২৭ জুলাই ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সহকারী অধ্যাপক মতিন সৈকত-কে নিয়ে তাঁর শিক্ষার্থীদের স্মৃতি রোমন্থন

মতিন সৈকত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্টপারসন এআইপি

তিনি একজন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ, কৃষি-উদ্ভাবক, সমাজ সংগঠক, শিক্ষাবিদ, সহকারী অধ্যাপক ও লেখক। টেকসই কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, নদী-খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্লাবনভূমিতে সমাজভিত্তিক মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস অবদান তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন, সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, নাগরিক বর্জ্য থেকে নাগরিক সার (সিটিজেন ফার্টিলাইজার) উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনসম্পৃক্ত পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর উদ্যোগে খাল, নদী ও জলাধার পুনরুদ্ধার এবং কৃষি-পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ স্কুল-এর প্রতিষ্ঠাতা,
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদের সদস্য ও লাইফ মেম্বার এবং কুমিল্লা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্মময় জীবনে তিনি রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র (১৯৮৭), জাতীয় কৃষি পদক (২০১০ ও ২০১৭), জাতীয় পরিবেশ পদক (২০২১) এবং এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন এআইপি সম্মাননা (২০২১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড এন্ড ফেলোশিপ
সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তা, মানবকল্যাণে নিবেদিত কর্মযজ্ঞ এবং প্রকৃতিপ্রেম তাঁকে সমকালীন বাংলাদেশের একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
লেখক, গবেষক ও জনসচেতনতামূলক বক্তা হিসেবে মতিন সৈকত বিশ্বাস করেন—”প্রকৃতি রক্ষা মানেই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষা।” তাঁর কর্ম ও চিন্তা একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনুপ্রেরণার উৎস।

১৯৮৭ সালে তাঁর কবিতা পত্র, অলংকার প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে মুক্তি চাই, তোমরাতো সুখেই আছো প্রকাশিত হয়েছে। ‘পানি সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত ও পরিবেশ প্রকৃতি’, চারদশকের কর্মযজ্ঞ নিয়ে ডকুমেন্টারি বই ‘ স্বর্ণালি অধ্যায়’ প্রকাশের পথে। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নিয়ে তাঁর ১১ জন  সাবেক শিক্ষার্থী স্মৃতি রোমন্থন করেন।
—- সম্পাদক

বাবার গল্পের মানুষ থেকে আমার পথ প্রদর্শক
———–
“মতিন সৈকত—এই নামটি আমার জীবনে কোনো একদিন হঠাৎ এসে উপস্থিত হয়নি; বরং শৈশবের বহু আগেই, নিঃশব্দে, গল্পের ভাঁজে ভাঁজে আমার চেতনায় জায়গা করে নিয়েছিল। বাবার মুখে শোনা তার অসংখ্য গল্প—একজন শিক্ষক, একজন লেখক, একজন মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ—এই সবকিছুর এক অনন্য সম্মিলন হিসেবে তাঁকে আমি চিনে এসেছি অনেক আগে থেকেই।
শৈশবের সেই গল্পগুলোর মধ্যে একটি বিশেষভাবে মনে দাগ কেটেছিল—তার ‘অলংকার’ বিষয়ক লেখার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত শুভেচ্ছা চিঠি। তখন হয়তো পুরো বিষয়টি বুঝে উঠতে পারিনি, কিন্তু অনুভব করেছিলাম—একজন মানুষের চিন্তা, তার শব্দ, কত দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সেই উপলব্ধিই হয়তো আমার ভেতরে লেখালেখির প্রতি এক নীরব টান তৈরি করেছিল। বাবা প্রায়ই স্যারের উদাহরণ দিয়ে আমাকে লিখতে উৎসাহ দিতেন—আর সেই উৎসাহের ভেতরেই আমি একজন আদর্শের ছায়া খুঁজে পেতাম।
সময় গড়ায়, আর একসময় আমার নিজের জীবনের পথচলায় সেই নামটি বাস্তব হয়ে ওঠে। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পর, যখন একটি স্বনামধন্য কলেজে ভর্তির সুযোগ আমার সামনে ছিল, তখন বাবা এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন—আমি ভর্তি হবো ইলিয়টগঞ্জ ড. মোশারফ ফাউন্ডেশন কলেজ-এ, যেখানে তার প্রিয় ছাত্র, অধ্যাপক মতিন সৈকত পাঠদান করেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আমাদের পরিবারে মতবিরোধ, আলোচনা, এমনকি অস্থিরতাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি—সেই সিদ্ধান্ত ছিল আমার জীবনের এক নীরব মোড় ঘোরানো অধ্যায়।
কারণ, সেখানে আমি কেবল একজন শিক্ষককে পাইনি; পেয়েছি এক আলোকবর্তিকা, যার উপস্থিতি আমার চিন্তা, মূল্যবোধ এবং কর্মপথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পরিবেশ রক্ষায় তার নিরলস সাধনা, চারবার  জাতীয় পুরস্কারে স্বীকৃত তার অবদান—এসবের বাইরেও তিনি আমার কাছে একজন নির্মাতা, যিনি মানুষ গড়ে তোলেন নীরবে, নিষ্ঠায়।
আমি যখন রক্তদান সংগঠন নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন পথটি সহজ ছিল না। সংশয়, সীমাবদ্ধতা আর অনিশ্চয়তার মাঝেও স্যারের দৃঢ় আশ্বাস, সাহস জোগানো কথাগুলো আমার জন্য এক অদৃশ্য শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি শিখিয়েছেন—মানুষের জন্য কাজ করতে হলে প্রথমে নিজের ভেতরে বিশ্বাস গড়ে তুলতে হয়।
মতিন সৈকত শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি আমাদের পরিবারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী—একটি আস্থার নাম। তার জীবনের সরলতা, তার চিন্তার গভীরতা এবং মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়—আলো ছড়াতে হলে নিজেকেই প্রথমে আলোর উৎস হতে হয়।
আজ, তার রচিত গ্রন্থ প্রকাশের প্রাক্কালে, তাকে নিয়ে কিছু লিখতে পারা আমার জন্য নিছক কোনো সুযোগ নয়—এটি এক প্রাপ্তি, এক গর্ব, এক নীরব কৃতজ্ঞতার ভাষা। তিনি যে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা—এটাই আমার কাছে তার প্রতি সবচেয়ে বড় সম্মান।”

——- এস এম রাসেল
ড.মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজ – ব্যাচ ২০০৬
প্রতিষ্ঠাতা-
ব্লাড ফর কুমিল্লা(বিএফসি)
জেলা প্রতিনিধি,কুমিল্লা
দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা

আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং জাতীয় পরিবেশ পদক ও দুইবার কৃষি পদক প্রাপ্ত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (এআইপি) মতিন সৈকত স্যার। তিনি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। যিনি একসাথে মানুষ গড়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ এবং সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে।
কালাডুমুর নদ সুরক্ষায় উনার সংগ্রাম কে দেখে এসেছি সেই ছোটবেলা থেকে। এছাড়া পাখিদের প্রতি উনার দরদ এবং বিষমুক্ত ফসলের জন্য উনার আন্দোলনতো পুরো বাংলাদেশ ই জানে।
তিনি তার সততা, দেশপ্রেম এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এখন শুধু আদমপুরের কৃতি সন্তান নয় জাতীয় পর্যায়ের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমার কলেজ জীবনে আমি  মতিন সৈকত স্যারকে আমার বাংলা শিক্ষক হিসাবে পেয়েছি এবং স্যারের কাছ থেকে আমি হাতে কলমে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। স্যার খুবই ভালো মানের বাংলা শিক্ষক ছিলেন এবং স্যারের পাঠদানের সময় আমরা অত্যন্ত আনন্দের সহিত শিক্ষা লাভ করতাম। আমি আমার শিক্ষক এবং এলাকার কৃতি সন্তান মতিন সৈকত স্যারের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

মোঃ আনোয়ার হোসেন আনন্দ
মতিন সৈকত স্যারের স্নেহভাজন সাবেক ছাত্র ।
সভাপতি, রায়পুর কৈলাস চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়।

স্মৃতির মলাটে এক অনন্য নাম: মতিন সৈকত স্যার
_______________________________

আমার ছাত্র জীবনের প্রত্যেক শিক্ষকই আলাদা আলাদা গুণে গুণান্বিত ছিলেন, কিন্তু মতিন সৈকত স্যার ছিলেন সবার থেকে একেবারে আলাদা ।

স‍্যারের সেই টিপটপ গুছানো চলাফেরা, শুদ্ধ প্রমিত ভাষার সাবলীল প্রয়োগ আর কথা বলার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে চোখ রেখে স্নেহের মিশেল—সব মিলিয়ে এক মোহনীয় ব্যক্তিত্ব।
স্যার যখন লেকচার দিতেন, আমি যেন হিপনোটাইজড হয়ে যেতাম। স্যারের প্রতিটি শব্দ কানে বাজত, গেঁথে যেত হৃদয়ে।

স‍্যার কে আগে থেকে জানলেও স্যারের সাথে আমার প্রথম ক্লাস নবম শ্রেণিতে। প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকেই কুশলাদি বিনিময় করলেন। তারপর পাঠ্য বইটি দেখলেন আজকের অধ‍্যায় কোনটি? তারপর টেবিলের ওপর উল্টিয়ে রেখে শুরু করলেন সেদিনের গল্পের লেখক বা কবির জীবনবৃত্তান্ত। এটাই ছিল স‍্যারের  ক্লাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক আর স‍্যারের স্মার্টনেস।
তিনি সাহিত্যিকদের জীবন এমনভাবে বর্ণনা করতেন, মনে হতো আমাদের চোখের সামনেই সব ঘটছে।

একদিন ক্লাসে তিনি পল্লি কবি জসীমউদ্দীন
কে নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আচ্ছা, তোমরা কল্পনা করে বলো তো, তোমরা এখন নবম শ্রেণিতে পড়ো, আর তোমাদের লেখা কবিতা যদি এখন কোন ক্লাসে পড়ানো হতো, তবে কেমন লাগত?”
আমরা তো অবাক! উৎফুল্ল মনে সমস্বরে বলে উঠলাম, “স্যার, এটা কীভাবে সম্ভব?”
স্যার মৃদু হেসে বললেন, “হ্যাঁ, এটাই ঘটেছিল পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের বেলায়। তিনি যখন বি,এ ক্লাসে পড়তেন, তখন তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সে সময়ে কলকাতা বিশ্বিবদ্যালয় করব কবিতাটি প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে। প্রবেশিকা মানে এসএসসি। বহু আগে তার নাম ছিল এন্ট্রাস। অর্থাৎ তোমাদের নবম দশম শ্রেণির ক্লাসে পাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। ভাবা যায়? জসিমউদ্দীন পড়েন ডিগ্রি ক্লাসে। তার কবিতা পড়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার সিলেবাসে’। স্যার ভরাট কণ্ঠে
আবৃত্তি করেন কবর কবিতাটি।
” এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে”

এই রকম অসংখ্য চমকপ্রদ গল্প দিয়ে তিনি আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
তার অনুপ্রেরণা, প্রচেষ্টা আর বাকি শিক্ষকদের সহযোগিতায় সেই নবম শ্রেণিতেই আমি পুরো প্রতিষ্ঠান থেকে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করি। সেটি ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন গুলোর একটি। সেদিন স্যার আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, “চালিয়ে যাও, স্বপ্ন দেখো, তোমার সব স্বপ্ন পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।”
স্যারের সেই একটি বাক্য যে আমার জন্য কতটা শক্তিশালী ছিল, তা আজও আমি ভুলে যাইনি।
স্যার আমার হাজারো স্মৃতিতে জড়িয়ে আছেন। দাখিল পরীক্ষার মাত্র দুদিন আগে হঠাৎ আমার পুরো শরীরজুড়ে চিকেন পক্স দেখা দিল। প্রচণ্ড জ্বর আর অসহ্য মাথা ব্যথায় আমার পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।
সেই বিপদের দিনে অন্য শিক্ষকদের সাথে স্যারও আমাকে বাসায় দেখতে এলেন। তিনি আমাকে সাহস দিলেন, আত্মবিশ্বাস জাগালেন।

See also  প্রচারণায় ব্যস্ত গণমাধ্যম জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করিয়ে দিল সময় সংবাদের পিআইপি

মনে পড়ে, প্রথম পরীক্ষার দিন স্যার আমাকে চাদর মুড়ি দিয়ে নিজের সাথে করে চান্দিনা পরীক্ষার হলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই মমতার কথা কখনো ভূলতে পারবোনা। স্যারের সেই পরম যত্নের কথা আজ তিনি মনে রেখেছেন কি না কে জানে! কিন্তু আমার হৃদয়ে তা অম্লান।

স‍্যারকে আমার জীবনে একটা নতুনত্ব/ অন‍্যরকম কল্পনা।
কল্পনার বাহিরের মানুষ হিসেবে দেখেছি। শিক্ষক এরকম হতে পারে? এটা ছিলো আমার ভাবনার অতীত। স‍্যারকে অনেক ভালোবাসি মন থেকে। যিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন,বুঝিয়েছেন, কিভাবে অন‍্য মানুষ থেকে নিজেকে আলাদা করা যায়। স‍্যারকে ভালোবাসি। তাঁর সবটুকু আমাদেরকে উজার করে দিয়েছেন বলে। স‍্যার যা আমাদের শিখিয়েছেন, যা ধারণ করতে বলেছেন, এগুলো বাস্তবিক, এগুলো সারা জীবনের পরতে পরতে পাথেয়। আমার সামান্য জীবনে, স‍্যার আপনার কথাগুলো সব সময় আমাকে আন্দোলিত করে।

স্যার শুধু একজন প্রাণ প্রিয় শিক্ষকই নন, তিনি বহু গুণের অধিকারী একজন মানুষ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কৃষি, পরিবেশ রক্ষা এবং পাখিপ্রেমী হিসেবে উনার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে।

আজ প্রবাসে জীবনযুদ্ধের অংশ হিসাবে লড়াইয়ে লিপ্ত আমি। হয়তো সফল। সময়ের আবর্তে মাথার চুলগুলোও পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু স্যারের সাথে কাটানো সেই সোনালি দিনগুলো আজও আমার কাছে ভোরের শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে সূর্যের আলোর মতোই জ্বলজ্বল করে।

আমি আজও সর্বোচ্চ চেষ্টা করি সময় পেলে স্যারের সাথে যোগাযোগ করতে, দেশে গেলে দেখা করতে ছুটে যাই।

সবশেষে আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা, প্রিয় মতিন সৈকত স্যার যেন সবসময় সুস্থ আর ভালো থাকেন। তিনি আমার  মাঝে অবস্থান করেন, আমার mentor, আমার দিক নির্দেশক হিসেবে। I love you sir. I love more than you think.

স্যার, একটাই অনুরোধ, যখনই এই নগন্য আমাকে মনে পরবে, আমার নাম ধরে আল্লাহর নিকট দোয়া করে দেবেন। আমি কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার প্রতি আল্লাহর ইচ্ছায়। ধন‍্যবাদ

স্নেহের_____
নূর মোহাম্মদ
(১৯৯৪- ২০০১)
তীরচর আতিকিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা।
www.facebook.com/nurmohammad1412

আমার প্রিয় শিক্ষক
——————————
আমার শিক্ষা জীবনের সকল শিক্ষকগণই আমার নিকট পরম শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত ছিলেন।  উনাদের মধ্য থেকে  প্রিয় শিক্ষক  বলতে সর্ব প্রথমেই আসবে মতিন সৈকত স্যারের নাম।
শিক্ষাজীবনের যেটুকু সময় উনার সান্নিধ্যে কেটেছে তার মাঝে হাজারো স্মৃতি আছে যা এখনো আমাকে কিশোর বেলায় ফিরে যেতে টানে।
সময়টা দুই হাজার সালের মাঝামাঝি। আমাদের মাদ্রাসায় আলিম ক্লাসের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্যে যখন তিনি বলা শুরু করলেন,
‘ঐ নতুনের কেতন উড়ে কাল বৈশাখীর ঝড়,
তোরা সব জয়ধ্বনি কর তোরা সব জয়ধ্বনি কর।’
সেই থেকে আজ অবধি দুই যুগের বেশি সময় যেখানেই  আলোচনা শুনার সৌভাগ্য হয়েছে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুধু শুনেই গেছি।
উনার অগ্নিঝরা বক্তব্য নেই। যে খরস্রোতা নদীর মতো কথার বানে শ্রোতাদের ভাসিয়ে নেবে, তবে শান্ত দীঘির জলে মৃদু হাওয়ায় যে বীণা  বাজে তেমনি শব্দ ঝঙ্কারে হৃদয়ে মাদূল বেজে আকৃষ্ট করে রাখে।
এর কিছুদিন পর হতেই আমাদের ক্লাসে বাংলা সাহিত্য পড়াতে আসেন মতিন সৈকত স্যার।
আগে থেকেই উনার ক্লাসের বিষয়ে শুনে আসছিলাম যে উনি বই দেখে পড়ান না। বাস্তবে সেই আকাঙ্ক্ষিত বিষয় অবলোকন করে সত্যি বিমূহিত হয়েছিলাম। প্রখ্যাত কবি লেখক ছাড়াও অল্প পরিচিত অথবা একেবারেই অপরিচিত লেখকদের জীবনী ও যেভাবে অনায়াসে সবিস্তারে বর্ণনা করতেন সত্যি তা ছিল অলৌকিক সম। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ছাড়া প্রবন্ধ ও যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো ছাত্ররা শুনে তা ওনার ক্লাসেই আমি প্রমাণ পেয়েছিলাম। উনার প্রাঞ্জল ভাষা ও শব্দ উচ্চারণ এর জন্য ক্লাসের অমনোযোগী ছাত্রটা ও অপলকে তাকিয়ে থাকতো।

সেই সব দিনগুলোর সবচেয়ে বেশি মধুর স্মৃতি হলো,
বিখ্যাত নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর পাঠ্য বইয়ে সংক্ষিপ্ত রূপে ছিল, আমাকে বলেছিল ইব্রাহিম কার্দির ডায়লগ বলতে ছাত্রীদের মধ্য থেকে জোহরা চরিত্র করাতে না পেরে স্যার নিজেই আমার সাথে জোহরা চরিত্র পালাক্রমে বলতে লাগলেন, আহ্ কি মধুর ছিল সেই সব দিনগুলো।

উনি প্রায় বলতেন প্রথম স্টেজে উঠাবে নিজের ইচ্ছায় কারো ডাকার অপেক্ষা করবে না। পরবর্তীতে এমন কিছু করবে যেন তোমাকে খুঁজে ডেকে স্টেজকে অলংকৃত করে।
ওনার শেখানো মৃদু স্বরে, মুচকি হেসে, উত্তম ভাষায় এবং সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে পারলেই আজকের পৃথিবী জয় করা সম্ভব।

ক্রিকেট ইতিহাসে একটি কথা প্রচলিত আছে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার এন্ডি ফ্লাওয়ার ছিলেন ছোট দলের বড় তারকা। আমার কাছে মফস্বল নয় কিছুটা অজ পাড়াগাঁয়ের কাছাকাছি একটি প্রতিষ্ঠানে উনার মত এরূপ মেধাবী সাহিত্যমনা শিক্ষক পেয়ে সত্যি বলতে পারছি আমরা গাঁয়ে থেকে পড়লে ও বাংলা সাহিত্য প্রেমী তারকা সম শিক্ষক পেয়েছিলাম।

২০০৩ সালের দিকে আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলায় তৎকালীন মন্ত্রী কর্তৃক একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে উনি অতিথি শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেয়া শুরু করেছিলেন এবং অনেকেই বলাবলি করছিলেন আমাদের মাদ্রাসায় আর উনি থাকবেন না। অনেক ব্যথিত হয়েছিলাম কিছুই করার ছিল না। মাদ্রাসার পরিচালকদের কাছে বারবার রিকোয়েস্ট করতেছিলাম ছাত্ররা মিলে যেন কোন ভাবেই উনাকে যেতে না দেন।  উদ্বিগ্ন হয়েছিলাম কারণ পার্শ্ববর্তী কলেজটি ছিল আধুনিক এবং অধিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানীতে উনি আমাদের মাঝেই থেকে গেলেন যদিও শুনেছিলাম পরবর্তীতে ওই কলেজেও উনাকে রাখার জন্য ছাত্রদের আন্দোলন হয়েছিল।

২০০৪ সালে মাদ্রাসা থেকে পাশ করে বেরিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু কখনোই স্যারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পরেও দেখা হলে হাস্যোজ্জ্বল ভাবে কুশল বিনিময় করার মাঝেও জীবন-যাপনে সঠিক কিছু পথনির্দেশনা পেতাম যা আজ অবধি বলবৎ আছে।

দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার প্রিয় স্যার কে সুস্থতার নেয়ামত দিয়ে নেক হায়াত দান করেন। প্রবাসে থাকি বিদেশের মাটিতে। স্যার ফোন করে মেসেজ দিয়ে যোগাযোগ করেন।

মোঃ মহিউদ্দিন সরকার
তিরচর মাদ্রাসা (১৯৯৬-২০০৪)

অধ্যায় : আলোর শিক্ষক

আমি তীরচর আতিকিয়া ইসলামিয়া সিনিয়ার (আলিম)মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি, সেই প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষাদানের জায়গা ছিল না—এটি ছিল জীবনবোধ গঠনের এক নীরব কারিগর। সেই যাত্রাপথে যাঁর অবদান আজও গভীরভাবে আমাকে স্পর্শ করে, তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক, বাংলা প্রভাষক অধ্যাপক মতিন সৈকত।
অধ্যাপক মতিন সৈকত ছিলেন পাঠ্যসূচির সীমা অতিক্রম করা একজন শিক্ষক। ভাষা শিক্ষা দিতে গিয়ে তিনি আমাদের সামনে তুলে ধরতেন সমাজ, প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা। কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য, সামাজিক উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল–নদী ও জলাধার রক্ষা, বিষমুক্ত ফসল এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের আন্দোলন—এই বিষয়গুলো তাঁর চিন্তা ও কর্মের কেন্দ্রস্থলে ছিল। শিক্ষার্থীদের তিনি শিখিয়েছেন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার পাঠ, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণ অবিচ্ছেদ্য।
২০০২ সালের দাখিল পরীক্ষার সময়কার একটি ঘটনা আজও আমার স্মৃতিতে অমলিন। দাখিল টেস্ট পরীক্ষায় বাংলায় আমি ৭৮ নম্বর অর্জন করি। টেস্ট রেজাল্ট ঘোষণার পর স্যার আমাকে উদ্দেশ করে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন—
“জহির, ফাইনালে এই নাম্বারটাই থাকবে।”

সে কথাটি ছিল নিছক আশ্বাস নয়, ছিল একজন শিক্ষকের গভীর পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীর সক্ষমতার প্রতি অটল আস্থা। আশ্চর্যজনকভাবে, দাখিল ফাইনাল পরীক্ষায় আমি বাংলায় ঠিক সেই ৭৮ নম্বরই অর্জন করি। সে মুহূর্তে উপলব্ধি করি, স্যারের বিশ্বাসই যেন আমার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে উঠেছিল।
আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে বুঝি—একজন প্রকৃত শিক্ষকের কাজ কেবল পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি শিক্ষার্থীর ভেতরে চিন্তার আলো জ্বালান, দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করেন এবং ভবিষ্যতের পথচলায় নৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়ে যান। অধ্যাপক মতিন সৈকত তেমনই একজন শিক্ষক, যাঁর শিক্ষা ও দর্শন ব্যক্তিজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ ও প্রকৃতির কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত।
এই অধ্যায়টি তাই শুধু একটি স্মৃতিচারণ নয়, বরং একজন আলোকিত শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতার দলিল।

See also  মেয়েদের পড়াশোনা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্য করা হবে: চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী

মোঃ জহিরুল ইসলাম
(পোর্তুগাল প্রবাসী এবং প্রতিষ্ঠাতা
ইলিয়টগঞ্জ হলি মডেল স্কুলের পরিচালক)

আমার প্রিয় শিক্ষক মতিন সৈকত স্যার

জীবন থেকে অনেক গুলো বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ফেলে আসা অতীত কে নিয়ে প্রায়ই এখন স্মৃতিচারণ করতে হয়। আজ স্মৃতিচারণ করতে বসেছি আমার প্রিয় শিক্ষক মতিন সৈকত স্যারকে নিয়ে। আমি তখন এইচএসসি তে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজে ভর্তি হয়ে প্রথম বাংলা ক্লাশে দেখতে পাই আমার অল্প পরিচত একজন মানুষ ক্লাশ নিতে এসেছেন। প্রাণবন্ত এক ক্লাশ শেষে স্যার কাছে গিয়ে জানতে পারলাম স্যারের গ্রাম আর আমার গ্রাম পাশাপাশি আদমপুর। সেই পরিচয় থেকে স্যার সাথে জনম জনমের একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়, যা আজও চলছে। তখন জানতে পারলাম স্যার একজন লেখক এবং স্যার নিজের লেখা কিছু বই স্যারের কাছ থেকে উপহার পেয়ে অনেক খুশি হলাম। শৈশবে আমরা হাতে হাতে মোবাইল পাইনি, যার ফলে বই ছিলো আমাদের বিনোদন এবং জ্ঞান অর্জনের প্রধানতম মাধ্যম। সে বই পেলে আমরা কতটা খুশি হতাম সেটা এই যুগে হয়তো বোঝানো সম্ভব নয়। স্যারের লেখা বই পড়া শেষে যখন বই ফেরত দিতে গেলাম স্যারের গ্রামে গিয়ে স্যার বহুমুখী সামাজি কাজ দেখে আমি স্যার প্রতি অনেক মুগ্ধ হই এবং স্যার থেকে হয়ে উঠেন আমার প্রিয় স্যার। স্যার তার নিজ এলাকায় প্রায় ৩০ বছর যাবৎ কৃষকে মাত্র ২০০ টাকায় প্রতি ৩০ শতাংশ জমিতে পানি সেচ দিয়ে থাকেন যা অন্য এলাকায় ২ হাজার টাকার মত। কৃষকের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রকৃতিক নিয়মে কি করে পোকা নিধন করা যায় এই বিষয়ে স্যারের রয়েছে অনেক অবদান। পাখির প্রতি রয়েছে স্যারের অনেক প্রেম যার ফলে এলাকার মানুষ স্যারকে বলে পাখি বন্ধু। কোথাও পাখি কিংবা বন্যপ্রাণী অসুস্থ হয়েছে শোনলে নিকত আত্মীয় অসুস্থ হয়ে যেভাবে মানুষ ছুটে যায় সে ভাবে ছুটে গিয়ে তার চিকিৎসা করান এবং সুস্থ হলে হাসি মুখে সে পাখিকে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেন। পাখি মুক্তিতে স্যারের রয়েছে প্রাণ ভড়া আনন্দ। নদীমাতৃক এই দেশে থেকে আস্তে আস্তে নদী বিলিন হয়ে যাচ্ছে সে নদী রক্ষায় স্যার চেষ্টা করে যাচ্ছেন সব সময়। এছাড়াও মহাসড়কের পাশে যেন ময়লার স্তুপ না থাকে সে জন্যেও স্যারের রয়েছে অনেক প্রচেষ্টা। এই যুগে স্যারের মত মানুষ খোঁজ পাওয়া কঠিন। স্যারের এ বহুমুখী সামাজিক কাজ দেখে স্যার থেকে হয়ে উঠেন আমার প্রিয় স্যার।

মোহাম্মদ নুরুদ্দীন
কলিযুগ, রায়পুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা
বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত

প্রতিনিয়ত স্যারের ভালো কাজগুলো দেখি

ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজের প্রথম ব্যাচ আমরা। স্টুডেন্ট সংখ্যা তাই ছিল সীমিত আর সাথে ছিল একঝাঁক তরুণ শিক্ষকের সমাহার। আমাদের ব্যাচের প্রতি শিক্ষকদের আন্তরিকতা ছিল অতুলনীয়। স্যারদের পাঠদানের সেরা আর স্বর্ণালী সময়টা উপভোগ করেছি আমরা। মতিন সৈকত স্যার ছিলেন বাংলার শিক্ষক। সত্যি বলতে কি স্যারকে আজকের দিনে যে যে পরিচয়ে চিনি তখন ওভাবে চিনতাম না, শুধু শিক্ষক হিসেবে জানতাম। বাংলা পড়ানো, বাংলা বুঝানো সবার পক্ষে সম্ভব নয় যদি না তিনি নিজের মধ্যে একটা কবিসত্তা লালন করেন। স্যার স্বপ্নবাজ মানুষ, স্যার সৃজনশীল মানুষ। স্যারের অপরিসীম কল্পনাশক্তি আর বুঝানোর দক্ষতা আমাদের জন্য বাংলা বিষয়টাকে আনন্দদায়ক করে তুলেছিল। গতানুগতিক ধারার শিক্ষা আর ইসলামি জ্ঞানের অনন্য উদাহরণ মতিন সৈকত স্যার।
তবে আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা স্যারকে কলেজ জীবনের পুরোটা সময় পাইনি, কেন পাইনি তা আমি জানিনা। তবে এরপর স্যারকে মিস করেছি খুব। ২৩ বছর পার হয়েছে। এতদিন পর স্যারের সাথে ফেসবুকে এড আছি এখন। প্রতিনিয়ত স্যারের ভালো কাজগুলো দেখি, স্যারকে দেখে অনুপ্রাণিত হই। আল্লাহ্ স্যারকে নেক হায়াত দান করুক, ইহকাল ও পরকালে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

– মাহবুবা ইয়াছমিন
সিনিয়র অফিসার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
১ম ব্যাচ, ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজ

শিক্ষক থেকে বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প
—- মোঃ এনামুল হক।

‘এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি’ – এটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি কবিতার অংশ বিশেষ। এখানে কবি একজন গরিব কৃষক ও তার জমি হারানোর করুণ কাহিনি কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
২০০৩ সালের কথা। আমি তখন একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমাদের বাংলা ক্লাসে পড়তে আসেন অধ্যাপক মতিন সৈকত স্যার। তিনি ক্লাসে এসেই রবি ঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতা পড়াতে লাগলেন। যেই বয়সে ক্লাস বিরক্ত লাগার কথা কিন্তু না- তিনি এমন ভাবে গল্পের কাহিনীতে কবিতাটি পড়ালেন কখন যে ক্লাসের সময় শেষ হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। এত সুন্দর করে যে ক্লাস পড়ানো যায় সেটা আমি সেই সময়ে উপলব্ধি করেছি। সেই থেকে আমি স‍্যারের একজন ভক্ত। মানে আমার প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক মতিন সৈকত স্যার।

মতিন সৈকত স্যার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তারপর ঢাকার চাকচিক্য ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন। এখানে এসেই আমাদের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বিশ্ব বিদ্যালয় লেখা পড়া করতে হলে কি কি যোগ্যতা লাগে বা কি করতে হয় তখন সব কিছু অজানা ছিল আমার কাছে কিন্তু স‍্যারের পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি শুরু করি। সেই চেষ্টায় ৩/৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিলেও আমি চান্স পাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই থেকে স‍্যারের পুরোনো ক‍্যাম্পাসে আমার পথচলা। আমি এখন ২০০৩/২০০৪ সালের অর্থনীতি বিভাগের নিয়মিত ছাত্র।

এভাবেই কেটে গেলো কয়েক বছর। হঠাৎ করেই বন্ধুরা মিলে একটা ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। ঢাকার পল্টন বসে বন্ধু মিজানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়া মোট ১০/১২জন বন্ধু মিলে ৪দিনের ভ্রমণে বাহির হই। আর এই ভ্রমণের মধ্যমনি হয়ে সাথে ছিলেন অধ্যাপক মতিন সৈকত স্যার। ভ্রমণে যাত্রা পথে সবাই যখন গাড়িতে আনন্দ উপভোগ করছিলো তখন আমি একটু চুপচাপ ছিলাম। আমার প্রিয় স‍্যার মনে হয় অনেক আগ থেকেই বিষয়টি লক্ষ্য করছেন। সকলের সামনে স‍্যার আমাকে ডেকে বললেন এনামূল আমি এখন থেকে তোমাদের  বন্ধু। তুমি আমার সামনে আর লজ্জা পাওয়ার দরকার নাই। আমার সবাই একসাথে আনন্দ করতে এসেছি। আনন্দ করবো। সেদিন থেকে শিক্ষক থেকে আমার বন্ধু অধ্যাপক মতিন সৈকত।

(আয়ারল্যান্ড প্রবাসী)

তিনি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন

২০০৬ সালে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন কলেজ ইলিয়টগঞ্জ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এখানে দুই বছর পড়াশোনা করি। কৈশোরের  উদ্যাম তারুণ্য আর আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের মধ্য দিয়ে সময় দ্রুত ফুরিয়ে গেল। এখানে এসে মতিন সৈকত স্যার কে শিক্ষক পাই। তিনি বাংলা সাহিত্যে এবং বাংলা ব্যাকরণ পড়াতেন।
আমার জীবনে অনেক শিক্ষক এসেছেন কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ও শ্রদ্ধার ব্যক্তি হলেন  মতিন সৈকত স্যার। তিনি শুধু একজন ভালো শিক্ষকই নন, বরং একজন আদর্শ মানুষ ও সফল কৃষি উদ্ভাবক।
মতিন সৈকত স্যার অত্যন্ত সহজ-সরল, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। তিনি আমাদের সবসময় ভালোভাবে পড়াশোনা করার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখান। তার পড়ানোর ধরণ এত সুন্দর ও সহজবোধ্য যে, যেকোনো কঠিন বিষয়ও আমরা খুব সহজে বুঝতে পারি। তিনি বই ছাড়াই চমৎকার করে গল্পের মধ্য দিয়েই ক্লাস শেষ করতেন। তিনি কঠিন বিষয়কেও সহজভাবে কিচ্ছার মত করে বলতেন যেন বই না পড়ে বিষয়টি আয়ত্ত করা যায়। তিনি বড় হওয়ার স্বপ্ন  দেখাতেন। তিনি বলতেন ছাত্র অবস্থায় তার বন্ধু ছিলেন সক্রেটিস, প্লেটু, এরিস্টটল সহ আরও অনেক দার্শনিক। এর মানে তিনি তাদের দর্শন এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতেন এবং শিক্ষার্থীদের কে জানাতেন।
শিক্ষার্থীদের কল্পনা শক্তি সে মানে নিয়ে যেতে উৎসাহিত  করতেন।  মানুষ তার আশার সমান বড়। বড় আশা, বড় কল্পনারর মধ্য দিয়ে যে বেড়ে ওঠে সে বড় কিছু অর্জন করতে পারে।
তিনি আবৃত্তি এবং উপস্থাপনায় মুগ্ধ করে রাখতেন। তাঁর কণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা বিপ্লব ছড়াত। চর্যাপদ থেকে অনেক আধুনিক কবিতা তাঁর মুখস্থ।

See also  মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ' কুলাউড়া উপজেলা কমিটির কাউন্সিল সম্পন্ন,ত্রিবার্ষিক নতুন কমিটি গঠন।

মতিন সৈকত স্যারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো তিনি মানুষকে নিবিড়ভাবে ভালোবাসেন। তিনি ১৯৮৭ সালে সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন পত্র পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গলায় মেডেল পরিয়ে দিয়েছেন।
দুই বার জাতীয় কৃষি পদক দিয়ে সন্মানিত করেছেন। আরেকবার অনলাইনে উপস্থিত থেকে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেছেন। বাংলাদেশের কৃষিতে অসামান্য অবদানের জন্য সিআইপি পদমর্যাদায় এআইপি উপাধি দিয়েছেন সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ভাষা ইন্সটিটিউট মতিন সৈকত এআইপি স্যার কে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড এন্ড ফেলোশিপ প্রদান করেন। মতিন সৈকত স্যার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যখন বক্তব্য রাখেন আমি কান পেতে শুনি আর আল্লাহ কাছে স্যারের জন্য দোয়া করি।

স্যারের এ সন্মাননা আল্লাহ’র দান। তাঁর কঠোর পরিশ্রম, কৃষিক্ষেত্রে অবদান এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকার স্বীকৃতি। তার এই সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
তিনি আমাদের শেখান কীভাবে জীবনে সৎভাবে পরিশ্রম করে সফল হতে হয়। তাঁর কথা ও কাজ আমাদের সবসময় ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আমি গর্বিত যে, আমি তার মতো একজন মহান শিক্ষকের ছাত্র। আমি তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি, যেন তিনি ভবিষ্যতেও আমাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন।

মোঃ ছফিউল্লাহ
সহকারী শিক্ষক ভয়েজার ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজে
গৌরীপুর,দাউদকান্দি

১০

স্মৃতির মলাটে এক অনন্য নাম: মতিন সৈকত স্যার
_______________________________

আমার ছাত্র জীবনের প্রত্যেক শিক্ষকই আলাদা আলাদা গুণে গুণান্বিত ছিলেন, কিন্তু মতিন সৈকত স্যার ছিলেন সবার থেকে একেবারে আলাদা ।

স‍্যারের সেই টিপটপ গুছানো চলাফেরা, শুদ্ধ প্রমিত ভাষার সাবলীল প্রয়োগ আর কথা বলার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে চোখ রেখে স্নেহের মিশেল—সব মিলিয়ে এক মোহনীয় ব্যক্তিত্ব।
স্যার যখন লেকচার দিতেন, আমি যেন হিপনোটাইজড হয়ে যেতাম। স্যারের প্রতিটি শব্দ কানে বাজত, গেঁথে যেত হৃদয়ে।

স‍্যার কে আগে থেকে জানলেও স্যারের সাথে আমার প্রথম ক্লাস নবম শ্রেণিতে। প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকেই কুশলাদি বিনিময় করলেন। তারপর পাঠ্য বইটি দেখলেন আজকের অধ‍্যায় কোনটি? তারপর টেবিলের ওপর উল্টিয়ে রেখে শুরু করলেন সেদিনের গল্পের লেখক বা কবির জীবনবৃত্তান্ত। এটাই ছিল স‍্যারের  ক্লাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক আর স‍্যারের স্মার্টনেস।
তিনি সাহিত্যিকদের জীবন এমনভাবে বর্ণনা করতেন, মনে হতো আমাদের চোখের সামনেই সব ঘটছে।

একদিন ক্লাসে তিনি পল্লি কবি জসীমউদ্দীন
কে নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আচ্ছা, তোমরা কল্পনা করে বলো তো, তোমরা এখন নবম শ্রেণিতে পড়ো, আর তোমাদের লেখা কবিতা যদি এখন কোন ক্লাসে পড়ানো হতো, তবে কেমন লাগত?”
আমরা তো অবাক! উৎফুল্ল মনে সমস্বরে বলে উঠলাম, “স্যার, এটা কীভাবে সম্ভব?”
স্যার মৃদু হেসে বললেন, “হ্যাঁ, এটাই ঘটেছিল পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের বেলায়। তিনি যখন বি,এ ক্লাসে পড়তেন, তখন তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সে সময়ে কলকাতা বিশ্বিবদ্যালয় করব কবিতাটি প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে। প্রবেশিকা মানে এসএসসি। বহু আগে তার নাম ছিল এন্ট্রাস। অর্থাৎ তোমাদের নবম দশম শ্রেণির ক্লাসে পাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। ভাবা যায়? জসিমউদ্দীন পড়েন ডিগ্রি ক্লাসে। তার কবিতা পড়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার সিলেবাসে’। স্যার ভরাট কণ্ঠে
আবৃত্তি করেন কবর কবিতাটি।
” এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে”

এই রকম অসংখ্য চমকপ্রদ গল্প দিয়ে তিনি আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
তার অনুপ্রেরণা, প্রচেষ্টা আর বাকি শিক্ষকদের সহযোগিতায় সেই নবম শ্রেণিতেই আমি পুরো প্রতিষ্ঠান থেকে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করি। সেটি ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন গুলোর একটি। সেদিন স্যার আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন, “চালিয়ে যাও, স্বপ্ন দেখো, তোমার সব স্বপ্ন পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।”
স্যারের সেই একটি বাক্য যে আমার জন্য কতটা শক্তিশালী ছিল, তা আজও আমি ভুলে যাইনি।
স্যার আমার হাজারো স্মৃতিতে জড়িয়ে আছেন। দাখিল পরীক্ষার মাত্র দুদিন আগে হঠাৎ আমার পুরো শরীরজুড়ে চিকেন পক্স দেখা দিল। প্রচণ্ড জ্বর আর অসহ্য মাথা ব্যথায় আমার পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।
সেই বিপদের দিনে অন্য শিক্ষকদের সাথে স্যারও আমাকে বাসায় দেখতে এলেন। তিনি আমাকে সাহস দিলেন, আত্মবিশ্বাস জাগালেন।

মনে পড়ে, প্রথম পরীক্ষার দিন স্যার আমাকে চাদর মুড়ি দিয়ে নিজের সাথে করে চান্দিনা পরীক্ষার হলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই মমতার কথা কখনো ভূলতে পারবোনা। স্যারের সেই পরম যত্নের কথা আজ তিনি মনে রেখেছেন কি না কে জানে! কিন্তু আমার হৃদয়ে তা অম্লান।

স‍্যারকে আমার জীবনে একটা নতুনত্ব/ অন‍্যরকম কল্পনা/ কল্পনার বাহিরের মানুষ হিসেবে দেখেছি। শিক্ষক এরকম হতে পারে, এটা ছিলো আমার ভাবনার অতীত। স‍্যারকে অনেক ভালোবাসি মন থেকে, যিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন/ বুঝিয়েছেন, কিভাবে অন‍্য মানুষ থেকে নিজেকে আলাদা করা যায়। স‍্যারকে ভালোবাসি, তার সবটুকু আমাদেরকে উজার করে দিয়েছেন বলে। স‍্যার যা আমাদের শিখিয়েছেন, যা ধারণ করতে বলেছেন, এগুলো বাস্তবিক, এগুলো সারা জীবনের পরতে পরতে পাথেয়। আমার সামান্য জীবনে, স‍্যার আপনার কথাগুলো সব সময় আমাকে আন্দোলিত করে।

স্যার শুধু একজন প্রাণ প্রিয় শিক্ষকই নন, তিনি বহু গুণের অধিকারী একজন মানুষ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কৃষি, পরিবেশ রক্ষা এবং পাখিপ্রেমী হিসেবে উনার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে।

আজ প্রবাসে জীবনযুদ্ধের অংশ হিসাবে লড়াইয়ে লিপ্ত আমি। হয়তো সফল। সময়ের আবর্তে মাথার চুলগুলোও পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু স্যারের সাথে কাটানো সেই সোনালি দিনগুলো আজও আমার কাছে ভোরের শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে সূর্যের আলোর মতোই জ্বলজ্বল করে।

আমি আজও সর্বোচ্চ চেষ্টা করি সময় পেলে স্যারের সাথে যোগাযোগ করতে, দেশে গেলে দেখা করতে ছুটে যাই।

সবশেষে আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা, প্রিয় মতিন সৈকত স্যার যেন সবসময় সুস্থ আর ভালো থাকেন। তিনি আমার  মাঝে অবস্থান করেন, আমার mentor, আমার দিক নির্দেশক হিসেবে। I love you sir. I love more than you think.

স্যার, একটাই অনুরোধ, যখনই এই নগন্য আমাকে মনে পরবে, আমার নাম ধরে আল্লাহর নিকট দোয়া করে দেবেন। আমি কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার প্রতি আল্লাহর ইচ্ছায়। ধন‍্যবাদ

স্নেহের_____
নূর মোহাম্মদ
(১৯৯৪- ২০০১)
তীরচর আতিকিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা।
Nur Mohammad

১১

মতিন সৈকত স্যার আমার অত্যন্ত একজন পছন্দের মানুষ তাঁর ব্যক্তিত্ব, মিষ্ট ভাষী ও অসাধারণ সারল্যের জন্য

আমি ইলিয়টগঞ্জ ডঃ মোশারফ ফাউন্ডেশন ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র। মতিন সৈকত স্যার আমাদের বাংলা ক্লাস নিতেন। সেখান থেকে ওনার সাথে পরিচয়। তিনি অনেক সুন্দর উপস্থাপনায় অনর্গল কথা বলে থাকেন।

বিশেষ করে কবি সাহিত্যিকদের পরিচিতি পর্বগুলো এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতেন সত্যিই অসাধারণ। এত জ্ঞানগর্ব ও প্রাণবন্ত আলোচনা ক্লাসের সময় কখন যে কেটে যেত টেরই পাওয়া যেত না।

ওনার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ওনাকে আলাদা ভাবে পরিচিত করেন।

আমাদের গ্রামে একটি স্কুল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্যারকে দাওয়াত করি। স্যার সবার আগে গিয়ে উপস্থিত। আমাদের সবকিছু তখনো গোছানো হয়নি। স্যারকে কোথায় বসতে দেই চিন্তায় পড়ে যাই। কিন্তু স্যার একটি নরমাল চেয়ারে বসে আমাদের ব্যস্ত কাজকর্মে সহায়তা করলেন।

স্যারের এতটা ব্যস্ততার মাঝেও কখনো বলতে শুনিনি যে তিনি ব্যস্ত আছেন। এত বন্ধুপ্রতিম লোক আমার জীবনের কম দেখেছি। তিনি প্রকৃতি, পাখি, নদ নদীর সাথে মিশে নিজেকে একাকার করেছেন। সাহিত্য, সাংস্কৃতি, পরিবেশ ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে লাখো মানুষের মন জয় করেছেন। পেয়েছেন শতশত সম্মাননা পুরস্কার।

এমন সুহৃদয়বান ব্যক্তি সম্পর্কে লিখার মতো যোগ্যতা আমার নেই।

শুধু এতটুকু কামনা আল্লাহ যেন ওনাকে সুস্থভাবে আরও কিছুটা সময় বাঁচিয়ে রাখেন মানুষের কল্যাণের জন্য। আমিন।

আপনার স্নেহ ধন্য ছাত্র-
কবি মোঃ সুমন মিয়া।
সুহিলপুর- ইলিয়টগঞ্জ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস, পাইকগাছায় পালিত

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খানসামায় শিক্ষার্থীদের গণিত ক্লাস নিলেন ইউএনও

সিরাজগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য আটক, মোটরসাইকেল উদ্ধার

শাহ আলম চেয়ারম্যানের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল

সহকারী অধ্যাপক মতিন সৈকত-কে নিয়ে তাঁর শিক্ষার্থীদের স্মৃতি রোমন্থন

ভবের বাজার

ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে ১ নারী ও ৩ শিশুসহ ৪ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

১০

মোবাইল ফোনে ডেকে মারধর যুবকের মৃত্যু

১১

দাউদকান্দিতে প্রাইভেটকার থেকে ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

১২

জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষা: কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি

১৩

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৪

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক আর নেই

১৫

ফাঁসির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ: ইজিবাইকচালক নবীরুল হত্যা মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

১৬

খানসামায় অটোরিকশা-নসিমন সংঘর্ষ: চালক নিহত, আহত ৩

১৭

দুধ দিয়ে গোসল করে আ.লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া চেয়ারম্যানব, ইউপি সচিবকে পিটিয়ে আহত; ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১৮

দেবিদ্বারের ইউপি চেয়ারম্যান-সচিবের বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকায় জন্মসনদ জালিয়াতির বিস্ফোরক অভিযোগ

১৯

সংবাদের পরই উদ্যোগ: ইউএনওর নির্দেশনায় শুরু হলো ভেসে যাওয়া বাঁশের সাঁকোর পুনর্নির্মাণ কাজ

২০