সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রীকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। তারা দুজন খালাতো ভাই ও সম্প্রতি প্রবাস থেকে দেশে এসেছেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সবুজ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাজি না হওয়ায় শনিবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সবুজের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গোপন রাখতে ও তিন লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করেছে। তবে তারা তাতে রাজি হননি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিকটিমের বাবা-মা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন এবং পুলিশকে জানান।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আদালতে ২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”
মাদরাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন জানান, ভিকটিম তাদের প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন মাদরাসা বন্ধ ছিল। তিনি ভিকটিমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ভিকটিমের বাবা, পেশায় রাজমিস্ত্রি, বলেন, “যারা আমার মেয়ের ওপর এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মন্তব্য করুন