ডেস্ক নিউজ
একসময় ঢাকার প্রাণ হিসেবে পরিচিত বুড়িগঙ্গা নদী এখন প্লাস্টিক, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্যে দূষিত। নদীদূষণ রোধ এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। যৌথ উদ্যোগে বুড়িগঙ্গায় চালু করা হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোয়ারীঘাট লঞ্চঘাটে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
এই উদ্যোগের আওতায় নদী ও নদীর পাড় থেকে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় জমা দিলে এর বিনিময়ে অংশগ্রহণকারীদের চাল, ডাল, তেল, আটা মাছ, মুরগি, ডিম, লবণ, বিস্কুট, নুডলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এক কেজি বর্জ্য জমা দিলে এক কেজি চাল বা ছয়টি ডিম বা ৫০০ গ্রাম সুজি, দুই কেজি বর্জ্যে এক কেজি ছোলা, তিন কেজি বর্জ্যে এক কেজি মসুর ডাল এবং পাঁচ কেজি বর্জ্য জমা দিলে এক লিটার সয়াবিন তেল দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের লক্ষ্য, বর্জ্য সংগ্রহে মানুষকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বর্জ্যকে শুধু আবর্জনা হিসেবে না দেখে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনার মানসিকতা তৈরি করা। একই সঙ্গে নদী ও এর আশপাশের এলাকায় বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমিয়ে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকরা বলছেন, নদী দূষণ রোধে শুধু বর্জ্য পরিষ্কার করলেই হবে না; বর্জ্য যেন নদীতে না পৌঁছায়, সে বিষয়ে মানুষের আচরণ ও অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
উদ্যোগটির মাধ্যমে একটি বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা—‘বর্জ্য ফেলবেন না, জমা দিন; নদী বাঁচান, জীবন বাঁচান।’
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও ডিএসসিসির প্রত্যাশা, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদী ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত নদী গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
মন্তব্য করুন