আবদুল মান্নান
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোরী মাদ্রাসা ছাত্রীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার ডিপি পুলিশের একটি টিম ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের টিমের যৌথ সমন্বয়ে মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকার গ্রীণ প্যারাডাইজ হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে নিখোঁজ দুই কিশোরী মাহিমা ইসলাম মাহি (১২) ও তানিসা আক্তার (১৪) কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোরী জানায়, পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে তারা স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজার চলে যায়। জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮.৩০ ঘটিকার সময় মাহিমা ইসলাম মাহি (১২) ও তানিসা আক্তার (১৪) চৌদ্দগ্রাম থানাধীন কাশিনগর এলাকার আল-আমিন মহিলা মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে তারা মাদ্রাসায় না পৌঁছানো এবং বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথকভাবে ২টি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়। নিখোঁজ দুই কিশোরীর সন্ধান ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরপর চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার একটি চৌকশ দল এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কুমিল্লার একটি চৌকশ দল সমন্বিতভাবে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে নিখোঁজ দুই কিশোরীর অবস্থান কক্সবাজার জেলায় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজার ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে সমুদ্রসৈকত এলাকার গ্রীণ প্যারাডাইজ হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে নিখোঁজ দুই কিশোরীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোরী জানায়, পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে তারা স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজার চলে যায়। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, উদ্ধারকৃত দুই কিশোরীকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন