সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
নির্ধারিত সময়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। টয়লেটের অভাবে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরুড়া পৌর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন টয়লেটটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। নতুন ওয়াশ ব্লকের ভিত্তির কাজ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে রেখেছে। ফলে প্রায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীকে জরুরি প্রয়োজনে বাড়িতে যেতে হচ্ছে, অথবা পাশের জঙ্গল ও পুকুরপাড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরুড়া পৌর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের টয়লেট নেই। ক্লাসের মাঝে পেট ব্যথা করলে স্যারদের কাছে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যাই। অনেক সময় লজ্জায় বলতেও পারি না।”
আগানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির আরেক ছাত্র বলে, “আমাদের নতুন ওয়াশ ব্লকের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পুরাতন টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। মাঝে মাঝে বাসায় চলে যেতে হয়। মেয়েদের সমস্যা আরও বেশি। লজ্জায় অনেকে স্কুলেই আসে না।”
আগানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুকলা বাণী চক্রবর্তী বলেন, “দীর্ঘ ৪ বছর যাবত আমাদের ওয়াশ ব্লকের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিস ও ঠিকাদারকে জানিয়েছি। কিন্তু মাসের পর মাস ধরে কাজ বন্ধ। মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ।”
বরুড়া পৌর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী পাল বলেন, “ওয়াশ ব্লকের কাজ প্রায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না। আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে বারবার লিখিত জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি। শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না।”
স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার টাকা দিচ্ছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আমাদের মেয়েরা স্কুলে আসতে ভয় পায়। দ্রুত ওয়াশ ব্লকের কাজ শেষ করার দাবি জানাই।”
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার কোটি টাকা খরচ করে স্কুল বানাচ্ছে, অথচ বাচ্চাদের বাথরুমের ব্যবস্থা নেই। মাসের পর মাস কাজ বন্ধ। দায়িত্বশীলরা কি একবারও খোঁজ নেন না?”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি আমরা জানি। ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শফিউল হক বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা দ্রুত ওয়াশ ব্লকের কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন