ডেস্ক নিউজ
চট্টগ্রামের চকবাজারে কলেজছাত্রকে জিম্মি করে মারধর, চাঁদাবাজি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুটি মোবাইল ফোন এবং সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, সামির আহম্মেদ (২২), মোহাম্মদ আকরাম হোসেন জয় (২৩), কাজী মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন (২৩), মোহাম্মদ আহনাফুল আলম ওরফে আদিব (২১) এবং মোহাম্মদ হাসনাত (২২)।
চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদ সিফাত চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সামির আহম্মেদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সামিরের ডাকে কে বি আমান আলী রোডের সালেহ আহম্মেদ বাই লেইনসংলগ্ন মাঠে যান সিফাত। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করছিলেন অন্য আসামিরা।
এ সময় চাকু ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে সিফাতের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা দুই হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার প্যান্টের পকেটে একটি সিগারেটের প্যাকেট ঢুকিয়ে ইয়াবা পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সিফাতের ভিডিও ধারণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। টাকা না দিলে হত্যা এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে সিফাতের মা আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা ধার করে তার ব্যবহৃত নগদ নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। আসামিরা পরে সেই টাকা বিভিন্ন নম্বরে স্থানান্তর করে নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে সিফাতকে ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয় এবং তার পিঠ, গলা ও মাথায় মারধর করা হয়। পরে মামলা করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথমে চকবাজারের ওমর আলী মাতব্বর রোড এলাকার একটি বাসা থেকে সামির আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদার পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে আকরাম হোসেন জয়কে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাজী রাকিব হোসাইন ও আহনাফুল আলম আদিবকে নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পলাতক আসামি আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে তারা ভুক্তভোগীর আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স মোহাম্মদ হাসনাতের কাছে বিক্রি করেন। পরে চকবাজারের বালি আর্কেড মার্কেটের চতুর্থ তলায় ‘আপগ্রেড’ নামের মোবাইল ফোনের দোকানে অভিযান চালিয়ে হাসনাতকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন