মৌমাছি বাঁচলে প্রকৃতি বাঁচবে, প্রকৃতি বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব মৌমাছি দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বুধবার (২০ মে) নীলফামারী জেলা মৌমাছি সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নীলফামারী শহরের স্কাই ভিউ রেস্টুরেন্ট এন্ড কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে মৌমাছি সংরক্ষণ, মধু উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদনে মৌমাছির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ নুরেল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মোঃ জাকির হোসেন, জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশ (নাসিব) নীলফামারী জেলা সভাপতি আব্দুল মোমিন, দিনাজপুরের বাঁশেরহাট মৌমাছি পালন কেন্দ্রের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন এবং ইউসিবি ব্যাংকের ক্রেডিট অফিসার কৌশিক রায়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নীলফামারী জেলা মৌমাছি সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমন ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মৌমাছি শুধু মধু উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত নয়, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়। তাই মৌমাছি রক্ষা করা মানেই প্রকৃতি ও মানবজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, বনজ ও ফুলজ উদ্ভিদের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে মৌচাষ শিল্প নানা সংকটের মুখে পড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করা, মৌচাষীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা, খাঁটি মধুর বাজারজাতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ফুল ও বনজ গাছ রোপণ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
মৌচাষী সংগঠনের নেতারা জানান, মৌচাষীদের জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা, কম মূল্যে চিনি সরবরাহ, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং নীলফামারীতে মধু সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত মাঠের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন এলাকার মৌচাষী, কৃষক, উদ্যোক্তা ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।