১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০

ডেস্ক নিউজ

সুদানে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৬০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া দুই খনি শ্রমিক।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলের এল-নাহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে একের পর এক খনির সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে খনির ভেতরে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজ শ্রমিকদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে বলেন, ‘রাতভর সহকর্মী শ্রমিকদের সঙ্গে তারা উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। খনি থেকে সোনা উত্তোলনে যে সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেগুলো দিয়েই তারা উদ্ধারকাজ চালান।’

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বা জীবিত কাউকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে পাথর ও মাটি সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ জন্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতে দুই পক্ষের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের একটি বড় অংশ সোনা শিল্প থেকে আসে। পাশাপাশি তারা বিদেশি সহায়তাও পেয়ে থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত সুদানের আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিকে আরো বিপর্যস্ত করেছে।

দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেকেই জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সোনা উত্তোলনের কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। সুদান থেকে পাচার বা রপ্তানি হওয়া সোনার প্রায় পুরোটাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আরএসএফকে ব্যাপকভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউএই।
আল-জারার মতো পরিত্যক্ত খনি বা অনানুষ্ঠানিক এলাকায় স্থানীয় ও ক্ষুদ্র পরিসরে সোনা উত্তোলনের কাজ হয়। দেশটিতে উত্তোলন করা সোনার বেশিরভাগই এই ধরনের ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনি থেকে আসে।

See also  যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি এড়িয়ে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছে ইরান

আল-জারা খনির বাইরে মঙ্গলবার কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল-আমিন সুলাইমান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখানকার সবগুলো খনির সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘এখানেও সেটিই ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গতকাল থেকে আরো অনেকে মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। তারা বেঁচে আছেন বলে আমার মনে হয় না।’

পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর পাশের দারফুর অঞ্চলও আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আরএসএফ একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা এখনও সীমিত। ফলে পশ্চিম সুদানের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য মূলত মানবিক সহায়তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুমিল্লায় বোন-ভাতিজাকে কু’পিয়ে হ’ত্যা, মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

‘সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার’-গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

লোডশেডিংয়ে শীর্ষে ময়মনসিংহ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান, ৪ জনকে জরিমানা

কুমিল্লা তথ্য অফিসের আয়োজনে তিতাসে নারী সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

ডেঙ্গুতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রীর মৃত্যু, গর্ভের শিশুও বাঁচেনি

সমাজ অন্ধ, আইন বধির,বিচার না পেয়ে নিজের কবর নিজেই খুরলেন প্রবাসি

হারিয়ে যাওয়া চার শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আলামিনের মায়ের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ৬ টুকরো, গুম করতে নদীতে ফেলা হয় খণ্ডিত মরদেহ

১০

বাড্ডা-বনানীতে অটোরিকশাচালক ও গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১১

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০

১২

‘পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফের‌তের বিষ‌য়ে ভারত সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়‌নি’

১৩

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকে আমলে নিচ্ছি না: চিফ প্রসিকিউটর

১৪

বছরে ৫ হাজার তরুণকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে: মাহদী আমিন

১৫

পবিত্র মক্কা শরিফে ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

১৬

পেনশনভোগীর স্বামী বা স্ত্রী পাবেন আজীবন সুবিধা

১৭

ট্যাক্স দিলেও মেলে না নাগরিক সুবিধা, বিল দিলেও থাকে না গ্যাস

১৮

মতিঝিলে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

১৯

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন ডিজি এহসান মাহমুদ

২০