২০ মে ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পানি সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত

-লেখক মতিন সৈকত

তিন দশকের বেশি সময়  যাবত নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়, পরিবেশ প্রকৃতি, জলবায়ু  নিয়ে কাজ করছি। নদ-নদী সম্পর্কে আমার জানার অদম্য আগ্রহ এবং কৌতুহল রয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারিম অর্থসহ অধ্যায়ন করতে গিয়ে দেখি জান্নাত সম্পর্কে যতগুলো আয়াত আছে তার অধিকাংশ  আয়াতে জান্নাতের পাদদেশে প্রবহমান নদী সম্পর্কে বলা হয়েছে। এছাড়াও  নদ-নদী, ঝর্ণাধারা, প্রস্রবণ, বারিপাত, বারিমন্ডল, বায়ু, মেঘমালা, বৃষ্টিধারা,  বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত, সাগর-মহাসাগর, নৌযান, জাহাজ, প্রবহমান জলধারা, জলবায়ু সম্পর্কে অসংখ্য আয়াত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নাযিল করেছেন। বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে তরু, লতা, গাছ-গাছালিতে পৃথিবী পরিপূর্ণ করেছেন। রিজিকের ব্যাবস্থা করেছেন। শস্য ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। সৌন্দর্য বর্ধন করেছেন। পরিবেশ সুশীতল এবং ভারসাম্যপূর্ণ  করেছেন। নিয়ামতে পরিপূর্ণ করেছেন। নদীর তলদেশে মহান রাব্বুল আলামিন  আরেক  জগৎ সৃষ্টি করেছেন যা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান শূন্যের কোটায়। কুরআন আমরা তরজমা সহ যত পড়ব তত জানব। জ্ঞানের উৎস কুরআন। হিদায়েতর অমিয়বাণী কুরআন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে জীবনে মরণে ঈমানের উপর কায়েম রাখুক। কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত করুক।
নদী সম্পর্কিত আয়াতগুলো প্রথমদিকে সংকলনের চেষ্টা করছি। কুরআনুল কারিম অধ্যায়নের সাথে দেখি আল্লাহ’র সৃষ্টির বহু বৈচিত্র্যময় সাদৃশ্যপূর্ণ অপূর্ব মিল। নদী, পানি,বায়ু, মেঘমালা, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, নৌযান, সমুদ্র সম্পর্কিত আয়াতগুলো খুঁজে সংকলন করার চেষ্টা করি। এ সুযোগে কুরআনের সাথে আরো নিবিড় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। আল্লাহ যেন কুরআন বুঝে পড়ার এবং আমল করার তাওফিক দান করেন।
অজ্ঞতা, অসাবধানতা বশতঃ অনেক আয়াত ছোটে যেতে পারে। সে জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। পরবর্তীতে নজরে আসলে বা কেউ ধরিয়ে দিলে সংশোধন করে নেব ইনশাআল্লাহ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত এবং সম্পাদিত
‘আল-কুরআনুল কারীম’ সপ্তম মূদ্রণের দ্বিতীয় সংস্করণ
থেকে হুবহুব বাংলা অনুবাদ গ্রহন করেছি।
উপরোক্ত শিরোনামে প্রত্যক্ষভাবে ৩০৩টি আয়াত খুঁজে পেয়েছি। পরোক্ষোভাবে আরো আয়াত আছে।

সুরা বাকারা’র ১৯, ২০,২২, ২৫ , ৫০, ৫৭, ৬০, ১৬৪, ২১০, ২৪৯, ২৬৪,২৬৫,২৬৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১৯)  কিংবা যেমন আকাশের বর্ঘণমুখর মেঘ, যাহাতে রহিয়াছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধাবনি ও বিদ্যুৎ-চমক। বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে  তাহারা তাহাদের কর্ণে অঙ্গুলি প্রবেশ করায়। আল্লাহ কাফিরদিগকে পরিবেষ্টন করিয়া  রহিয়াছেন।”

(২০) বিদ্যুৎ-চমক তাহাদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় কাড়িয়া লয়। যখনই বিদ্যুৎতালোকে তাহাদের সম্মুখে উদ্ভাসিত হয় তাহারা তখনই পথ চলিতে থাকে এবং যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় তখন তাহারা থমকিয়া দাঁড়ায়। আল্লাহ ইচ্ছে করিলে তাহাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি হরণ করিতেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

(২২) যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানা ও আকাশকে ছাদ করিয়াছেন এবং আকাশ হইতে পানি বর্ষণ করিয়া তদ্দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-মূল উৎপাদন করেন। সুতরাং জানিয়া শুনিয়া কাহাকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করাইও না।

(২৫) যাহারা ঈমান আননয়ন করে ও সৎকর্ম করে তাহাদিগকে শুভ সংবাদ দাও যে,  তাহাদের জন্য রহিয়াছে জান্নাত, যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত। যখনই তাহাদিগকে ফল-মূল খাইতে দেওয়া হইবে তখনই তাহারা বলিবে,  ‘ আমাদিগকে পূর্বে জীবিকারূপে যাহা দেওয়া হইত ইহা তো তাহাই, তাহাদিগকে অনুরূপ ফলই দেওয়া হইবে এবং সেখানে তাহাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী রহিয়াছে, তাহারা সেখানে স্থায়ী হইবে।

(৫০) যখন তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিধা-বিভক্ত করিয়াছিলাম এবং তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়াছিলাম এবং তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়াছিলাম ও ফিরআওনী সম্প্রদায়কে নিমজ্জিত করিয়াছিল আর তোমরা উহা প্রত্যক্ষ করিতেছিলে।

(৫৭)  আমি মেঘ দ্বারা তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করিলাম,  তোমাদের নিকট মান্না ও সালওয়া প্রেরণ করিলাম। বলিয়াছিলাম ‘ তোমাদিগকে ভাল যাহা দান করিয়াছি তাহা হইতে আহার কর।’ তাহারা আমার প্রতি কোন জুলুম করে নাই, বরং তাহারা তাহাদের প্রতিই জুলুম করিয়াছিল।

(৬০) স্মরণ কর, যখন মূসা তাহার সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করিল, আমি বলিলাম, “তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর”। ফলে উহা হইতে দ্বাদশ প্রস্রবণ প্রবাহিত হইল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পান-স্থান চিনিয়া লইল। বলিলাম “আল্লাহ প্রদত্ত জীবীকা হইতে তোমরা পানাহার কর এবং দুষ্কৃতকারীরূপে পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করিয়া বেড়াইও না।

(১৬৪) আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে, যাহা মানুষের হিত সাধন করে তাহা সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে, আল্লাহ আকাশ হইতে যে বারিবর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে তাহার মৃত্যুর পর পূনরুজ্জীবিত করেন তাহাতে এবং তাহার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে বায়ুর দিক পরিবর্তনে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।

(২১০)  তাহারা শুধু ইহার প্রতীক্ষায় রহিয়াছে যে,  আল্লাহ ও ফিরিশতাগণ মেঘের ছায়ায় তাহাদের নিকট উপস্থিত হইবেন, তৎপর সব কিছুর মীমাংসা হইয়া যাইবে।  সমস্ত বিষয় আল্লাহহরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে।”

(২৪৯) অতঃপর তালুত যখন সৈন্যবাহিনীসহ বাহির হইল সে তখন বলবল, ‘ আল্লাহ এক নদী দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করিবেন। যে কেহ উহা হইতে পান করিবে সে আমার দলভুক্ত নহে, আর যে-কেহ উহার স্বাদ -গ্রহন করিবে না সে আমার দলভুক্ত, ইহা ছাড়া যে-কেহ তাহার হস্তে এক কোষ পানি গ্রহন করিবে সে-ও। ‘ অতঃপর অল্প সংখ্যক ব্যাতীত তাহারা উহা হইতে পান করিল। সে এবং তাহার সংগী ঈমানদারগণ যখন উহা অতিক্রম করিল তখন তাহারা বলিল, ‘ জালুত ও তাহার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত শক্তি আজ আমাদের নাই,  কিন্তু যাহাদের প্রত্যায় ছিল আল্লাহর সহিত তাহাদের সাক্ষাৎ ঘটিবে তাহারা বলিল, ‘ আল্লাহ হুকুমে কত ক্ষুদ্রদল কত বৃহৎ দলকে পরাভূত করিয়াছে!’ আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সহিত রহিয়াছেন।

(২৬৪)  হে মুমিনগণ!  দানের কথা প্রচার করিয়া এবং ক্লেশ দিয়া তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যাক্তির ন্যায় নিস্ফলা করিওনা যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্য ব্যায় করিয়া থাকে,  এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না। তাহার উপমা একটি মসৃণ পাথর যাহার উপর কিছু মাটি থাকে, অতঃপর তাহার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত তাহাকে পরিস্কার করিয়া রাখিয়া দেয়। যাহা তাহারা উপার্জন করিয়াছে তাহার কিছুই তাহারা তাহাদের কাজে লাগাইতে পারিবে না। আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

(২৬৫)  যাহারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভার্থে ও নিজেদের আত্মা বলিষ্ঠ করণার্থে ধনৈশ্বর্য ব্যায় করে তাহাদের উপমা কোন উচ্চ ভূমিতে অবস্থিত একটি উদ্যান, যাহাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, ফলে তাহার ফলমূল দ্বিগুণ জন্মে। যদি মুষলধারে বৃষ্টি না-ও হয় তবে লঘু বৃষ্টিই যথেষ্ট।  তোমরা যাহা কর আল্লাহ তাহার সম্যক দ্রষ্টা।

(২৬৬) তোমাদের কেহ কি চায় যে, তাহার খেজুর ও আঙ্গুরের একটি বাগান থাকে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং যাহাতে সর্ব প্রকার ফলমূল আছে, যখন সে ব্যাক্তি বার্ধক্যে উপনীত হয়, এবং তাহার সন্তান-সন্ততি দুর্বল, অতঃপর উপর এক অগ্নিক্ষরা ঘূর্ণিঝড় আপতিত হয় ও উহা জ্বলিয়া যায়? এইভাবে আল্লাহ তাঁহার নিদর্শন তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যাক্ত করেন যাহাতে তোমারা অনুধাবন করিতে পার।

সুরা আল ইমরানের ১৩৬, ১৯৫, ১৯৮, আল্লাহ বলেন

(১৩৬) উহারাই তাহারা, যাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম।

(১৯৫) অতঃপর তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের ডাকে সাড়া দিয়া বলেন,  আমি তোমাদের মধ্যে কোন কর্মে নিষ্ঠ নর অথবা নরীর কর্ম বিফল করি না, তোমরা একে অপরের অংশ।  সুতরাং যাহারা হিজরত করিয়াছে, নিজ গৃহ হইতে উৎখাত হইয়াছে, আমার পথে নির্যাতিত হইয়াছে এবং যুদ্ধ  করিয়াছে ও নিহত হইয়াছে আমি তাহাদের মন্দ কার্যগুলি অবশ্যই দূরীভূত করিব এবং অবশ্যই তাহাদিগকে দাখিল করিব জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। ইহা আল্লাহর নিকট হইতে পুরস্কার, উত্তম পুরস্কার আল্লাহরই নিকট।

(১৯৮) কিন্তু যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে। ইহা আল্লাহর পক্ষ হইতে আতিথ্য,  আল্লাহর নিকট যাহা আছে তাহা সৎকর্ম পারায়ণদিগের জন্য শ্রেয়।

সুরা নিসা’র ১৩, ৫৭, ১২২, আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১৩) এই সব আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। কেহ আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করিলে আল্লাহ তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং ইহা মহাসাফল্য।

(৫৭) যাহারা ঈমান আনয়ন করে ও ভালো কাজ করে তাহাদিগকে দাখিল করিব জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে,  সেখানে তাহাদের জন্য পবিত্র সংগী থাকিবে এবং তাহাদিগকে চির স্নিগ্ধ ছায়ায় দাখিল করিব।

(১২২) এবং যাহারা ঈমান আনয়ন করে ও সৎকাজ করে তাহাদিগকে দাখিল করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত,  সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য,  কে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী।

সুরা মায়িদার ১২, ৮৫, ১১৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন
(১২)  আল্লাহ বনী-ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহন করিয়াছিলেন এবং তাহাদের মধ্য হইতে দ্বাদশ নেতা নিযুক্ত করিয়াছিলাম আর আল্লাহ বলিয়াছিলেন ‘ আমি তোমাদের সংগে আছি, তোমরা যদি সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও, আমার রাসূলগণে ঈমান আন ও ইহাদিগকে সন্মান কর, এবং আল্লাহকে উত্তম ঝণ প্রদান কর তবে তোমাদের পাপ অবশ্যই মোচন করিব এবং নিশ্চয় তোমাদিগকে দাখিল করিব জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, ইহার পরও কেহ কুফরী করিলে সে সরল পথ হারাইবে।

(৮৫)  এবং তাহাদের এই কথার জন্য আল্লাহ তাহাদের পুরস্কার নিদিষ্ট  করিয়াছেন জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তাহারা সেখানে স্থায়ী হইবে। ইহা সৎকর্মপরায়ণদিগের পুরস্কার।

(১১৯) আল্লাহ বলিবেন, এই সেই দিন যেদিন সত্যবাদীগণ তাহাদিগের সত্যতার জন্য উপকৃত হইবে, তাহাদের জন্য আছে জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তাহারা সেখানে চিরস্থায়ী হইবে,  আল্লাহ তাহাদিগের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাঁহার প্রতি সন্তুষ্ট, ইহা মহাসফলতা।

সুরা আন’আমের ৬, ৯৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৬) তাহারা কি দেখে না যে, তাহাদিগের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিয়াছি, তাহাদিগকে দুনিয়ায় এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলাম যেমনটি তোমাদিগকেও করি নাই এবং তাহাদিগের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম আর তাহাদিগের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করিয়াছিলাম, অতঃপর তাহাদিগের পাপের দরুন তাহাদিগকে বিনাশ করিয়াছি এবং তাহাদিগের পরে অপর মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করিয়াছি।

(৯৯) তিনিই আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর উহা দ্বারা আমি সর্বপ্রকার উদ্ভিদের চারা উদগমন করি,অনন্তর উহা হইতে সবুজ পাতা উদগত করি, পরে উহা হইতে ঘন সন্নিবিষ্ট শস্য-দানা উৎপাদন করি, এবং খেজুর বৃক্ষের মাথি হইতে ঝুলন্ত কাঁদি নির্গত করি আর আংগুরের উদ্যান সৃষ্টি করি এবং যায়তুন ও দাড়িম্বও, ইহারা একে অন্যের সদৃশ এবং বিসদৃশও, লক্ষ্য কর, উহার ফলের প্রতি যখন উহা ফলবান হয় এবং উহার পরিপক্বতা প্রাপ্তির প্রতি। মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য উহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

সুরা আরা’ফের ৪৩, ৫৭, ৬৪, ৮৪, ১৩৩, ১৩৬, ১৩৮, ১৬০, ১৬৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৪৩) তাহাদিগের অন্তর হইতে ঈর্ষা দূর করিব, তাহাদিগের পাদদেশে প্রবাহিত হইবে নদী এবং তাহারা বলিবে ‘ প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদিগকে ইহার পথ দেখাইয়াছেন। আল্লাহ আমাদিগকে পথ না দেখাইলে আমরা কখনও পথ পাইতাম না। আমাদিগের প্রতিপালকের রাসুলগণ তো সত্য বাণী আনিয়াছিল , এবং তাহাদিগকে সম্বোধন করিয়া বলা হইবে,  ‘ তোমারা যাহা করিতে তাহারই জন্য তোমাদিগকে এই জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হইয়াছে।

(৫৭)  তিনিই স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে বায়ুকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। যখন উহাকে ঘন মেঘ বহন করে তখন উহা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে চালনা করি পরে উহা হইতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তৎপর উহার দ্বারা সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করি। এইভাবে মৃতকে জীবিত করি যাহাতে তোমরা শিক্ষা লাভ কর।

(৬৪)  অতঃপর তাহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলে। তাহাকে ও তাহার সংগে যাহারা তরণীতে ছিল আমি তাহাদিগকে উদ্ধার করি, এবং যাহারা আমার নিদর্শন প্রত্যাখান করিয়াছিল তাহাদিগকে নিমজ্জিত করি। তাহারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রাদায়।

(৮৪)  তাহাদিগের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, সুতরাং অপরাধীদিগের পরিণাম কী হইয়াছিল তাহা লক্ষ্য কর।

(১৩৩)  অতঃপর আমি তাহাদিগকে প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ভেক ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি। এইগুলি স্পষ্ট নিদর্শন, কিন্তু তাহারা দাম্ভিকই রহিয়া গেল, আর তাহারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

(১৩৬) সুতরাং আমি তাহাদিগকে শাস্তি দিয়াছি এবং তাহাদিগকে অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত করিয়াছি, কারণ তাহারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করিত এবং এই সম্বন্ধে তাহারা ছিল গাফিল।

(১৩৮)  এবং বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করাইয়া দেই, অতঃপর তাহারা প্রতীমা পূজায় রত এক জাতির নিকট উপস্থিত হয়। তাহারা বলিল ‘হে মুসা! তাহাদিগের  দেবতার ন্যায় আমাদিগের জন্যও এক দেবতা গড়িয়া দাও, সে বলিল, ‘ তোমরা এক মুর্খ সম্প্রদায়।

(১৬০)  তাহাদিগকে আমি দ্বাদশ গোত্রে তথা দলে বিভক্ত করিয়াছি। মুসার সম্প্রদায় যখন তাহার নিকট পানি প্রার্থনা করিল, তখন তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম,  ‘ তোমার লাঠির দ্বারা পাথরে আঘাত কর,  ফলে উহা হইতে দ্বাদশ প্রস্রবণ উৎসারিত হইল, প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানস্থান চিনিয়া লইল,  এবং মেঘদ্বারা তাহাদিগের উপর ছায়া বিস্তার করিয়া ছিলাম, তাহাদিগের নিকট মান্না ও সালওয়া পাঠাইয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম, ‘ভাল যাহা তোমাদিগকে দিয়াছি তাহা আহার কর। ‘ তাহারা আমার প্রতি কোন জুলুম করে নাই কিন্তু তাহারা নিজদিগের প্রতিই জুলুম করিতেছিল।

(১৬৩)  তাহাদিগকে সমুদ্রতীরবর্তী জনপদবাসী দিগের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা কর, তাহারা শনিবারে সীমালংঘন করিত, শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানিতে ভাসিয়া তাহাদিগের নিকট আসিত, কিন্তু যেদিন তাহারা শনিবার উদযাপন করিত না সেদিন উহারা তাহাদিগের নিকট আসিত না, এইভাবে তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছিলাম, যেহেতু তাহারা সত্যত্যাগ করিত।

সুরা আনফালের ১১ আয়াতে আল্লাহ বলেন ” স্মরণ কর, তিনি তাঁহার পক্ষ হইতে স্বস্তির জন্য তোমাদিগকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন এবং আকাশ হইতে তোমাদিগের উপর বারি বর্ষণ করেন উহা দ্বারা তোমাদিগকে পবিত্র করিবার জন্য, তোমাদিগ হইতে শয়তানের কুমন্ত্রণা অপসারণের জন্য,  তোমাদিগের হৃদয় দৃঢ় করিবার জন্য এবং তোমাদিগের পা স্থির রাখিবার জন্য।

সুরা তাওবার ১৯, ৭২, ৮৯  আয়াতে আল্লাহ বলেন”

(১৯) যাহারা হাজীদিগের পানি সরবরাহ করে এবং মসজিদুল -হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করে, তোমরা কি তাহাদিগকে উহাদিগের সমজ্ঞান কর, যাহারা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান আনে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করে?  আল্লাহর নিকট উহারা সমতুল্য নহে। আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সৎ পথ প্রদর্শন করেন না।”

(৭২) ” আল্লাহ মু’মিন নর ও নারীকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন জান্নাতের-যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত যেথায় তাহারা স্থায়ী হইবে, – এবং স্থায়ী জান্নাতে উত্তম বাসস্থানের। আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং উহাই মহাসাফল্য।”

(৮৯) ” আল্লাহ উহাদিগের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন জান্নাত, যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত, যেথায় তাহারা স্থায়ী হইবে, ইহাই মহা-সাফল্য।

সূরা য়ূনুসের ৯, ২২, ২৪, ৭৩, ৯০ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৯)” যাহারা মুমিন ও সৎকর্মপরায়ন তাহাদিগের প্রতিপালক তাহাদিগের ঈমান হেতু তাহাদিগকে পথ নির্দেশ করিবেন, সুখদ কাননে তাহাদিগের পাদদেশে নদী প্রবাহিত হইবে।

(২২) ” তিনিই তোমাদিগকে জলে -স্থলে ভ্রমণ করান এবং তোমরা যখন নৌকারোহী হও এবং এগুলো আরোহী লইয়া অনুকূল বাতাসে বহিয়া যায় এবং তাহারা উহাতে আনন্দিত হয়, অতঃপর এইগুলি বাত্যাহত এবং সর্বদিক হইতে তরংগাহত হয় এবং তাহারা উহা দ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া পড়িয়াছে মনে করে,  তখন তাহারা আনুগত্যে বিশুদ্ধ চিত্ত হইয়া আল্লাহকে ডাকিয়া বলেঃ তুমি আমাদিগকে ইহা হইতে ত্রাণ করিলে আমরা অবশ্য কৃতজ্ঞদিগের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(২৪) ” পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত যেমন আমি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করি যদ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হইয়া উদগত হয়, যাহা হইতে মানুষ ও জীব-জন্তু আহার করিয়া থাকে।  অতঃপর যখন ভূমি তাহার শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয় এবং উহার আধিকারিগণ মনে করে উহা তাহাদিগের আয়াত্তাধীন, তখন দিবসে অথবা রজনীতে আমার নির্দেশ আসিয়া পড়ে ও আমি উহা এমনভাবে নির্মূল করিয়া দিই, যেন ইতিপূর্বে উহার অস্তিত্বই ছিল না। এইভাবে আমি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

(৭৩)  আর উহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলে,  অতঃপর তাহাকে ও তাহার সংগে যাহারা তরণীতে ছিল তাহাদিগকে আমি উদ্ধার করি এবং তাহাদিগকে স্থলাভিষিক্ত করি ও যাহারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখান করেছিল তাহাদিগকে  নিমজ্জিত করি। সুতরাং দেখ, যাহাদিগকে সতর্ক করা হইয়াছিল তাহাদিগের পরিণাম কী হইয়াছে?

(৯০) আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করাইলাম এবং ফির’আওন ও তাহার সৈন্যবাহীনি বিদ্বেষ পরবশ হইয়া ও ন্যায়ের সীমা লংঘন করিয়া তাহাদিগের পশ্চাতধাবন করিল। পরিশেষে যখন সে নিমজ্জমান হইল তখন সে বলিল, আমি বিশ্বাস করিলাম বনী ইসরাঈল যাঁহাতে বিশ্বাস করে -তিনি ব্যাতীত অন্য কোন ইলাহ নাই এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদিগের অন্তর্ভুক্ত।

See also  দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না: তারেক রহমান

সুরা হুদের ৩৭, ৩৮, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৫২ আয়াতে আল্লাহ বলেন।

(৩৭)  তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ কর এবং যাহারা সীমা লঙ্ঘন করিয়াছে তাহাদিগের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলিও না তাহারা তো নিমজ্জিত হইবে।

(৩৮) সে নৌকা নির্মাণ করিতে লাগিল এবং যখনই তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানেরা তাহার নিকট দিয়া যাইত, তাহাকে উপহাস করিত, সে বলিত তোমরা যদি আমাকে উপহাস কর তবে আমরাও তোমাদিগকে উপহাস করিব যেমন তোমরা উপহাস করিতেছ।

(৪০) অবশেষে যখন আমার আদেশ আসিল এবং উনান উথলিয়া উঠিল আমি বলিলাম, ‘ইহাতে উঠাইয়া লও প্রত্যেক শ্রেণীর যুগল, যাহাদিগের বিরুদ্ধে পূর্ব -সিদ্ধান্ত হইয়াছে, তাহারা ব্যতীত তোমার পরিবার-পরিজনকে এবং যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদিগকে’।  তাহার সঙ্গে ঈমান আনিয়াছিল অল্প কয়েকজন।

(৪১) সে বলিল ‘ইহাতে  আরোহণ কর, আল্লাহর নামে ইহার গতি ও স্থিতি, আমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

(৪২) পর্বত-প্রমাণ তরঙ্গ মধ্যে ইহা তাহাদিগকে লইয়া বহিয়া চলিল, নূহ তাহার পুত্র,  যে উহাদিগের হইতে পৃথক ছিল, তাহাকে আহবান করিয়া বলিল, ‘হে আমার পুত্র!  আমাদিগের সঙ্গে আরোহণ কর এবং কাফিরদিগের সঙ্গী হইও না।’

(৪৩) সে বলিল ‘ আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় লইব যাহা আমাকে প্লাবন হইতে রক্ষা করিবে’।  সে বলিল ‘ আজ আল্লাহর বিধান হইতে রক্ষা করিবার কেহ নাই,  যাহাকে আল্লাহ দয়া করিবেন, সে ব্যাতীত।’ ইহার পর তরঙ্গ উহাদিগকে  বিছিন্ন করিয়া দিল এবং সে নিমজ্জিতদিগের অন্তর্ভুক্ত হইল।

(৪৪) ইহার পর বলা হইল ‘ হে পৃথিবী!  তুমি তোমার পানি গ্রাস করিয়া লও এবং হে আকাশ!  ক্ষান্ত হও।’ ইহার পর বন্য প্রশমিত হইল এবং কার্য সমাপ্ত হইল, নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হইল এবং বলা হইল, জালিম সম্প্রদায় ধ্বংস হইক।

(৫২)  হে আমার সম্প্রদায়!  তোমরা তোমাদিগের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁহার দিকেই ফিরিয়া আস। তিনি তোমাদিগের জন্য প্রচুর বারি বর্ষাইবেন। তিনি তোমাদিগকে আরও শক্তি দিয়া তোমাদিগের শক্তি বৃদ্ধি করিবেন এবং তোমরা অপরাধী হইয়া মুখ ফিরাইয়া লইও না।’

সুরা য়ূসুফের ১০, ১৫, ১৯, ৪৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন “

(১০) উহাদিগের মধ্যে একজন বলিল, য়ূসুফকে হত্যা করিও না এবং তোমরা যদি কিছু করিতেই চাহ তাহাকে কোন গভীর কূপে নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেহ তাহাকে তুলিয়া লইয়া যাইবে।

(১৫)  অতঃপর উহারা যখন তাহাকে লইয়া গেল এবং তাহাকে গভীর কূপে নিক্ষেপ করিতে একমত হইল,  এমতাবস্থায় আমি তাহাকে জানাইয়া দিলাম, ‘ তুমি ইহাদিগকে উহাদিগের এই কর্মের কথা অবশ্যই বলিয়া দিবে যখন উহারা তোমাকে চিনিবে না।

(১৯)  এক যাত্রীদল আসিল, উহারা উহাদিগের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করিল, সে তাহার পানির ডোল নামাইয়া দিল। সে বলিয়া উঠল, ‘ কি সুখবর! এ যে এক কিশোর!  অতঃপর উহারা তাহাকে পণ্যরূপে লুকাইয়া রাখিল, উহারা যাহা করিতেছিল সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত ছিলেন।

(৪৯) ‘ এবং ইহার পর আসিবে এক বৎসর, সেই বৎসর মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হইবে এবং সেই বৎসর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াইবে।’

সূরা রা’দের  ৩, ৪, ১২, ১৩,১৪ ১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৩)  তিনিই ভূতলকে বিস্তৃত করিয়াছেন এবং উহাতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করিয়াছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করিয়াছেন জোড়ায় জোড়ায়। তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

(৪) পৃথিবীতে রহিয়াছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড, উহাতে আছে দ্রাক্ষা-কানন, শস্য -ক্ষেত্র, একাধিক শিরবিশিষ্ট অথবা এক শিরবিশিষ্ট খর্জূর-বৃক্ষ সিঞ্চিত একই পানিতে এবং ফল হিসাবে উহাদিগের কতককে কতকের উপর আমি শ্রেষ্ঠত্ত দিয়া থাকি। অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে রহিয়াছে নিদর্শন।

(১২)  তিনিই তোমাদিগকে দেখান বিজলী যাহা ভয় ও ভরসা সঞ্চার করে এবং তিনিই সৃষ্টি করেন ঘন মেঘ।

(১৩)” বজ্র নির্ঘোষ ও ফিরিশতাগণ সভয়ে তাঁহার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি বজ্রপাত করেন। এবং যাহাকে ইচ্ছা উহা দ্বারা আঘাত করেন, তথাপি উহারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে, যদিও তিনি মহাশক্তিশালী।

(১৪) সত্যের আহবান তাঁহারই  যাহারা তাঁহাকে ব্যতীত আহবান করে অপরকে, তাহাদিগকে কোনই সাড়া দেয় না উহারা, তাহাদিগের দৃষ্টান্ত সেই ব্যত্তির মত, যে তাহার মুখে পানি পৌঁছিবে এ আশায় তাহার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে এমন পানির দিকে যাহা তাহার মুখে পৌছিবার নহে কাফিরদিগের আহবান নিস্ফল।

(১৭)  তিনি আকাশ হইতে বৃষ্টিপাত করেন, ফলে উপত্যকা সমূহ উহাদিগের পরিমাণ অনুযায়ী প্লাবিত হয় এবং প্লাবন তাহার উপরিস্থিত আবর্জনা বহন করে, এইরূপে আবর্জনা  উপরিভাগের আসে যখন অলংকার অথবা তৈজসপত্র নির্মাণ উদ্দেশ্যে কিছু অগ্নিতে উত্তপ্ত করা হয়। এইভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত দিয়া থাকেন। যাহা আবর্জনা তাহা ফেলিয়া দেওয়া হয় এবং যাহা মানুষের উপকারে আসে তাহা জমিতে থাকিয়া যায়। এইভাবে আল্লাহ উপমা দিয়া থাকেন।

(৩৫) মুত্তাকীদিগকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে, তাহার উপমা এইরূপঃ উহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, উহার ফলসমূহ ও ছায়া চিরস্থায়ী। যাহারা মুত্তাকী ইহা তাহাদিগের কর্মফল এবং কাফিরদিগের কর্মফল অগ্নি।

সুরা ইব্রাহিমের ২৩, ৩২, আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৩) যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদিগকে দাখিল করা হইবে জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা স্থায়ী হইবে তাহাদিগের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে, সেথায় তাহাদিগের অভিবাদন হইবে ‘সালাম’।

(৩২)  তিনিই আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন, যিনি আকাশ হইতে পানি বর্ষণ করিয়া তদ্দ্বারা তোমাদিগের জীবিকার জন্য ফল-মূল উৎপাদন করেন, যিনি নৌযানকে তোমাদিগের অধীন করিয়া দিয়েছেন যাহাতে তাঁহার বিধানে উহা সমুদ্রে বিচরণ করে এবং যিনি তোমাদিগের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন নদী সমূহকে।

সুরা হিজরের ২২, ৪৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন
(২২)

আমি বৃষ্টি -গর্ভ বায়ু প্রেরণ করি, অতঃপর আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করি এবং উহা তোমাদিগকে পান করিতে দিই, উহার ভান্ডার তোমাদিগের নিকট নাই।

(৪৫)  মুত্তাকীরা থাকিবে প্রস্রবণ-বহুল জান্নাতে।

সুরা নাহলের ১০, ১৪, ১৫, ৩১,৬৫, আয়াতে আল্লাহ বলেন”

(১০)  তিনিই আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, উহাতে তোমাদিগের জন্য রহিয়াছে পানীয় এবং  উহা হইতে জন্মায় উদ্ভিদ যাহাতে তোমারা পশু চারণ করিয়া থাক।

(১৪)  তিনিই সমুদ্রকে অধীন করিয়াছেন যাহাতে তোমারা উহা হইতে তাজা মৎসাহার করিতে পার এবং যাহাতে উহা হইতে আহরণ করিতে পার রত্নাবলী যাহা তোমরা ভূষণরূপে পরিধান কর, এবং তোমরা দেখিতে পাও, উহার বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে এবং উহা এই জন্য যে তোমরা যেন তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার  এবং তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

(১৫) এবং তিনি পৃথিবীতে সূদৃঢ়  পর্বত স্থাপন করিয়াছেন, যাহাতে পৃথিবী তোমাদিগকে লইয়া আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করিয়াছেন নদ-নদী ও পথ, যাহাতে তোমারা তোমাদিগের গন্তব্যস্থলে পৌঁছিতে পার।

(৩১)  উহা স্থায়ী জান্নাত যাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে, উহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তাহারা যাহা কিছু কামনা করিবে উহাতে তাহাদিগের জন্য তাহাই থাকিবে।  এইভাবেই আল্লাহ পুরস্কৃত করেন মুত্তাকীদিগকে।

(৬৫)  আল্লাহ আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন এবং তদ্দ্বারা তিনি ভূমিকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন।  অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন আছে, যে -সম্প্রদায় কথা শোনে তাহাদিগের জন্য।

বনী ইসরাঈলের ৬৬, ৬৭, ৬৯, ৭০, ৯০, ৯১আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৬৬)  তোমাদিগের প্রতিপালক তিনিই যিনি তোমাদিগের জন্য সমুদ্রে নৌযান পরিচালিত করেন, যাহাতে তোমারা তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার। তিনি তোমাদিগের প্রতি পরম দয়ালু।

(৬৭) সমুদ্রে যখন তোমাদিগকে বিপদ স্পর্শ করে তখন কেবল তিনি ব্যতীত অপর যাহাদিগকে তোমারা আহবান করিয়া থাক তাহারা অন্তর্হিত হইয়া যায়, অতঃপর তিনি যখন তোমাদিগকে উদ্ধার করিয়া স্থলে আনেন তখন তোমারা মুখ ফিরাইয়া লও। মানুষ অতিশয় অকৃতজ্ঞ।

(৬৯)  অথবা তোমারা কি নিশ্চিন্ত আছ যে,  তিনি তোমাদিগকে আর একবার সমুদ্রে লইয়া যাইবেন না এবং তোমাদিগের বিরুদ্ধে প্রচন্ড ঝটিকা পাঠাইবেন না এবং তোমাদিগের কুফুরী করার জন্য তোমাদিগকে নিমজ্জিত করিবেন না? তখন তোমরা এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে কোন সাহায্যকারী পাইবে না।

(৭০) আমি তো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করিয়াছি, স্থলে ও সমুদ্রে উহাদিগের চলাচলের বাহন দিয়াছি, উহাদিগকে উত্তম রিযক দান করিয়াছি এবং আমি যাহাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি তাহাদিগের অনেকের উপর উহাদিগকে শ্রেষ্ঠত্ত দিয়াছি।

(৯০) এবং উহারা বলে, ‘ কখনই তোমাতে ঈমান আনিব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদিগের জন্য ভূমি হইতে এক প্রস্রবণ উৎসারিত করিবে।

(৯১) অথবা তোমার খেজুরের অথবা আংগুরের এক বাগান হইবে যাহার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করিয়া দিবে নদী-নালা।

সুরা কাহফের ২৯, ৩১, ৩৩, ৪০, ৪১, ৪৫, ৬০, ৬১, ৬৩, ৭১, ৭৯, ৮৬, ৯৯, ১০৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৯) বল, ‘সত্য তোমাদিগের প্রতিপালকের নিকট হইতে প্রেরিত, সুতরাং যাহার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক ও যাহার ইচ্ছা সত্য  প্রত্যাখান করুক’। আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি অগ্নি, যাহার বেষ্টনী উহাদিগকে পরিবেষ্টন করিয়া থাকিবে। উহারা পানীয় চাহিলে উহাদিগকে দেওয়া হইবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যাহা উহাদিগের মুখমণ্ডল দগ্ধ করিবে, ইহা নিকৃষ্ট পানীয় ও অগ্নি কত নিকৃষ্ট আশ্রয়!

(৩১)  উহাদিগেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় উহাদিগকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হইবে,  উহারা পরিধান করিবে সুক্ষ ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সমাসীন হইবে সুসজ্জিত আসনে, কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল!

(৩৩)  উভয় উদ্যানই ফলদান করিত এবং ইহাতে কোন ত্রুটি করিত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রবাহিত করিয়াছিলাম নহর।

(৪০)  তবে হয়ত আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার উদ্যান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দিবেন এবং তোমার উদ্যানে আকাশ হইতে নির্ধারিত বিপর্যয় প্রেরণ করিবেন, যাহার ফলে উহা উদ্ভিদশূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হইবে।

(৪১)  অথবা উহার পানি ভূগর্ভে অন্তর্হিত হইবে এবং তুমি কখনও উহার সন্ধান লাভে সক্ষম হইবে না।

( ৪৫) উহাদিগের নিকট পেশ কর উপমা পার্থিব জীবনেরঃ ইহা পানির ন্যায় যাহা আমি বর্ষণ করি আকাশ হইতে, যদ্দ্বরা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হইয়া উদগত হয়, অতঃপর উহা বিশুষ্ক হইয়া এমন চূর্ণ -বিচূর্ণ হয় যে, বাতাস উহাকে উড়াইয়া লইয়া যায়।  আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।

(৬০)  স্মরণ কর,  যখন মূসা তাহার সংগীকে বলিয়াছিল, ‘দুই সমুদ্রের সংগমস্থলে না পৌঁছিয়া আমি থামিব না- অথবা আমি যুগ যুগ ধরিয়া চলিতে থাকিব’।

(৬১) উহারা উভয়ে যখন দুই সমুদ্রের সংগমস্থলে পৌঁছিল উহারা নিজদিগের মৎস্যের কথা ভুলিয়া গেল,  উহা সুড়ংগের মত পথ করিয়া সমুদ্রে নামিয়া গেল।

(৬৩)  সে বলিল, ‘ আপনি কি লক্ষ্য করিয়াছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম করিতেছিলাম তখন আমি মৎস্যের কথা ভুলিয়া গিয়েছিলাম?  শয়তান উহার কথা বলিতে আমাকে ভুলাইয়া দিয়াছিল, মৎস্যটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করিয়া নামিয়া গেল সমুদ্রে। ‘

(৭১)  অতঃপর উভয়ে চলিতে লাগিল,পরে যখন উহারা নৌকায় আরোহন করিল তখন সে উহা বিদীর্ণ করিয়া দিল। মূসা বলিল, ‘আপনি কি আরোহীদিগকে নিমজ্জিত করিয়া দিবার জন্য উহা বিদীর্ণ  করিলেন?  আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করিলেন।

(৭৯) নৌকাটির ব্যাপারে- ইহা ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যাক্তির, উহারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করিত, আমি ইচ্ছা করিলাম নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করিতে, কারণ উহাদিগের সম্মুখে ছিল এক রাজা, যে বলপ্রয়োগে নৌকা সকল ছিনাইয়া লইত।

(৮৬) চলিতে চলিতে সে যখন সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছিল তখন সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তগমন  করিতে দেখিল এবং সে তথায় এক সম্প্রদায়কে দেখিতে পাইল। আমি বলিলাম ‘ হে যুলকারনায়ন! তুমি ইহাদিগকে শাস্তি দিতে পার অথবা উহাদিগের ব্যাপারে সদয়ভাবে গ্রহন করিতে পার’।

(৯৯) সেই দিন আমি উহাদিগকে ছাড়িয়া দিব এই অবস্থায় যে একদল আর একদলের উপর তরঙ্গের ন্যায় পতিত হইবে এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে। অতঃপর আমি উহাদিগের সকলকেই একত্র করিব।
(১০৯) বল, আমার প্রতিপালকের কথা লিপিবদ্ধ করিবার  জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার প্রতিপালকের কথা শেষ হইবার পূর্বেই সমুদ্র নিঃশেষ হইয়া যাইবে – সাহায্যর্থে ইহার অনুরূপ আরও সমুদ্র আনিলেও।

সুরা মারয়ামের ২৪, ২৬,৮৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৪) ফিরিশতা তাহার নিন্ম পার্শ হইতে আহবান করিয়া তাহাকে বলিল, ‘ তুমি দুঃখ করিও না, তোমার পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করিয়াছেন’।

(২৬)  সুতরাং আহার কর, পান কর ও চক্ষু জুড়াও। মানুষের মধ্যে কাহাকেও যদি তুমি দেখ তখন বলিও, ‘ ‘আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতাবলম্বনের মানত করিয়াছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সহিত বাক্যালাপ করিব না।’

(৮৬) এবং অপরাধীদিগকে তৃষ্ণাতুর অবস্থায় জাহান্নামের দিকে খেদাইয়া লইয়া যাইব।

সুরা তাহা’র  ৩৯, ৫৩, ৭৬,৭৭,৭৮, ৯৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৩৯)  এই মর্মে যে, তুমি তাহাকে সিন্দুকের মধ্যে রাখ, অতঃপর উহা দরিয়ায় ভাসাইয়া দাও যাহাতে দরিয়া উহাকে তীরে ঠেলিয়াদেয়, উহাকে আমার শত্রু ও উহার শত্রু লইয়া যাইবে। আমি আমার নিকট হইতে তোমার উপর ভালবাসা ঢালিয়া দিয়াছিলাম যাহাতে তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।

(৫৩) যিনি তোমাদিগের জন্য পৃথিবীকে করিয়াছেন বিছানা এবং উহাতে করিয়া দিয়েছেন তোমাদিগের চলিবার পথ, তিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন এবং আমি উহা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।

(৭৬)  স্থায়ী জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা স্থায়ী হইবে এবং এই পুরস্কার তাহাদিগেরই, যাহারা পবিত্র।

(৭৭) আমি অবশ্যই মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম এই মর্মে আমার বান্দাদিগকে লইয়া রজনীযোগে বহির্গত হও এবং উহাদিগের জন্য সমুদ্রের মধ্য দিয়া এক শুষ্ক পথ নির্মাণ কর। পশ্চাৎ হইতে আসিয়া তোমাকে ধরিয়া ফেলা হইবে -এই আশংকা করিও না এবং ভয়ও করিও না।

(৭৮) অতঃপর ফির’আওন তাহার সৈন্য বাহিনীসহ তাহাদিগের পশ্চাদ্ধাবন করিল, অতঃপর সমুদ্র উহাদিগকে  সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করিল।

(৯৭) মুসা বলিল, ‘দূর হও, তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্য ইহাই রহিল যে, তুমি বলিবে, ‘ আমি অস্পৃশ্য ‘ এবং তোমার জন্য রহিল এক নিদিষ্ট কাল, তোমার বেলায় যাহার ব্যাতিক্রম হইবে না এবং তুমি তোমার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যাহার পূজায় তুমি রত ছিলে, আমারা উহাকে জ্বালাইয়া দিবই, অতঃপর উহাকে বিক্ষিপ্ত করিয়া সাগরে নিক্ষেপ করিবই।’

(১১৯)  ‘এবং সেথায় পিপাসার্ত হইবে না এবং রৌদ্র-ক্লিষ্টও হইবে না।’

সুরা আম্বিয়া’র ৩০, ৭৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৩০) যাহারা কুফরি করে তাহারা কি ভাবিয়া দেখে না যে, আকাশমন্ডলি ও পৃথিবী মিশিয়া ছিল ওতোপ্রোতভাবে অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করিয়া দিলাম এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিলাম পানি হইতে তবুও কি উহারা বিশ্বাস করিবে না?

(৭৭)  এবং আমি তাহাকে সাহায্য করিয়াছিলাম সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যাহারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করিয়াছিল, উহারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়। এইজন্য উহাদিগের সকলকেই আমি নিমজ্জিত করিয়াছিলাম।

সুরা হাজজের ৫, ১৪,২৩,৪৫,৬৩,৬৫ আয়াতেআল্লাহ বলেন

(৫) হে মানুষ!  পুনরুত্থান সম্বন্ধে যদি তোমারা সন্দিগ্ধ হও তবে অবধান কর-আমি তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি মৃত্তিকা হইতে,  তাহার পর শুক্র হইতে, তাহার পর ‘আলাকা’ হইতে, তাহার পর পূর্ণাকৃতি অথবা অপূর্ণাকৃতি গোশতপিন্ড হইতে,  তোমাদিগের নিকট ব্যাক্ত করিবার জন্য, আমি যাহা ইচ্ছা করি তাহা এক নিদিষ্টকালের জন্য মাতৃগর্ভেস্থিত রাখি, তাহার পর আমি তোমাদিগকে শিশুরূপে বাহির করি, পরে যাহাতে তোমারা পরিণত বয়সে উপনীত হও। তোমাদিগের মধ্যে কাহারেও কাহারেও প্রত্যাবৃত্ত করা হয় হীনতম বয়সে যাহার ফলে, উহারা যাহা কিছু জনিত সে সম্বন্ধে উহারা সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে দেখ শুস্ক, অতঃপর উহাতে আমি বারি বর্ষণ করিলে উহা শস্য -শ্যামলা হইয়া আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং উদগত করে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।

(১৪)  যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত, আল্লাহ যাহা ইচ্ছা তাহাই করেন।

(২৩)  যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহাদিগকে অলংকৃত করা হইবে স্বর্ণ-কঙ্কন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেথায় তাহাদিগের পোশাক-পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।

(৪৫)  আমি ধ্বংস করিয়াছি কত জনপদ যেইগুলির বাসিন্দা ছিল জালিম এই সব জনপদ তাহাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তুূপে পরিণত হইয়াছিল এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হইয়াছিল ও কত সুদৃঢ় প্রাসাদও!

See also  মৌলভীবাজার টিভির এক যুগ পূর্তি ও বর্ষসেরা প্রতিনিধি সম্মাননা অনুষ্ঠিত

(৬৩)  তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ বারি বর্ষণ করেন আকাশ হইতে যাহাতে সবুজ শ্যামল হইয়া উঠে ধরিত্রী? আল্লাহ সম্যক সুক্ষ্মদর্শী, পরিজ্ঞাত।

(৬৫) তুমি কি লক্ষ্য কর না যে,  আল্লাহ তোমাদিগের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তৎসমুদয়কে এবং তাঁহার নির্দেশে সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহকে, এবং তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাহাতে উহা পতিত না হয় পৃথিবীর উপর তাহার অনুমতি ব্যাতীত? আল্লাহ নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।

সুরা মু’মিনূনের ১৮, ২২, ২৭,২৮, ৪১, ৫০ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১৮)  এবং আমি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করি পরিমিতভাবে, অতঃপর আমি উহা মৃত্তিকায় সংরক্ষিত করি, আমি উহাকে অপসারিত করিতেও সক্ষম।

(২২)  এবং তোমারা উহাতে ও নৌযানে আরোহণও করিয়া থাক।

(২৭)  অতঃপর আমি তাহার নিকট ওহী করিলাম, ‘ তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ কর, অতঃপর যখন আমার আদেশ আসিবে ও উনুন উথলিয়া উঠিবে তখন উঠাইয়া লইও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবার পরিজনকে, তাহাদিগের মধ্যে যাহাদিগের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হইয়াছে তাহাদিগের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলিও না, তাহারা তো নিমজ্জিত হইবে।

(২৮)  যখন তুমি ও তোমার সংগীরা নৌযানে আসন গ্রহণ করিবে তখন বলিও, ‘ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাদিগকে উদ্ধার করিয়াছেন জালিম সম্প্রদায় হইতে।

(৪১) অতঃপর সত্য সত্যই এক বিকট আওয়াজ উহাদিগকে আঘাত করিল এবং আমি উহাদিগকে তরংগ-তাড়িত আবর্জনা সদৃশ করিয়া দিলাম। সুতরাং ধ্বংস হইয়া গেল জালিম সম্প্রদায়।

(৫০)  এবং আমি মারয়াম-তনয় ও তাহার জননীকে করিয়াছিলাম এক নিদর্শন, তাহাদিগকে আশ্রয় দিয়াছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণ বিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে।

সুরা নূরের ৩৯, ৪০, ৪৩,৪৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৩৯)  যাহারা কুফরী করে তাহাদিগের কর্ম মরুভূমির মরীচিকা সদশ, পিপাসার্ত যাহাকে পানি মনে করিয়া থাকে, কিন্তু সে উহার নিকট উপস্থিত হইলে দেখিবে উহা কিছু নহে এবং সে পাইবে সেথায় আল্লাহকে, অতঃপর তিনি তাহার কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দিবেন।  আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।

(৪০)  অথবা গভীর সমুদ্র তলের অন্ধকার সদৃশ যাহাকে আচ্ছন্ন করে তরংগের উপর তরংগ, যাহার উর্ধে মেঘপুঞ্জ, অন্ধকারপুন্জ স্তরের উপর স্তর, এমনকি সে হাত বাহির করিলে তাহা আদৌ দেখিতে পাইবে না আল্লাহ যাহাকে জ্যোতি দান করেন না তাহার জন্য কোন জ্যোতিই নাই।

(৪৩) তুমি কি দেখ না, আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তৎপর তাহাদিগকে একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তুমি দেখিতে পাও, উহার মধ্য হইতে নির্গত হয় বারিধারা, আকাশস্থিত শিলা স্তুপ হইতে তিনি বর্ষণ করেন শিলা এবং ইহা দ্বারা তিনি যাহাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা তাহার উপর হইতে ইহা অন্য দিকে ফিরাইয়া দেন। মেঘের বিদ্যুৎ ঝলক দৃষ্টি শক্তি প্রায় কাড়িয়া লয়।

(৪৫) আল্লাহ সমস্ত জীব সৃষ্টি করিয়াছেন পানি হইতে, উহাদিগের কতক পেটে ভর দিয়া চলে, কতক দুই পায়ে চলে এবং কতক চলে চারি পায়ে, আল্লাহ যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন,  আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

সুরা ফুরকানের ১০, ২৫, ৩৭, ৪০, ৪৮, ৪৯, ৫০,৫৩,৫৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১০)  কতক মহান তিনি যিনি ইচ্ছা করিলে তোমাকে দিতে পারেন ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর বস্তু -উদ্যানসমূহ যাহার নিন্মদেশে নদী -নালা প্রবাহিত এবং দিতে পারেন প্রাসাদসমূহ!

(২৫)  যেদিন আকাশ মেঘপুঞ্জসহ বিদীর্ণ হইবে এবং ফিরিশতাদিগকে নামাইয়া দেওয়া হইবে।

(৩৭)  এবং নূহের সম্প্রদায় যখন রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করিল তখন আমি উহাদিগকে নিমজ্জিত করিলাম এবং ইহাদিগকে মানব জাতির জন্য নিদর্শন স্বরূপ করিয়া রাখিলাম। জালিমদিগের জন্য আমি মর্মন্তুদ শাস্তি প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।

(৪০) উহারা তো সেই জনপদ দিয়াই যাতায়াত করে যাহার উপর বর্ষিত হইয়াছিল অকল্যাণের বৃষ্টি, তবে কি উহারা ইহা প্রত্যক্ষ করে না? বস্তুত উহারা ইহা প্রত্যক্ষ করে  না? বস্তুত উহারা ইহা প্রত্যক্ষ করে না? বস্তুত উহারা পুনরুথ্থানের আশংকা করে না।

(৪৮) তিনিই স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহীরূপে বায়ু প্রেরণ করেন এবং আমি আকাশ হইতে বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করি।

(৪৯)  যদ্দ্বারা আমি মৃত ভূখণ্ডকে সঞ্জীবিত করি এবং আমার সৃষ্টির মধ্যে বহু জীবজন্তু ও মানুষকে উহা পান করাই।

(৫৩)  তিনিই দুই দরিয়াকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করিয়াছেন, একটি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটি লোনা, খর,
উভয়ের মধ্যে রাখিয়া দিয়েছেন এক অন্তরায়,  এক অনতিক্রম্য ব্যবধান।

(৫৪) এবং তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন পানি হইতে, অতঃপর তিনি তাহার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়াছেন। তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।

সুরা শূ’আরা’র ৫৭, ৬৩ আয়াতে আল্লাহ
বলেন

(৫৭) পরিণামে আমি ফির’আওন গোষ্ঠীকে বহিস্কৃত করিলাম উহাদিগের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হইতে

(৬৩) অতঃপর মূসার প্রতি ওহী করিলাম, ‘তোমার ষষ্টি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর’। ফলে, উহা বিভক্ত হইয়া প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হইয়া গেল।

সুরা নামলের ৪৪, ৫৮, ৮৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন,

(৪৪)  তাহাকে বলা হইল, ‘ এই প্রাসাদে প্রবেশ কর,’ যখন সে উহা দেখিল তখন সে উহাকে এক গভীর জলাশয় মনে করিল এবং সে তাহার উভয় ‘ সাক’ অনাবৃত করিল। সুলায়মান বলিল, ইহা তো স্বচ্ছ স্ফটিক মন্ডিত প্রাসাদ।’ সেই নারী বলিল, ‘ হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করিয়াছিলাম, আমি সুলায়মানের সহিত জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহে নিকট আত্মসমর্পণ করিতেছি।’

(৫৮) তাহাদিগের উপর ভয়ংকর বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, যাহাদিগকে ভীতি প্রদর্শন করা হইয়াছিল তাহাদিগের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত মারাত্মক!

(৮৮) তুমি পর্বতমালা দেখিয়া অচল মনে করিতেছ, কিন্তু সেই দিন উহারা হইবে মেঘপুঞ্জের ন্যায় সঞ্চরমান। ইহা আল্লাহরই সৃষ্টি -নৈপুণ্য,  যিনি সমস্ত কিছুকে করিয়াছেন সুষম।  তোমারা যাহা করে সে সম্বন্ধে তিনি সম্যক অবগত।

সূরা কাসাসের ৭, ২৩, ২৪, ২৫, ৪০ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৭) মূসা-জননীর অন্তরে আমি ইংগিতে নির্দেশ করিলাম, ‘শিশুটিকে স্তন্য দান করিতে থাক। যখন তুমি তাহার সম্পর্কে কোন আশঙ্কা করিবে তখন ইহাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করিও এবং ভয় করিও না, দুঃখও করিও না। আমি ইহাকে তোমার নিকট ফিরাইয়া দিব এবং ইহাকে রাসূলদিগের একজন করিব।’

(২৩) যখন সে মাদয়ানের কূপের নিকট পৌছিল, দেখিল, একদল লোক তাহাদিগের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইতেছে এবং উহাদিগের পশ্চাতে দুই জন নারী তাহাদিগের পশুগুলিকে আগলাইতেছে। মূসা বলিল ‘ তোমাদিগের কী ব্যাপার? উহারা বলিল, ‘ আমরা আমাদিগের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইতে পরি না, যতক্ষণ রাখালেরা উহাদিগের জানোয়ারগুলিকে লইয়া সরিয়া না যায়। আমাদিগের পিতা অতি বৃদ্ধ। ‘

(২৪) মূসা তখন উহাদিগের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইল। তৎপর সে ছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহন করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করিবে আমি তাহার কাঙ্গাল। ‘

(২৫) তখন নারীদ্বয়ের একজন শরম-জড়িত চরণে তাহার নিকট আসিল এবং বলিল, ‘ আমার পিতা তোমাকে আমন্ত্রণ করিতেছেন, আমাদিগের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইবার পারিশ্রমিক তোমাকে দেয়ার জন্য। ‘ অতঃপর মূসা তাহার নিকট আসিয়া সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করিলে সে বলিল, ‘ ভয় করিও না, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কবল হইতে বাঁচিয়া গিয়াছ’।

(৪০) অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদিগকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, জালিমদের পরিণাম কি হইয়া থাকে!

সূরা আনকাবুতের ১৫,৪০, ৫৮, ৬৩, ৬৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১৫) অতঃপর আমি তাহাকে এবং যাহারা তরণীতে আরোহন করিয়াছিল তাহাদিগকে রক্ষা করিলাম এবং বিশ্বজগতের জন্য ইহাকে করিলাম একটি নিদর্শন।

(৪০) উহাদিগের প্রত্যেককেই তাহার অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়াছিলাম, উহাদিগের কাহারও প্রতি প্রেরণ করিয়াছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড ঝটিকা, উহাদিগের কাহাকেও আঘাত করিয়াছিল মহানাদ,কাহাকেও আমি প্রোথিত করিয়াছিলাম ভূগর্ভে এবং কাহাকেও করিয়াছিলাম নিমজ্জিত। আল্লাহ তাহাদিগের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই, তাহারা নিজেরাই নিজদিগের প্রতি জুলুম করিয়াছিল।

(৫৮) যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমি অবশ্যই তাহাদিগের বসবাসের জন্য সুউচ্চ প্রাসাদ দান করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, কত উত্তম প্রতিদান সংকর্মশীলদিগের।”

(৬৩) যদি তুমি উহাদিগকে জিজ্ঞাসা কর, ভূমি মৃত হইবার পর আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়া কে উহাকে সঞ্জীবিত করে?  উহারা অবশ্যই বলিবে ‘ আল্লাহ। ‘ বল,
‘প্রশংসা আল্লাহরই’। কিন্তু উহাদিগের অধিকাংশই ইহা অনুধাবন করে না।

(৬৫) উহারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন উহারা বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন স্থলে ভিড়াইয়া উহাদিগকে উদ্ধার করেন, তখন উহারা শিরকে লিপ্ত হয়।

সুরা রূমের ২৪, ৪১, ৪৬,৪৮,৪৯,আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৪) এবং তাঁহার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রহিয়াছে তিনি তোমাদিগকে প্রদর্শন করেন বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসা সঞ্চাররকরৃপে এবং তিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন ও তদ্বারা ভূমিকাকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন, ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য।

(৪১) মানুষের কৃতকর্মের দরুন সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়ে, যাহার ফলে উহাদিগকে উহাদিগের কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান যাহাতে উহারা ফিরিয়া আসে।

(৪৬) তাঁহার নিদর্শনাবলীর একটি যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দিবার জন্য ও তোমাদিগকে তাঁহার অনুগ্রহ আস্বাদন করাইবার জন্য এবং যাহাতে তাঁহার বিধানে নৌযানগুলি বিচরণ করে, যাহাতে তোমারা তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার ও তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।

(৪৮) আল্লাহ তিনি বায়ু প্রেরণ করেন, ফলে ইহা মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে, অতঃপর তিনি ইহাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়াইয়া দেন, পরে ইহাকে খন্ড-বিখন্ড করেন এবং তুমি দেখিতে পাও উহা হইতে নির্গত হয় বারিধারা,  অতঃপর যখন তিনি তাঁহার বান্দাদিগের মধ্যে যাহাদিগের নিকট ইচ্ছা ইহা পৌঁছাইয়া দেন, তখন উহারা হয় হর্ষোৎফুল্ল।

(৪৯) যদিও উহারা উহাদিগের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে নিরাশ ছিল।

সুরা লোকমানের ১০, ২৭, ৩১, ৩২,৩৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১০) তিনি আকাশমন্ডলী নির্মাণ করিয়াছেন স্তম্ভ ব্যাতীত-তোমরা ইহা দেখিতেছ, তিনিই পৃথিবীতে স্থানপ করিয়াছেন পর্বতমালা যাহাতে ইহা তোমাদিগকে লইয়া ঢলিয়া না পড়ে এবং ইহাতে ছড়াইয়া দিয়েছেন সর্বপ্রকার জীব-জন্তু। এবং আমিই আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করিয়া ইহাতে উদগত করি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদ।

(২৭) পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এই যে সমুদ্র ইহার সহিত যদি আরও সাত সমুদ্র যুক্ত হইয়া কালি হয়, তবুও আল্লাহর বাণী নিঃশেষ হইবে না। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

(৩১) তুমি কি লক্ষ্য কর না যে আল্লাহর অনুগ্রহে নৌযানগুলি সমুদ্রে বিচরণ করে, যদ্দ্বারা তিনি তোমাদিগকে তাঁহার নিদর্শননাবলী কিছু প্রদর্শন করেন? ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যাক্তির জন্য।

(৩২) যখন তরঙ্গ উহাদিগকে আচ্ছন্ন করে মেঘাচ্ছায়ার মত তখন উহারা আল্লাহকে ডাকে তাঁহার আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া। কিন্তু যখন তিনি উহাদিগকে উদ্ধার করিয়া স্থলে পৌঁছান তখন উহাদের কেহ কেহ সরল পথে থাকে,  কেবল বিশ্বাসঘাতক,অকৃতজ্ঞ ব্যাক্তিই তাঁহার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে।

(৩৪) কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ নিকট রহিয়াছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তার জানেন যাহা জরায়ুতে আছে। কেহ জানে না আগামীকল্য সে কি অর্জন করিবে এবং কেহ জানে না কোন স্থানে তাহার মৃত্যু ঘটিবে।  আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।

সূরা সাজদার ২৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৭) উহারা কি লক্ষ্য করে না, আমি ঊষর ভূমির উপর পানি প্রবাহিত করিয়া উহার সাহায্যে উদগত করি শস্য, যাহা হইতে আহার্য গ্রহন করে উহাদিগের আনআম এবং উহারাও? উহারা কি তবুও লক্ষ্য করিবে না?

সূরা সাবার ২, ১৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২) তিনি জানেন যাহা ভূমিতে প্রবেশ করে, যাহা উহা হইতে নির্গত হয় এবং যাহা আকাশ হইতে বর্ষিত ও যাহা কিছু আকাশে উত্থিত হয়। তিনিই পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল।

(১৬) পরে উহারা আদেশ অমান্য করিল। ফলে আমি উহাদিগের উপর প্রবাহিত করিলাম বাঁধ ভাঙা বন্যা এবং উহাদিগের উদ্যান দুইটিকে পরিবর্তন করিয়া দিলাম এমন দুইটি উদ্যানে যাহাতে উৎপন্ন হয় বিস্বাদ ফলমূল ঝাউ গাছ এবং কিছু কুল গাছ।

সূরা ফাতিরের ৯, ১২ ২৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৯) আল্লাহ বায়ু প্রেরণ করিয়া উহা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চালিত করেন। অতঃপর আমি উহা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর আমি উহা দ্বারা ধরিত্রীকে উহার মৃত্যুর পর সঞ্জীবত করি। পুনরুত্থান এইরূপেই হইবে।

(১২) দরিয়া দুইটি একরূপ নহে একটি পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হইতে তোমার তাজা গোশত আহার কর এবং অলংকার যাহা তোমরা পরিধান কর, এবং রত্নাবলী আহরণ কর এবং তোমরা দেখ উহার বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে যাহাতে তোমারা তাঁহার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করিতে পার এবং যাহাতে তোমারা কৃতজ্ঞ হও।

(২৭) তুমি কি দেখ না আল্লাহ আকাশ হইতে বৃষ্টিপাত করেন এবং আমি ইহা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফলমূল উদগত করি?  পাহাড়ের মধ্যে আছে বিচিত্র বর্ণের পথ শুভ্র লাল ও নিকষ কাল।

সুরা য়াসীনের ৩৩, ৪১,৪২,৪৩, ৭৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৩৩) উহাদিগের জন্য একটি নিদর্শন মৃত ধরিত্রী, যাহাকে আমি সঞ্জীবিত করি এবং যাহা হইতে উৎপন্ন করি শস্য যাহা উহারা ভক্ষণ করে।

(৪১) উহাদিগের এক নিদর্শন এই যে, আমি উহাদিগের বংশধরদিগকে বোঝাই নৌযানে আরোহন করাইয়াছিলাম।

(৪২) এবং উহাদিগের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করিয়াছি যাহাতে উহারা আরোহন করে।

(৪৩) আমি ইচ্ছা করিলে উহাদিগকে নিমজ্জিত করিতে পারি, সে অবস্থায় উহারা কোন সাহায্যকারী পাইবে না এবং উহারা পরিত্রাণও পাইবে না।

(৭৩) তাহাদিগের জন্য এইগুলোতে আছে বহু উপকারিতা আর আছে পানীয় বস্তু। তবুও কি তাহারা কৃতজ্ঞ হইবে না?

সূরা সাফফাতের ৪৫, ৬৭,৮২,১৪০, ১৪২ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৪৫) তাহাদিগকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া পরিবেশন করা হইবে বিশুদ্ধ সুরাপূর্ণ পাত্র।

(৬৭) তদুপরি উহাদিগের জন্য থাকিবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।

(৮২) অবশিষ্ট সকলকে আমি নিমজ্জিত করিয়াছিলাম।

(১৪০) স্মরণ কর, যখন সে পলায়ন করিয়া বোঝাই নৌযানে পৌছিল।

(১৪২) পরে এক বৃহদাকার মৎস্য তাহাকে গিলিয়া ফেলিল, তখন সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগিল।

সুরা সাদের ৩৬, ৩৭, ৪২, ৫১, ৫৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৩৬) তখন আমি তাহার অধীন করিয়া দিলাম বায়ুকে, যাহা তাহার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করিত সেথায় মৃদুমন্দ গতিতে প্রব্হিত হইত।

(৩৭) এবং শয়তানদিগকে যাহারা সকলেই ছিল প্রসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী।

(৪২) আমি তাহাকে বলিলাম ‘তুমি  তোমার পদ দ্বারা ভূমিতে আঘাত কর, এইতো গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়।

(৫১) সেথায় তাহারা আসীন হইবে হেলান দিয়া, সেথায় তাহারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয়ের জন্য আদেশ দিবে।

(৫৭) ইহা সীমালংঘনকারীদিগের জন্য। সুতরাং উহারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পূঁজ।

সুরা যুমার ২০, ২১ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২০) তবে যাহারা তাহাদিগের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদিগের জন্য আছে বহু প্রাসাদ যাহার উপর নির্মিত আরও প্রাসাদ, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভংগ করেন না।

(২১) তুমি কি দেখ না, আল্লাহ আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর ভূমিতে নির্ঝররৃপে প্রবাহিত করেন এবং তদ্দ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর ইহা শুকাইয়া যায় এবং তোমরা ইহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে তিনি উহা খড়-কুটায় পরিণত করেন? ইহাতে অবশ্যই উপদেশ রহিয়াছে বোধশক্তি সম্পনদিগের জন্য।

সুরা মুমিনের ৬৭, ৭২, ৮০ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৬৭) তিনিই তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন মৃত্তিকা হইতে, পরে শুক্রবিন্দু হইতে, তারপর ‘ আলাকা’ হইতে, তারপর তোমাদিগকে বাহির করেন শিশুরূপে, অতঃপর যেন তোমরা উপনীত হও যৌবনে, তারপর হও বৃদ্ধ। তোমাদিগের মধ্যে কাহারও ইহার পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং ইহা এইজন্য যে, তোমরা নির্ধারিত কালপ্রাপ্ত হও এবং যাহাতে তোমারা অনুধাবণ করিতে পার।

(৭২) ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর উহাদিগকে দগ্ধ করা হইবে অগ্নিতে।

(৮০) ইহাতে তোমাদিগের জন্য রহিয়াছে প্রচুর উপকার, তোমরা যাহা প্রয়োজন বোধ কর, ইহা দ্বারা তাহা পূর্ণ করিয়া থাক, এবং ইহাদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদিগকে বহন করা হয়।

সুরা হা-মীম-আস সাজদা’র ৩৯,  আয়াতে আল্লাহ

(৩৯) এবং তাঁহার একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখিতে পাও শুস্ক,উষর, অতঃপর আমি উহাতে বারি বর্ষণ করিলে উহা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়, যিনি ভূমিকে জীবিত করেন তিনিই মৃতের জীবনদানকারী। তিনি তো সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

See also  মালয়েশিয়া থেকে দুই জাহাজে এলো ৬৮ হাজার টন ডিজেল

সুরা শূরা’র ২৮, ৩২, ৩৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৮)  উহারা যখন হতাশাগ্রস্ত হইয়া পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি প্রেরণ করেন এবং তাঁহার করুণা বিস্তার করেন। তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসার্হ।

(৩২) তাঁহার অন্যতম নিদর্শন পর্বতসদৃশ সমুদ্রে চলমান নৌযান সমূহ।

(৩৩) তিনি ইচ্ছা করিলে বায়ুকে স্তব্ধ করিয়া দিতে পারেন, ফলে নৌযান সমূহ নিশ্চল হইয়া পড়িবে সমুদ্র পৃষ্ঠে। নিশ্চয়ই ইহাতে নিদর্শন রহিয়াছে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যাক্তির জন্য।

সুরা যুখরুফের ১১, ১২, ৫১, ৫৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১১) এবং যিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। এবং আমি তদ্দ্বারা সঞ্জীবিত করি নির্জীব ভূখণ্ডকে। এইভাবেই তোমাদিগকে পুনরুত্থিত করা হইবে।

(১২) এবং যিনি যুগলসমূহের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদিগের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও আন’আম যাহাতে তোমারা আরোহন কর।

(৫১) ফির’আওন তাহার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলিয়া ঘোষণা করিল ‘হে আমার সম্প্রদায়! মিসর রাজ্য কি আমার নহে? এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত, তোমরা ইহা দেখ না?

(৫৫) যখন উহারা আমাকে ক্রোধান্বিত করিল আমি উহাদিগকে শাস্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত করিলাম উহাদিগের সকলকে।

সুরা দুখানের ২৪, ২৫, ২৯, ৪৫, ৪৬, ৪৮, ৫২ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৪) সমুদ্রকে স্থির থাকিতে দাও, উহারা এমন এক বাহিনী যাহা নিমজ্জিত হইবে।

(২৫) উহারা পশ্চাতে রাখিয়া গিয়েছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ।

(২৯) আকাশ এবং পৃথিবী কেহই উহাদিগের জন্যে অশ্রুপাত করে নাই এবং উহাদিগকে অবকাশও দেওয়া হয নাই।

(৪৫) গলিত তাম্রের মত, উহা উহার উদরে ফুটিতে থাকিবে।

(৪৬) ফুটন্ত পানির মত।

(৪৮) অতঃপর উহার মস্তকের উপর ফুটন্ত পানি ঢালিয়া শাস্তি দাও।

(৫২) উদ্যাণ ও ঝর্ণার মাঝে

সুরা জাছিয়া’র ৫, ১২ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৫)  নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য, রাত্রি ও দিবসের পরিবর্তনে আল্লাহ আকাশ হইতে যে বারিবর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে তাহার মৃত্যুর পর পূনরুজ্জীবিত করেন তাহাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে।

(১২) আল্লাহই তো সমুদ্রকে তোমাদিগের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন,যাহাতে তাঁহার আদেশে উহাতে নৌযানসমূহ চলাচল করিতে পারে এবং যাহাতে তোমারা তাঁহার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করিতে পার ও তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।

সুরা আহকাফের ২৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

” অতঃপর যখন উহাদিগের উপত্যকার দিকে মেঘ আসিতে দেখিল তখন উহারা বলিতে লাগিল, ‘ উহা তো মেঘ, আমাদিগকে বৃষ্টি দান করিবে ‘ হুদ বলিল, ইহাই তো তাহা, যাহা তোমারা ত্বরান্বিত করিতে চাহিয়াছ, ইহাতে রহিয়াছে এক ঝড়-মর্মন্তদ শাস্তি বহনকারী।

সুরা মুহাম্মাদের ১২,১৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১২) যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, কিন্তু যাহারা কুফরি করে, ভোগ-বিলাসে মগ্ন থাকে এবং জন্তু- জানোয়ারের মত উদর পূর্তি করে, তাহাদিগের নিবাস জাহান্নাম।

(১৫) মুত্তাকীদিগের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহার দৃষ্টান্ত, উহাতে আছে নির্মল পানির নহর, আছে দুধের নহর যাহার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদিগের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর, আছে পরিশোধিত মধুর নহর এবং সেথায় উহাদিগের জন্য থাকিবে বিবিধ ফলমূল ও তাহাদিগের প্রতিপালকের ক্ষমা।মুত্তাকীরা কি তাহাদিগের ন্যায় যাহারা জাহান্নামে স্থায়ী হইবে এবং যাহাদিগকে পান করিতে দেওয়া হইবে ফুটন্ত পানি যাহা উহাদিগের নাড়িভুড়ি ছিন্ন-বিছিন্ন করিয়া দিবে?

সূরা ফাতহের ৫, ১৭ আয়াতে আল্লাহ বলেন
(৫) ইহা এই জন্য যে, তিনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত, যেথায় তাহারা স্থায়ী হইবে এবং তিনি তাহাদিগের পাপ মোচন করিবেন; ইহাই আল্লাহর দৃষ্টিতে মহাসাফল্য।

(১৭) অন্ধের জন্য, খঞ্জের জন্য, রুগ্নের জন্য কোন অপরাধ নাই ; এবং যে-কেহ আল্লাহ  ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করিবে আল্লাহ তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত; কিন্তু যে ব্যাক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিবে তিনি তাহাকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন।

সূরা ‘কাফ’ এরের ৯,১১ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৯)  আকাশ হইতে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তদ্দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যাণ ও পরিপক্ব শস্যরাজি।

(১১) আমার বান্দাদিগের জীবিকাস্বরূপ; বৃষ্টি দ্বারা আমি সঞ্জীবিত করি মৃত ভূমিকে; এইভাবে পুনরুত্থান ঘটিবে।

সূরা যারিয়াতের ১, ২, ৩, ১৫, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১) শপথ ধূলিঞ্ঝার।

(২) শপথ বোঝাবহনকারী মেঘপুঞ্জের

(৩) শপথ স্বচ্ছগতি নৌযানের

(১৫) সে দিন মুত্তাকীরা থাকিবে প্রস্রবণবিশিষ্ট জান্নাতে।

(৪০) সুতরাং আমি তাহাকে ও তাহার দলবলকে শাস্তি দিলাম এবং উহাদিগকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম, সে তো ছিল তিরস্কার-যোগ্য।

(৪১) এবং নিদর্শন রহিয়াছে ‘আদের ঘটনায়,যখন আমি তাহাদিগের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলাম অকল্যাণকর বায়ু।

(৪২) ইহা যাহা কিছুর উপর দিয়া বহিয়া গিয়েছিল তাহাকেই চূর্ণ-বিচূর্ণ করিয়া দিয়াছিল।

(৪৪) কিন্তু উহারা উহাদিগের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করিল ; ফলে উহাদিগের প্রতি বজ্রাঘাত হইল এবং উহারা উহা দেখিতেছিল।

সূরা তূরের ৬, ১৯,২৩, ৪৪,৪৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৬) এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের।

(১৯) তোমারা যাহা করিতে তাহার প্রতিফলস্বরুপ তোমরা তৃপ্তির সহিত পানাহার করিতে থাক।

(২৩) সেথায় তাহারা একে অপরের নিকট হইতে গ্রহণ করিবে পানপাত্র, যাহা হইতে পান করিলে কেহ অসার কথা বলিবে না এবং পাপ কর্মেও লিপ্ত হইবে না।

(৪৪) উহারা আকাশের কোন খন্ড ভাঙ্গিয়া পড়িতে দেখিলে বলিবে, ‘ইহা তো এক পূন্জিভূত মেঘ’।

(৪৫) উহাদিগকে উপেক্ষা করিয়া চল সেইদিন পর্যন্ত, যেদিন উহারা বজ্রাঘাতের সম্মুখীন হইবে।

সূরা কামারের ১১,১২,১৩, ১৯,২৮,৩১,৩৪,৫৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১১) ফলে আমি উন্মুক্ত করিয়া দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারি বর্ষণে।

(১২) এবং মৃত্তিকা হইতে উৎসারিত করিলাম প্রস্রবণ; অতঃপর সকল পানি মিলিত হইল এক পরিকল্পনা অনুসারে।

(১৩) তখন নূহকে আরোহন করাইলাম কাষ্ঠ ও কীলক নির্মিত এক নৌযানে।
(১৯) উহাদিগের উপর আমি প্রেরণ

করিয়াছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে।

(২৮) এবং উহাদিগকে জানাইয়া দাও যে, উহাদিগের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে উপস্থিত হইবে পালাক্রমে।

(৩১) আমি উহাদিগকে আঘাত হানিয়াছিলাম এক মহানাদ দ্বারা ; ফলে, উহারা হইয়া গেল খোয়াড়-প্রস্তুতকারীর বিখন্ডিত শুস্ক শাখা-প্রশাখার ন্যায়।

(৩৪) আমি উহাদিগের উপর প্রেরণ করিয়াছিলাম প্রস্তর বহনকারী প্রচন্ড ঝটিকা, কিন্তু লূত পরিবারের উপর নহে ; তাহাদিগের আমি উদ্ধার করিয়াছিলাম রাত্রির শেষাংশে।

(৫৪) মুত্তাকীরা থাকিবে স্রোতস্বিনী বিধৌত জান্নাতে।

সূরা রাহমানের আয়াতে ১৯,২০,২২,২৪,৪৪,৫০,৫৮,৬৬, আল্লাহ বলেন

(১৯) তিনি প্রবাহিত করেন দুই দরিয়া যাহারা পরস্পর মিলিত হয়।

(২০) কিন্তু উহাদিগের মধ্যে রহিয়াছে এক অন্তরাল যাহা উহারা অতিক্রম করিতে পারে না।

(২২) উভয় দরিয়া হইতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।

(২৪) সমুদ্রে বিচরণশীল পর্বতপ্রমাণ অর্ণব -পোতসমূহ তাঁহারই নিয়ন্ত্রণাধীন।

(৪৪) উহারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটাছুটি করিবে?

(৫০)  উভয় উদ্যানে রহিয়াছে প্রবহমান দুই প্রস্রবণ;

(৫৮) তাহারা যেন প্রবাল ও পদ্মরাগ

(৬৬) উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ

সূরা ওয়াকি’আ’র ১৮,৩১, ৪২, ৫৪,৫৫,৬৮,৬৯,৭০,৯৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১৮) পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ-নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা লইয়া।

(৩১) সদা প্রবহমান পানি

(৪২) উহারা থাকিবে অত্যুষ্ঞ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে।

(৫৪) তারপর তোমারা পান করিবে অত্যুষ্ঞ পনি

(৫৫) কিয়ামতের দিন ইহাই হইবে উহাদিগের আপ্যায়ন।

(৬৮) তোমরাই কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?

(৬৯) তোমরাই কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?

(৭০) আমি ইচ্ছা করিলে উহা লবনাক্ত করিয়া দিতে পারি।  তবুও কেন তোমারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

(৯৩) তবে রহিয়াছে আপ্যায়ন অত্যুষ্ঞ পানির দ্বারা।

সূরা হাদীদের ১২, ২০ আয়াতে আল্লাহ বলেন
(১২) সে দিন তুমি দেখিবে মু’মিন নর-নারীগণকে তাহাদিগের সম্মুখভাগে ও দক্ষিণ পার্শ্বে তাহাদিগের জ্যোতি প্রধাবিত হইবে। বলা হইবে ‘ আজ জান্নাতের, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তোমারা স্থায়ী হইবে,  ইহাই মহাসাফল্য।’

(২০) তোমারা জানিয়া রাখ, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক শ্লাঘা, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যাতীত আর কিছু নয়; উহার উপমা বৃষ্টি, যদ্বারা উৎপন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদিগকে চমৎকৃত করে, অতঃপর উহা শুকাইয়া যায়, ফলে তুমি উহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে উহা খড়কুটায় পরিণত হয়। পরকালে রহিয়াছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যাতীত কিছুই নয়।

সূরা মুজাদালা’র ২২ আয়াতে আল্লাহ বলেন “

তুমি পাইবে না আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাসী এমন কোন সম্প্রদায়, যাহারা ভালোবাসে আল্লাহ ও তাঁহার রাসুলের বিরুদ্ধাচারিগণকে-হউক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাহাদিগের পিতা,পুত্র, ভ্রাতা অথবা ইহাদিগের জ্ঞাতি-গোত্র। ইহাদিগের অন্তরে আল্লাহ সুদৃঢ় করিয়াছেন ঈমান এবং তাহাদিগকে শক্তিশালী করিয়াছেন তাঁহার পক্ষ হইতে রূহ দ্বারা। তিনি ইহাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেথায় ইহারা স্থায়ী হইবে ; আল্লাহ উহাদিগের প্রতি প্রসন্ন এবং ইহারাও তাঁহাতে সন্তুষ্ট, ইহারাই আল্লাহর দল। জানিয়া রাখ,  আল্লাহর দলই সফলকাম। ”

সূরা সাফফের ১২ আয়াতে আল্লাহ বলেন ” আল্লাহ তোমাদিগের পাপ ক্ষমা করিয়া দিবেন এবং তোমাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহ। ইহাই মহাসাফল্য।”

সূরা তাগাবুনের ৯ আয়াতে আল্লাহ বলেন “

স্মরণ কর, যে দিন তিনি তোমাদিগকে সমবেত করিবেন সমাবেশ দিবসে সে দিন হইবে লাভ-লোকসানের দিন। যে ব্যাক্তি আল্লাহে বিশ্বাস করে  ও সৎকর্ম করে  তিনি তাহার পাপ মোচন করিবেন এবং তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা হইবে চিরস্থায়ী। ইহাই মহাসাফল্য।”

সূরা তাহরীমের ৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন

” হে মু’মিনগণ! তোমারা আল্লাহর নিকট তওবা কর- বিশুদ্ধ তওবা ; সম্ভবত তোমাদিগের প্রতিপালক তোমাদিগের মন্দকর্মগুলি মোচন করিয়া দিবেন এবং তোমাদিগকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেইদিন আল্লাহ নবী এবং তাহার মু’মিন সঙ্গীদিগকে অপদস্ত করিবেন না। তাহাদিগের জ্যোতি তাহাদিগের সম্মুখে ও দক্ষিণ পার্শ্বে ধাবিত হইবে,  তাহারা বলিবে, ‘ হে আমাদিগের প্রতিপালক! আমাদিগের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান কর এবং আমাদিগকে ক্ষমা কর, তুমি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।”

সূরা তালাকের ১১ আয়াতে আল্লাহ বলেন

“প্রেরণ করিয়াছেন এমন এক রাসূল, যে তোমাদিগের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করে, যাহারা মু’মিন ও সৎকর্মপারায়ণ তাহাদিগকে অন্ধকার হইতে আলোতে আনিবার জন্য।  যে -কেহ আল্লাহে বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তিনি তাহাকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে ; আল্লাহ তাহাকে উত্তম জীবনোপকরণ দিবেন। ”

সুরা মুলক এর১৭,৩০ নাম্বারে আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন

(১৭) অথবা তোমারা কি নিশ্চিত আছ যে, আকাশে যিনি রহিয়াছেন তিনি তোমাদিগের উপর কঙ্করবর্ষী ঝঞ্ঝা প্রেরণ করিবেন ন? তখন তোমারা জানিতে পারিবে কি রূপ ছিল আমার সতর্কবাণী!

