৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বন্যার স্রোত ধেয়ে আসতেই ছুটির ঘণ্টা বাজালেন প্রধান শিক্ষক, বাঁচল ১৬৪৩ শিক্ষার্থী প্রাণ

ডেস্ক নিউজ

নেপালের এই মহাবিপর্যয়ের মাঝেও স্বর্গদূত রূপে আবির্ভুত হয়েছিলেন কেউ কেউ। তাদেরেই একজন ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ভয়াবহ পাহারি বন্যার স্রোত পানি স্কুলের দিকে ধেয়ে আসছে—এমন সতর্কবার্তা পেয়েই এক মুহূর্তও দেরি না ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্কুল থেকে বের করে দেন তিনি। তার সেই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তেই প্রাণে বেঁচে যায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশু।

তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীতে ভয়াবহ স্রোত নেমে আসছে এবং গ্রামের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।

বন্ধু তাকে বলেছিলেন, ‘গ্রামটি আর নেই, নদী সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমাকে দৌড়াতে বলেছে।’

তখন তিনতলা স্কুল ভবন ও এর আশপাশে ছিল ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এরই মধ্যে পাহাড়ি নদীগুলো ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।

৪৭ বছর বয়সি ইংরেজির শিক্ষক দাওয়াদি প্রথমে ভেবেছিলেন, স্কুলটি নিরাপদ। কংক্রিটের তৈরি ভবনটি নদীর চেয়ে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। এমনকি গ্রামের সঙ্গে নদীর পূর্ব তীরের সংযোগকারী স্টিলের সেতুটিও স্কুলের সমান উচ্চতায় ছিল। কিন্তু এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ছুটে এসে জানান, পানি খুব দ্রুত বাড়ছে।

দাওয়াদি সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন। তিনি স্কুলবাসের চালকদের ফোন করে বাস ঘুরিয়ে আনতে বলেন। তবে একজন চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর নিজের চোখেই দেখেন, সেই বাসটি সেতু পার হচ্ছে।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে, তারা বড় বিপদের মধ্যে পড়েছে। এক ছাত্রী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে উঁচু এলাকায় নেওয়া হয়। অন্যরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটতে থাকে। তাদের পেছন পেছন ছুটছিলেন দাওয়াদিও।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা একটি বোধিবৃক্ষের নিচে আশ্রয় নেয়। আর সেই সময় ভয়ংকর স্রোত তাদের স্কুল ভবনসহ আশপাশের স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মীদের প্রায় সবাই প্রাণে বেঁচে যান।

See also  বিশ্ববাজারে ২ বছরের মধ্যে রেকর্ড ছাড়াতে পারে স্বর্ণের দাম

তবে স্কুলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক ৩২ বছর বয়সি সান্তোষ পারিয়ার বাঁচপারেননি। নদীর পাশে ভাড়া বাসায় নাশতা রান্না করতে ফিরে গিয়ে তিনি স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারান।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাওয়াদিকে নায়ক হিসেবে দেখছেন। কিতে ন্তু নিজেকে নায়ক মনে করেন না তিনি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের কাদামাখা ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে ৪৭ বছর বয়সী প্ধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি মনে করেন, ‘তার ভূমিকা ছিল আর দশজনের মতোই সাদামাটা’।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অর্থপাচার ও অপরাধ দমনে হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

১

গাজীপুরে পুলিশের তিন মামলায় আসামি ৪ হাজার, গ্রেফতার ৩০

২

দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি -মো. নাহিদ ইসলাম

৩

২২৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২০৬০ টাকা নির্ধারণ

৪

বেনাপোলে প্রতারণা মামলার তালিকাভুক্ত দুই আসামি কে গ্রেপ্তার

৫

জামালপুরে যুব দিবস উপলক্ষে বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

৬

সেবার মানোন্নয়নে অতিরিক্ত দায়িত্বে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা

৭

মালদ্বীপে ফেনীর দুই বিএনপি নেতাকে প্রবাসী বিএনপির সংবর্ধনা

৮

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মনিরুল হক চৌধুরী এমপির মতবিনিময়

৯

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩৪০ হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য কর্তন করা ১০ কোটি টাকার বেশি ফেরত

১০

চৌদ্দগ্রামে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

১১

কুমিল্লা জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতার সদস্যপদ বাতিল

১২

কুমিল্লায় অস্ত্র হাতে কিশোর গ্যাংয়ের স্লোগান, গ্রেপ্তার ৪

১৩

  সন্তানের  জিপিএ -5  অর্জনে দেশবাসীর কাছে  দোয়া কামনা করেছেন “এমপি মোশারফ হোসেন

১৪

সিনিয়র হিসেবে আমার আরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল: শান্ত

১৫

বিমানের নামে ভুয়া নিয়োগ ফরম, তথ্য-অর্থ লেনদেনে সতর্ক করলো কর্তৃপক্ষবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

১৬

‘আমি একা ভালো ফল করে কী করব, বন্ধুরাও ভালো করুক’

১৭

সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার অংশগ্রহণে সাইবার নিরাপত্তা সুশাসন কর্মশালা

১৮

কুমিল্লা বোর্ডে ১৫ কলেজে পাস করেননি কেউ, শতভাগ পাস মাত্র ৪টিতে

১৯

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষের জয়

২০