্জ, মুরাদনগর )
মতিন সৈকতের নদ কালাডুমুর
হৃদয়ে প্রাণে বাজে সোনার নূপুর।
বাড়ি তাঁর দাউদকান্দির আদমপুর
জনতার গান গায় সে ভর দুপুর।
করে কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়ন
খাল-নদী পূনঃখনন আন্দোলন।
বিষমুক্ত ফসল নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন
দূষণ নিয়ন্ত্রণ জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণ।
তাঁর জীবন যৌবন বাঁধা আছে
কালাডুমুরের পাড়ে
দখিনা বাতাস আর ফুলের ঘ্রাণে
দেহ মনে শক্তি বাড়ে।
রাত পোহালেই সে ঘুরে-ফিরে আসে
কালাডুমুরের টানে
সারা দিনের ক্লান্তি ছেড়ে যায়
টলমল জলের পানে।
এলাকার উন্নয়নে মতিন সৈকত ভাই
আর্থ-সামাজিকে উন্নয়নে তাঁর জুড়ি নাই।
জীবের প্রতি গভীর প্রেম উন্মুক্ত করেন পাখি
কালাডুমুরের কালো স্রোতই তাঁর আঁখি।
দোয়া করি হৃদয় হতে পেতে জাতীয় বর
নব জীবনের গাহিয়া গান জীবন ভর।।
——————————
(৫)
মতিন সৈকত যাঁর নাম
——–মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান.
কালাডুমুরের পাড়ে
বাস করে এক সোনার ছেলে
নাম দিয়েছি তারে-
কৃষকবন্ধু — মাঠের কবি
বাংলাদেশের শ্যামল ছবি
জড়িয়ে সে আছে
মমতামাখা ফসলের গন্ধে
মাটি ও মানুষের কাছে ।।
বিষমুক্ত ফসল চাই
নকল নয়, আসল চাই।
পাখির পরিচর্যা চাই
সবজির ভালো তর্জা চাই।
ভরাট নদী খনন চাই
ভালো মানুষ, মনন চাই।
কল-কলানো পানি চাই
ভালো রাজা-রানি চাই।
স্বল্প মূল্যে সার চাই-
জানেন কী কী আর চাই?
ভালো মানের বীজ চাই
ভালো জমি লিজ চাই।
তরতাজা সব মাছ চাই
তরুলতা গাছ চাই।
পরিশ্রমী মানুষ চাই
স্বপ্নরঙিন হুশ চাই
স্বনির্ভর খাদ্য চাই
দেশের প্রতিপাদ্য চাই-
দেশটা সোনার দেশ হউক
বিশ্বে অমর হয়ে রউক। ”
– এইসব শ্লোগানে-শপথে মুখর তাঁর কণ্ঠস্বর
তিনি আমাদের দাউদকান্দির অলংকার
তাঁরই প্রাপ্য পরিবেশের জাতীয় পুরস্কার
মতিন সৈকত… যাঁর নাম
একটি বিশেষণ- মমতা নিরহঙ্কার।
——————————
(৬)
গোমতি আমার জলের ঘ্রাণ
——- মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান.
গোমতি আমার প্রাণের নদী
দাউদকান্দির প্রাণ
যায় বয়ে যায় নিরবধি
ছড়িয়ে জলের ঘ্রাণ।
গোমতি আমার মনমহুয়া
উজান ভাটির টান
মতিন ভাইয়ের বাড়ির পাশে
শোনায় জলের গান।
গোমতি আমার মাটির ময়না
শীতল পাটির সুখ
ফসল মাঠের ভালোবাসা
অবাককরা চোখ।
গোমতি আমার গোমতি তোমার
পলিমাটির ঘর
গোমতি নদীর স্রোতের টানে
যাক হারিয়ে চর।
গোমতি নদীর জলের ধারায়
জাগুক কলস্বর
গোমতি এবং কালাডুমুর
আমার কন্ঠস্বর।।
(৬,৭,২০২৩)
——————————
(৭)
আমাদের মতিন সৈকত
—–মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান
আমাদের কালো মানিক জ্বলজ্বলে হীরে-
আলো ছড়ায় ধীরে।
আমাদের কালো মানিক জলছবি আঁকে-
কালাডুমুর-বাঁকে।
প্রায়দিন দেখি তাঁকে ফসলভরা মাঠে-
নগ্ন পায়ে হাঁটে।
মাটির গন্ধে মন তাঁর আদ্র হয়ে ওঠে-
গোলাপ হয়ে ফোঁটে।
কখনো বা ঝাঁপ দেয় সে শীতার্ত জলে
ভেসে উঠে বলে-
কৃষকের ভালোবাসায় নেই কোন খাঁদ-
আনন্দ অবাঁধ।
পাখিদের ডানা আছে- শূন্যে মেলে ধরে
কলরব করে।
কখনো বা ডানাভাঙা পাখি হারায় দিশে
মুক্ত হাওয়ায় মিশে।
তাকে ধরে এনে পরিচর্যা করে কোন্ জন?
আমাদের আছেন একজন।
তিনি আর কেউ নন স্বাপ্নিক রথ –
আমাদের মতিন সৈকত।
(০৯ এপ্রিল/২০২৫ খ্রি.
ইছাপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।)
——————————
(নোট) কবি মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। জামান ওয়াহিদ। দুদকের সাবেক কর্মকর্তা। ছন্দ নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকেন সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। তিনি মতিন সৈকত কে নিয়ে তিনটি কবিতা একটি স্মৃতিচারণ প্রবন্ধ লেখেন।
————–###———
(৮)
বন্ধুবর মতিন সৈকতকে নিয়ে
অনু কবিতা
— খায়রুল আহসান মানিক
বিপদে যখন পড়ে পাখি
মতিন সৈকত যান দৌড়ে
সবার সেবায় কাটছে সময়
জীবন কাটছে এমন করে।
——————————
(৯)
এই গুণীকে সবাই চিনে
——- মামুন সরকার
পাড়াগাঁয়ের রত্ম তিনি
সকল কাজে থাকেন
সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে
দেশের ছবি আঁকেন।
পুষ্প যেমন ছড়ায় সুবাস
তিনি ছড়ান আলো
তাঁর সংস্পর্শ পেলে সবার
মন হয়ে যায় ভালো।
একটু সময় পেলে তিনি
ঘুরে বেড়ান বনে
সখ্য গড়েন নাম না জানা
ফুল পাখিদের সনে।
বন্যপ্রাণী যদি দেখেন
ফাঁদে আটকা পড়ে
শিশুকিশোর সহযোগে
দেন তা মুক্ত করে।
অধ্যাপনার পাশাপাশি
পরিবেশের কাজে
সচেতনতা গড়ে তুলেন
সকাল দুপুর সাঁঝে।
নদীনালা সংরক্ষণে
আছে তাঁর অবদান
পরিবেশবিদ স্বীকৃতিতে
জাতীয় পদক পান।
লেখালেখির হাতও ভালো
কেউবা ডাকে কবি
তাঁর লেখাতে ফুটে ওঠে
স্বদেশ গড়ার ছবি।
এই গুণীকে সবাই চিনে
মতিন সৈকত নামে
জন্ম তাহার কুমিল্লাতে
আদমপুর গেরামে।
(নোট) কবি মামুন সরকার প্রখ্যাত ছড়াকার, গল্পকার)
——————————
(১০)
কাব্যের রাজপ্রাসাদ
ইলা ভৌমিক
(ছোট ভাই মতিন সৈকত কে)
দূরতম দ্বীপের এক বাসিন্দা
কী দিব তার পরিচয়
জীবনচর্চা, চর্যা, সৃজনে
স্বয়ম্ভু শিল্পী
অভিজাত জীবন থেকে
নেমে আসে মাঠে
বহুমুখী এক স্রষ্টা
আবার মাঠ থেকে গড়ে তোলে
সৃজন উদ্ভাসে
কাব্যের রাজপ্রাসাদ
গাঢ় সবুজের ডগা
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় মনোভূমি,
ডুবে যায় অতলান্তে
আশ্চর্য ঐকান্তিকতায়।
একজন মহাতপা
প্রকৃতির মহিমাময় সত্তা
বাঁধা পড়ে দুর্নিবার আবর্তে
শাণিত মহান অস্ত্রের স্তবগানে।
শুধু নিজের মনের কথা
শুনতে পায় ; অস্তিত্বের ধ্বনি
ভালোবাসাই যে শ্রেষ্ঠ আয়ুধ।
অনুরণিত হোক জাগরণের সম্মোহনীর
শাশ্বতিক রূপ, সার্বত্রিক।।
(নোট) ইলা ভৌমিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে মতিন সৈকতের সিনিয়র। সঙ্গীত শিল্পী।)
——————————
(১১)
মতিন সৈকত
গোলাম নবী পান্না
জীবন চলার পথে নানা জন দেখি
ক’জনকে নিয়ে আর হয় লেখালেখি।
সব্বাই হন না তো প্রাণের স্বজন
মানুষ তো আছে লাখ, কোটি বা ডজন।
তবুও ক’জন পাই পথের এ বাঁকে
তারা সব সাফল্য স্বপ্নটা আঁকে।
স্বপ্নটা বাস্তবে তারা দেন রূপ
আমরা তা দেখে, ভেবে হই নিশ্চুপ!
নিশ্চুপ ধ্যান ছেড়ে উঠি ফের জেগে
সাফল্য আসে জানি কাজে থেকে লেগে।
ঠিক তাই পেয়ে যাই তাদের এ মাঝে
ছাপটুকু রেখে যান সামাজিক কাজে।
সামাজিক উন্নতি সাথে জাগে দেশ
এ ভাবনা প্রেরণায় ব্রত হন বেশ!
এভাবেই লেগে থেকে জেগে ওঠে তারা
সমাজেই বয়ে দেন আলোকিতধারা।
এমন এ কাজে থেকে স্বীকৃতি পান
মানুষের কাছে যিনি হন মহীয়ান।
‘মতিন সৈকত’ আলোকিত তিনি
তাঁর অবদানে এই জাতি হয় ঋণী।
(তারিখঃ ১৬ নভেম্বর ২০২৫)
(নোটঃ গোলাম নবী পান্না। বাংলাদেশের প্রখ্যাত
ছড়াকার, শিল্পী, বহুমুখী প্রতিভার এক সজ্জন বন্ধু)
——————————
(১২)
নোটঃ বাংলাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার কবি সিরাজুল ইসলাম মতিন সৈকতের বিয়ে উপলক্ষে একটি কবিতা এবং একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
গীতিকার সিরাজুল ইসলাম-এর কিছু জনপ্রিয় গানের তালিকা ‘আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালুহু, এখনও সময় আছে আল্লাহ নবীর নাম লও, হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, কোকিল ডাকিসনারে আর, কে যাও তুমি ভাটির দেশে ও বিদেশি নাইয়া,
এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া।
কবিতাটি খুঁজে পাচ্ছিনা। যার জন্য চিঠি উপস্থাপন করলাম।
রসুলপুর, কেরানীগন্জ, ঢাকা
২৮,১০,১৯৯৬
সুপ্রিয় মতিন সৈকত
শুভেচ্ছার ফুলঝুরি ছড়িয়ে দিলেম আপনার শিরোপরি। গতকাল আপনার শুভ বিবাহের শুভ সংবাদ পেয়ে আমি আনন্দ অনুভব করলাম। আপনার লেখার ভাষা উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হয়। হাতের লেখা পরিস্কার হওয়া বাঞ্ছনীয়। আপনার আব্দার রক্ষা করলাম। এই সঙ্গে শুভ দিনের স্মরণিকা জন্য ছোট্ট একটা পদ্য পাঠালাম। আশা করি ভালো লাগবে এবং স্মরণিকা কপি পাঠিয়ে আনন্দ ঘন উৎসবের স্বাদ নিতে দেবেন। ১৯৯৫ সাল থেকে আমার নামে একটি জাতীয় পাঠাগার নির্মিত হচ্ছে পাকা পোক্তভাবে। অতএব আপনার বই সহ অনান্যদের বই পাঠাতে চেষ্টা করবেন।
শুভ কামনান্তে।
ইতি
শুভার্থী
কবি সিরাজুল ইসলাম
গীতিকার
রেডিও বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন।
——————————
(১৩)
পাখির জন্যে শপথ
(মতিন সৈকত কে নিবেদিত)
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
(মাছরাঙা টেলিভিশন কুমিল্লা প্রতিনিধি)
এক যে ছিল পাখি সেবক
পাখির গাঁয়ে তার বাস,
পাখি নিয়েই কাজ কারবার,
রাতদিন সাতদিন বারোমাস।
কিচিরমিচিরে মুখর থাকে
পাখির সে গ্রাম।
পাখির সাথে আদমও থাকে
আদমপুর তার নাম।
মাছের সময় মাছ চাষ হয়,
ধানের সময় ধান।
সেসব খেয়ে পাখিরা তোলে
কন্ঠে কলতান।
আদমপুরের দামাল ছেলে
পাখির প্রেমে পড়ে,
ঝড় বাদলে বিপন্ন সব
পাখির সেবা করে।
গাছগাছালির ডালপালাতে
বাধেন পাখির ঘর
কৃত্রিম ঘর হয় নড়বড়
এলে কালবোশেখি ঝড়।
পাখি সেবক খোঁজে খোঁজে
সেসব করেন মেরামত।
বলেন তিনি মানবের মতো
পাখি সেবা হোক সবার শপথ।
(কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের শিক্ষক মতিন সৈকত। কৃষিতে দুইবার জাতীয় পদক পেয়েছেন তিনি। তার অনেক গুণের একটি হলো পাখি সেবা। তার বিভিন্ন গুণ নিয়ে ইতিমধ্যে আমি অনেক প্রতিবেদন করেছি টিভি ও পত্রিকায়। সামনে হয়তো আরো কিছু প্রতিবেদন হবে তাকেঘিরে। আজ ২০ এপ্রিল ২০১৮ তার বাড়িতে গিয়েছিলাম ঝড়ের কবলে পড়ে কিছু বিপন্ন পাখিকে সেবা দিয়ে অবমুক্ত করার সাক্ষী হতে।)
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল।।
পরিচালক, ঐতিহ্য কুমিল্লা
২১-৪-২০১৮
——————————
(১৪)
মতিন সৈকত নাম
——— মোঃ ইউসুফ নাসির
কুমিল্লার দাউদকান্দির আদমপুর গ্রামে,
জন্ম নিয়াছেন শিশু এক মহা ধুমধামে।
কেরামত আলী পিতা – মাতা সাহানারা,
উজাড় করেছে আদর দিয়ে সব যারা।
শিক্ষকতার পেশায় তিনি নিবেদিত হয়ে,
জীবন নামের জনমটাকে নিচ্ছেন বয়ে।
প্রিয়দের তালিকাতে মতিন সৈকত নাম,
যাকে জানাই ভালোবাসা শ্রদ্ধা সালাম।
এ. আই. পি উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন,
আম জনতার মনে তিনি-তো রয়েছেন।
পরিবেশ ও কৃষি পদক পেয়েছেন তিনি,
তারই স্নেহ পেয়ে আমি আছি চিরঋণী।
পাখি অবমুক্ত করণেতে আছে অবদান,
দেশ মাতৃকার দুঃখেও কাঁদে তারই প্রাণ।
শেষ হবেনা গুণ লিখে বলে নিচ্ছি স’রি,
নেক হায়াত যাক অনুকূলে প্রার্থনা করি।
(নোট) ইউসুফ নাসির বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভূক্ত গীতিকার। জ্ঞানার্ণব সাহিত্য পরিষদের সভাপতি , চকমখোলা, দাউদকান্দি।)
——-###————–
(১৫)
মাটির মিতা মতিন সৈকত
——– মো: কামরুল হাছান
মাটির মিতা মতিন সৈকত,
সবুজ মায়া হিয়ায় জাগত।
দাউদকান্দি তিতাস ঘেরায়,
সুবাস বিলায় কর্মের ফেরায়।
চান্দিনা আর হোমনা জিলা,
মাঠের বুকে তোমার লীলা।
গৌরীপুরের পাড়ায় পাড়ায়,
তব করুণা পরশ বাড়ায়।
নদী বাঁচাতে কেটেছ খাল,
বর্জ্য তাড়ালে ঘুচলে জঞ্জাল।
তীরে তীরে বৃক্ষ রোপণ,
প্রকৃতিতে শ্রেষ্ঠ যতন
চারটি পদক রতন সমান,
রাষ্ট্র দিল তোমার সম্মান।
কাব্য রচ সাহিত্য-সুধায়,
অন্ন জোগাও মাটির ক্ষুধায়।
বঙ্গভূমি ধন্য তায় আজ,
অঙ্গে তোমার সুন্দরের সাজ।
কৃষাণ-সখা তুমি যে মহান,
সারাদেশে তোমার জয়োগান
———–###————–
(১৬)
মতিন সৈকত
— কে,এম,শাহজাহান
কবি বন্ধু থেকে কৃষক বন্ধু
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মতিন সৈকত থেকে
অধ্যাপক মতিন সৈকত।
তুমি স্বপ্ন দেখো– স্বপ্ন দেখাও,
তুমি হয়ে ওঠেছো একজন আদর্শ সংগঠক।
পরিবেশ বন্ধু, পাখি বন্ধু তুমি
হয়ে যাও পাখ পাখালীর মধুর সূরে
উদাসীন এক মানব; ছুটে বেড়াও
খাল–বিল, নদী– নালা, সাগর– পাহাড়
পাহাড়ের চুড়ায় বসে খুঁজো মাটির ঘ্রাণ।
সবুজ ফসলের মাঠ
পাখিদের কোলাহল আর মাটির গন্ধে
কুড়িয়ে নিয়েছো স্বীকৃতি স্বরূপ
রাষ্ট্রের অনেক পদক – সম্মান ।
তুমি সুহৃদ বন্ধু মতিন সৈকত
কৃষি পরিবেশ ও সাহিত্যাঙ্গনে
এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তোমার অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রচেষ্টায়
কৃষক, শ্রমিক, মাঝি, ছাত্রবন্ধু
খুঁজে পেয়েছে
আজ সাফল্য সর্বত্র ।
— কে,এম,শাহজাহান
কবি ও সাংবাদিক
চৌদ্দগ্রাম,কুমিল্লা ।
———-###———-
(১৭)
স্বপ্নচারী মতিন সৈকত
——- রাজু আহমেদ
২০ এপ্রিল, রবিবার ‘২৬,
মাটির ঘ্রাণে পুলকিত
মতিন স্যারের মন,
স্বপ্ন পূরী আদমপুর
মায়ার মধু বন।
এ গাঁয়েতে জন্ম তাঁহার
মানবিক কাজে দক্ষ,
সকল প্রকার সামাজিকে
ভালো কাজের পক্ষ।
পশু পাখি মাছের লালন
পরিবেশের বন্ধু তিনি,
সমাজ কর্মে মানব সেবা
সকল সময় ভাবেন যিনি।
এ গাঁয়েতে শ্রমিক মজুর
আশেপাশে যত জনা!
সবাই তাঁকে চিনে জানে
মতিন সৈকত বন্ধুমনা।
সু-বাতাসে প্রকৃতিতে
পরিবেশে শাসন বুনে,
সমাজ সেবায় পরিচিত
জ্ঞান ও জ্ঞানীর গুণে।
মতিন স্যারের এআইপি পদ
কর্ম গুণে অর্জন,
ধরার বুকে একই বার্তা
দূষণ করো বর্জন।
মাঠির ঘ্রাণে বড় হওয়া
ভালোবাসে মাটির টান,
সবুজ সতেজ প্রকৃতিতে
জুড়ায় তাঁহার মন প্রাণ।
১৮
মতিন সৈকতের গ্রাম
—— জসিম উদ্দিন অসীম
(দার্শনিক, কবি, গল্পকার, সাংবাদিক)
পানকৌড়ি পাখি দেখতে এখনো আমি
খুব সাঁতারু হই।
তাই আমি ছেলেকে নিয়ে নদীনালা,
ঝোপঝাড়, বৃক্ষ
কিংবা আরও দূরে চলে যাই।
পানকৌড়ির নীলচে ডিম দেখাবো বলে
বউকে নিয়ে একবার গিয়েছিলাম
নরেশ স্যারের বাড়ি
গিয়ে দেখি বাদি হাঁস কিছু থাকলেও
নরেশ স্যার আর তাঁর বাড়ির বনাঞ্চলও
উজাড় হয়ে গেছে
তখন বউকে কথা দিয়েছিলাম
একদিন তোমাকে দেখাতে নিয়ে যাবো
মতিন সৈকতের বাড়ি
যদিও জানি হয়তো মতিন সৈকতের
কালাডুমুর নদীর কাছেও
পাখি আর তেমন নেই
বউয়ের এবার কৌতূহল জাগে
কালাডুমুর নদীর পাড়ে কি বটবৃক্ষ আছে
কিংবা অশ্বথ্থ গাছ?
ওখানে কি অনেক পাখি আছে
কিংবা কোনো শশ্মান
অথবা ভাঙ্গা দালানকোঠা
কিংবা জমিদারবাড়ি
অথবা দুর্গ
অথবা হরিয়াল পাখি….?
ছেলেকে মিথ্যা গল্প বলি আমি
মতিন সৈকতের গ্রামের পেছনে এক
ঘন জঙ্গল রয়েছে
তারপরে এক দীঘি
ওখানে রয়েছে অসংখ্য পানকৌড়ি
পাখিরা ওখানে আকাশ থেকে
বৃষ্টির মতো নামে
আর রয়েছে পাখিদের নীল ডিম
কিন্তু আসলে কি রয়েছে তেমন কিছু?
সব বানানো গল্প আমার অথবা কল্পনাই
যেহেতু যাইনি এখনো ওই গ্রামে
যেখানে রয়েছে পাখিপ্রিয়জন
মতিন সৈকতের গ্রাম
আর রয়েছেন তিনি নিজেও
পাখিদের ভালোবেসেই
নিশ্চয় তিনিও একদিন হবেন
কালাডুমুর ওই নদী
অথবা হবেন পানকৌড়ি পাখি
কমপক্ষে বনফুল হয়ে
একশ বছর পরে
ফিরে তিনি আসবেনই।
১৯
মনের গহিন কোণে মতিন সৈকতের নাম
——- বাসার তাসাউফ
দাউদকান্দির পলিমাটি ছুঁয়ে যে মেঠো সুর নিরিবিলি বাজে
সে সুরে নাচে প্রাণ, নেচে নেচে আনন্দে জাগে প্রকৃতির সাজে।
যে বাজায় সুর, সে থাকে না বেশি দূর, থাকে মনের গহিণ কোণে
নাম তার মতিন সৈকত, উত্তর থেকে দক্ষিণে- সবাই সে নাম শোনে।
মেঘনার জল ছুঁয়ে যে বাতাস অহর্নিশি হাহাকারে কাঁদে,
সে বাতাসে ফোটে ফুল, চির নির্ভুল বিপন্ন পৃথিবী তারে সাধে।
দশম শ্রেণিতে পড়ার কালেই কাব্যিক প্রতিভার পেয়েছিলেন দাম
প্রেসিডেন্ট এরশাদের অভিনন্দনপত্রে পেয়েছিলেন নিজের নাম।
বড় হয়ে পরিবেশ রক্ষায় যে তিনি রেখেছিলেন অমূল্য অবদান
এরশাদ সরকারের আমলে সেই মহৎ কাজের পেয়েছিলেন সম্মান।
পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বর্ণপদক এসেছিল তার হাতে
রাষ্ট্রীয় সেই সম্মাননা তাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যায় দিনে ও রাতে।
কবিতা, গল্প ও সাহিত্যের সব শাখায় আছে তার সমান পথ চলা
গ্রন্থের অক্ষরে চির মহান এই মানবের কিছু গুণ-গান হলো বলা।
বাসার তাসাউফ
কবি ও কথাসাহিত্যিক
অনন্তপুর, হোমনা, কুমিল্লা
——————————
২০
প্রকৃতির প্রহরী
——- তাসীন তিহামী
(কবি ও সাংবাদিক তিতাস)
পাখির ডানায় রক্ত ঝরে, আকাশ তখন কাঁদে,
বনের বুকের হাহাকারও মানুষেরে সাধে।
শুকনো পাতার আর্তনাদে নদী থমকে রয়,
স্বার্থলোভের অগ্নিশিখায় সবুজ পৃথিবী ক্ষয়।
সেই অন্ধকার সময়জুড়ে দীপশিখার মতো,
একজন মানুষ জেগে আছেন নিরলস অবিরত।
আহত শালিক, বক কিংবা পথভোলা বনহাঁস,
তাঁরই স্নেহের স্পর্শ পেয়ে ফিরে পায় বিশ্বাস।
ভাঙা ডানার পাখিগুলো তাঁরই হাতে সারে,
মুক্ত আকাশ ফিরে পেয়ে নীলের পানে উড়ে।
যেন তিনি বৃক্ষতলে ছায়া দেওয়া বট,
ঝড়ের মুখে আশ্রয় খোঁজা প্রাণের নিরাপদ ঘাট।
দুই হাজারের বেশি প্রাণে জ্বেলেছেন নতুন ভোর,
মমতারই অমৃতধারা বয়ে চলে ঘোর।
শুধু কি পাখি? নদীর বুকে, মাঠের শস্যখেতে,
জীবনরক্ষার মন্ত্র লিখেন সবুজ অক্ষরেতে।
যেখানে খাল দখল হয়, নদী মরে ধুঁকে,
সেখানে তিনি বজ্রকণ্ঠে দাঁড়ান সত্য বুকে।
যেখানে বিষের ফসল উঠে, মৃত্যুর গন্ধ ভাসে,
সেখানে তিনি বীজ বোনেন জীবনেরই আশে।
প্রকৃতিরও কিছু সৈনিক থাকে যুগে যুগে,
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে ধরণীটাকে রাখে বুকে।
মতিন সৈকত তেমনি এক সবুজ স্বপ্নচারী,
মানুষ হয়েও বৃক্ষসম, পাহাড়ের মতো ভারী।
আজ যখন এই সভ্যতা লোভের জ্বরে ক্লান্ত,
বিবেকগুলো ঘুমিয়ে পড়ে স্বার্থেরই প্রান্ত।
তখন তাঁর পদচিহ্নে প্রশ্ন জাগে মনে,
আমরা ক’জন দাঁড়িয়েছি প্রকৃতিরই সনে?
একটি পাখির কান্না যদি শুনতে না পাই কভু,
কেমন করে মানুষ বলি নিজের পরিচয় তবু?
তাই যে মানুষ প্রাণের ডাকে ছুটে যায় নির্ভয়,
তারই হাতে পৃথিবী আজ বেঁচে থাকার জয়।
মানুষ নন, তিনি যেন অরণ্যের আহ্বান,
প্রকৃতিপ্রেমের দীপশিখা, সবুজের জয়গান।
যতদিন সবুজ থাকবে, পাখি গাইবে গান,
ততদিন উচ্চারিত হবে তাঁরই অবদান।
——————————
মন্তব্য করুন