ডেস্ক নিউজ
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একইদিন কাফরুল থানার সামনে একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়।
রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে আছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এটি মূলত বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের আগাম তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তা পুলিশ সদর দপ্তরের গোপনীয় শাখায় পাঠায়।
পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ শাখাও (এসবি) একই কাজ করে। অপরাধ বা নাশকতার সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগাম তথ্য তাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানা ও ইউনিটকে সতর্ক করার ব্যবস্থা করা হয়। সেই সঙ্গে ডিজিএফআই, এনএসআই ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও তারা তথ্য পেয়ে থাকে।
এরপরও শুক্রবার রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং সম্প্রতি অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। শুধু গুলশান নয়, গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই এমন ঝটিকা মিছিলের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে তা কাজে লাগানোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আগাম তথ্যের ঘাটতি ও পুলিশি দুর্বলতার কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন। সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন তারা। আগাম তথ্য না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না পুলিশ। আবার তথ্য পেলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া আছে বাহিনীর ভেতর থেকেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনাও।
মন্তব্য করুন