কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু (৩৫) এবং খালেদা আক্তার ওরফে বেবি (৭০) নামে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার ধরানীপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আপন চাচা ও ভাতিজার মধ্যকার বিরোধের সূত্র ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে মঞ্জুরুল আলম তুতু ও খালেদা আক্তার বেবিকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল কুমিল্লা শহরের বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে মামলার মূল আসামি ট্রেনযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার তিন আসামি হলেন—মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), তাকে মামলার মূল আসামি ও নিহতের আপন চাচা হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ; তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) এবং পালিত কন্যা ইতি (১৮)।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম তুতু ও খালেদা আক্তার বেবিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।