ডেস্ক নিউজ
রাজধানীর বাড্ডা ও বনানী থানা এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক অটোরিকশাচালক ও এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বনানী থানার কড়াইল জামাই বাজার এলাকার এরশাদ মাঠসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে সিরাজুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নরসিংদীর বেলাবো থানার বীরবাঘবের গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে। পরিবার নিয়ে জামাই বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে জামাই বাজার এলাকার একটি বাসার দরজা ভেঙে সিরাজুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক সমস্যা ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সিরাজুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী বাইরে একটি রেস্টুরেন্টে কাজে ছিলেন। বাসায় কেউ না থাকায় নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা স্মরণী এলাকার একটি বাসার দরজা ভেঙে চাঁদনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের জেরে চাঁদনী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিহতের স্বামী রিয়াজ উদ্দিন জানান, প্রায় ২০ দিন আগে তার স্ত্রী ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে ভাই ও ভাবির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হয়। পরে বাসায় ফিরে আসার পরও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললে তিনি রেগে যেতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে অভিমান করে নিজ কক্ষে চলে যান। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
রিয়াজ উদ্দিন জানান, চাঁদনীর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর গ্রামে। তার বাবা মৃত আবু তাহের মুন্সি। রিয়াজের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ভাবুকদিয়া গ্রামে। তারা বর্তমানে উত্তর বাড্ডার তা-সরণী রোডের নাজির হোসেনের বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মন্তব্য করুন