( ৩০) ‘বল, তোমারা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি?  যদি  পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাহিরে চলিয়া যায়, কে তোমাদিগকে আনিয়া দিবে প্রবহমান নদী’

সূরা হাককা’র ৬,৭,১১,২৪, আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৬) আর ‘আদ সম্প্রদায়, ইহাদিগকে ধ্বংস করা হইয়াছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা।

(৭) যাহা তিনি উহাদিগের উপর প্রবাহিত করিয়াছিলেন সপ্তরাত্রি ও অষ্টদিবস বিরামহীনভাবে; তখন তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখিতে -উহারা সেথায় লুটাইয়া পড়িয়া আছে সারশূন্য বিক্ষিপ্ত খর্জূর কান্ডের ন্যায়।

(১১) যখন জলোচ্ছ্বাস হইয়াছিল তখন আমি তোমাদিগকে আরোহন করাইয়া ছিলাম নৌযানে।

(২৪) তাহাদিগকে বলা হইবে, ‘পানাহার কর তৃপ্তির সহিত,  তোমারা অতীত দিনে যাহা করিয়াছিলে তাহার বিনিময়ে।”

সৃরা নূহের ১১,১২,২৫  আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১১) তিনি তোমাদিগের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করিবেন।

(১২) তিনি তোমাদিগকে সমৃদ্ধ করিবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদিগের জন্য স্থাপন করিবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করিবেন নদী-নালা।

(২৫) উহাদিগের অপরাধের জন্য উহাদিগকে নিমজ্জিত করা হইয়াছিল এবং পরে উহাদিগকে দাখিল করা হইয়াছিল অগ্নিতে,অতঃপর উহারা কাহাকেও আল্লাহর মুকাবিলায় পায় নাই সাহায্যকারী।

সূরা জিন’ এর ১৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন

” উহারা যদি সত্যপথে প্রতিষ্ঠিত থাকিত উহাদিগকে আমি প্রচুর বারি বর্ষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করিতাম।

সূরা দাহর বা ইনসানের ৫,৬ ১৫,১৬,১৭,১৮,২১,
আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৫) সৎকর্মশীলেরা পান করিবে এমন পানীয় যাহার মিশ্রণ কাফূর–

(৬) এমন একটি প্রস্রবণের যাহা হইতে আল্লাহর বান্দগণ পান করিবে, তাহারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করিবে।

(১৫) তাহাদিগকে পরিবেশ করা হইবে রৌপ্যপাত্রে এবং স্ফটিকের মত স্বচ্ছ

পান-পাত্রে-

(১৬) রজতশুভ্র স্ফটিক -পাত্র, পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমাণে উহা পূর্ণ করিবে।

(১৭) সেথায় তাহাদিগকে পান করিতে দেওয়া হইবে যানজাবীল মিশ্রিত পানীয়,

(১৮) জান্নাতের এমন এক প্রস্রবণের যাহার নাম সালসাবীল।

(২১) তাহাদিগের আবরণ হইবে সুক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থুল রেশম, তাহারা অলংকৃত হইবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাহাদিগের প্রতিপালক তাহাদিগকে পান করাইবেন বিশুদ্ধ পানীয়।

সূরা মুরসালাতের ১, ২, ৩, ৪, ২০, ২৭, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১) শপথ কল্যাণস্বরুপ প্রেরিত বায়ুর,

(২) আর প্রলয়ংকরী ঝটিকার,

(৩) শপথ সঞ্চালনকারী বায়ুর,

(৪) আর মেঘপুঞ্জ বিছিন্নকারী বায়ুর

(২০) আমি কি তোমাদিগকে তুচ্ছ পানি হইতে সৃষ্টি করি নাই?

(২৭) আমি উহাতে স্থাপন করিয়াছি সুদৃঢ় উচ্চ পর্বতমালা এবং তোমাদিগকে দিয়াছি সুপেয় পানি।

(৪১) মুত্তাকীরা থাকিবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে।

(৪২) তাহাদিগের বাঞ্ছিত ফলমূলের প্রাচুর্যের মধ্যে

(৪৩) তোমাদিগের কর্মের পুরস্কার স্বরূপ তোমারা তৃপ্তির সহিত পানাহার কর।

(৪৬) তোমরা পানাহার কর এবং ভোগ করিয়া লও অল্প কিছু দিন,  তোমরা তো অপরাধী।

সূরা নাবা’র ১৪, ১৫, ১৬, ২৪,২৫,৩৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(১৪) এবং বর্ষণ করিয়াছি মেঘমালা হইতে প্রচুর বারি।

(১৫) তদ্বারা আমি উৎপাদন করি শস্য, উদ্ভিদ,

(১৬) ও ঘন-সন্নিবিশিষ্ট উদ্যান

(২৪) সেথায় উহারা আস্বাদন করিবে না শৈত্য, না কোন পানীয়–

(২৫) ফুটন্ত পানি ও পূঁজ ব্যাতীত

(৩৪) এবং পূর্ণ পান-পাত্র।

সূরা নাযি’য়াতের ৩১ আয়াতে আল্লাহ বলেন

” তিনি উহা হইতে বহির্গত করিয়াছেন উহার পানি ও তৃণ।

সূরা আবাসা’র ২৫, ২৬,২৭,২৮,২৯, ৩০,৩১,৩২ আয়াতে আল্লাহ বলেন

  (২৫) আমি প্রচুর বারি বর্ষণ করি,

(২৬) অতঃপর আমি ভূমি প্রকৃষ্টরূপে বিদারিত করি:

(২৭) এবং উহাতে আমি উৎপন্ন করি শস্য ;

(২৮) দ্রাক্ষা, শাক-সবজি,

(২৯) যয়তুন, খর্জূর,

(৩০) বহুবৃক্ষ-বিশিষ্ট উদ্যান,

(৩১) ফল এবং গবাদির খাদ্য,

(৩২) ইহা তোমাদিগের ও তোমাদিগের আন’আমের ভোগের জন্য।

সূরা তাকবীরের ৬ আয়াতে আল্লাহ বলেন

“সমুদ্র যখন স্ফীত হইবে”

সূরা ইনফিতারের ৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন
” সমুদ্র যখন উদ্বেলিত হইবে”

সূরা মুতাফফিফীনের ২৫, ২৬,২৭, ২৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(২৫) তাহাদিগকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হইতে পান করান হইবে ;

(২৬) উহার মোহর মিসকের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।

(২৭) উহার মিশ্রণ হইবে তাসনীমের,

(২৮) ইহা একটি প্রস্রবণ, যাহা হইতে সান্নিধ্যপ্রাপ্তরা পান করে।

সূরা বুরুজের ১১ আয়াতে আল্লাহ বলেন

“যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদিগের জন্য আছে জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; ইহাই মহাসাফল্য।

সূরা তারিকের ৫, ৬, ৭  ১১, ১২ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৫) সুতরাং মানুষ প্রণিধান করুক কী হইতে তাহাকে সৃষ্টি করা হইয়াছে।

( ৬) তাহাকে সৃষ্টি করা হইয়াছে সবেগে স্খলিত পানি হইতে।

(৭)  ইহা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও পঞ্জরাস্থির মধ্য হইতে।

(১১) শপথ আসমানের, যাহা ধারণ করে বৃষ্টি।

(১২) এবং শপথ যমীনের, যাহা বিদীর্ণ হয়।

সূরা গাশিয়া’র ৫,১২,১৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন

(৫) উহাদিগকে অত্যুষ্ঞ প্রস্রবণ হইতে পান করান হইবে।

(১২) সেথায় থাকিবে বহমান প্রস্রবণ।

(১৪) প্রস্তুত থাকিবে পান-পাত্র।

সূরা শামসের ১৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন

” তখন আল্লাহর রাসূল উহাদিগকে বলিল, ‘ আল্লাহর উষ্ট্রী ও উহাকে পানি পান করাইবার বিষয়ে সাবধান হও’।”

সূরা বায়্যিনা’ ৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন

” তাহাদিগের প্রতিপালকের নিকট আছে তাহাদিগের পুরস্কার -স্থায়ী জান্নাত,  যাহার নিন্মদেশে নদী প্রবাহিত, সেথায় তাহারা চিরস্থায়ী হইবে ; আল্লাহ তাহাদিগের প্রতি প্রসন্ন এবং তাহারাও তাঁহাতে সন্তুষ্ট ; ইহা তাহার জন্য, যে তাহার প্রতিপালককে ভয় করে।

সূরা কাওসারের ১ আয়াতে আল্লাহ বলেন ” আমি অবশ্যই তোমাকে কাওসার দান করিয়াছি।”

-লেখক সহকারী অধ্যাপক, চারবার জাতীয় পদক প্রাপ্ত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন এআইপি matinsaikot507@gmeil.com,০১৮১৮-৮৬৬৫২২

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চৌদ্দগ্রামে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন

নীলফামারীতে বিশ্ব মৌমাছি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 

পানি সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত

রাফিয়াত নাসির কথা, এক উজ্জ্বল নক্ষত্র!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমানের সঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী  জাকারিয়া তাহের সুমন এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

 শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি আটক

ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুরে ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ সম্পন্ন

সিরাজগঞ্জ রোডে হয় গরু ডাকাতি, মাংস যায় রাজধানীর সুপার শপে

মেয়েদের পড়াশোনা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্য করা হবে: চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগতম ও শুভেচ্ছা জানালেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল

১০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু

১১

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদাকে ‘পরম স্নেহে’ কাছে ঢাকলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১২

কুমিল্লাকে বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করা হবে- প্রধানমন্ত্রী

১৩

জামালপুর সদরে প্রায় ‌দেড় শতাধিক ইলেকট্রিশিয়ানদের নিয়ে এমইপি গ্রুপের মতবিনিময় সভা 

১৪

একবছরে ৫০ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে : লাকসামে প্রধানমন্ত্রী

১৫

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. এম এম শরীফুল করিম

১৬

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে লাকসামে বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

১৭

চৌদ্দগ্রামে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ

১৮

বেড়িবাঁধ সংস্কারের আড়ালে রাঙ্গাবালীতে প্রায় ৫০০ গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

১৯

বেনাপোলে ধান্যখোলা এলাকায় বিজিবি ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল সহ আটক-২

২০