ডেস্ক নিউজ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা বা এমএলএআর চেয়েছিল বাংলাদেশ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সহায়তা চাওয়া হয়। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন থেকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে দুই ডজনেরও বেশি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে।
এদিকে ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্তের সুপারিশ করেছে দুদক।
আকতারুল ইসলাম জানান, নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে পাচার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নিতে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীতে তদন্তাধীন মামলার সঙ্গে অভিযোগটি সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন। গত বছরের ২০ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও তার স্ত্রী ডা. জাহানারা আরজুর নামে মামলা করে দুদক।
অন্যদিকে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যানের কাছে পাঠানো এমএলএআরের আওতায় অনুরোধ করা সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এমএলএআর পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইল অব ম্যান নামক দ্বীপ রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তি ফ্রিজ করার তথ্য জানিয়েছে। বিদেশে সম্পদ পাচার ও গোপন সম্পদের তথ্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এসব এমএলএআর পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন