সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লায় আইফোন ছিনিয়ে নিতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ৩ আসামি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি সদর দক্ষিণ উপজেলায়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ছবি তোলা ও টিকটক করার সুবাদে অপ্রতিমের সঙ্গে ‘অসম বন্ধুত্ব’ গড়ে তোলে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯)। তুহিন ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত এক কিশোর মিলে ঘটনার এক সপ্তাহ আগেই আইফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে সদর দক্ষিণের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় তুহিন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল অপর দুই কিশোর।
একপর্যায়ে কৌশলে অপ্রতিমের আইফোনটি হাতে নিয়ে তা ফেরত চাওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় তুহিন ও তার দুই সহযোগী পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে অপ্রতিমকে হত্যা করে। পরে তুহিন ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা
হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা স্বাভাবিক আচরণের ভান করে। পরদিন স্বজনদের সঙ্গে অপ্রতিমকে খোঁজার নাটক করে। এমনকি ১৯ সেপ্টেম্বর জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর দুই কিশোর ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাসও দেয়।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মূল হোতা তুহিনকে শনাক্ত করে। এরপর তাকে ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনজনই হত্যার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত জবানবন্দি দেয়।
এছাড়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ঘটনার কথা জেনেও তা গোপন করার অভিযোগে তুহিনের বন্ধু মো. সিয়াম (১৯) কে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আদালতে আসামিরা বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। মামলার বাকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন