মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
“সুস্থ মা, সুস্থ শিশু, সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন (সিজার) সেবা চালু হয়েছে। সিজারিয়ান সেবা চালুর প্রথম দিনেই দুই প্রসূতির সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে উভয় মা ও তাদের নবজাতক সুস্থ রয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন সেবার শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসূল রাখি।
প্রথম সিজারিয়ান অপারেশনের রোগী ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের চকদোলু গ্রামের মোছাঃ খাদিজা ইয়াসমিন। একই দিনে আরও একজন প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর মা ও নবজাতকদের সুস্থ অবস্থায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
সিজারিয়ান সেবা চালুর প্রথম দিনের দুই নবজাতককে হাসপাতালের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়। নবজাতকদের হাতে উপহার তুলে দেন প্রধান অতিথি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসূল রাখি ও নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।
এ সময় প্রথম সিজারিয়ান অপারেশনের রোগী মোছাঃ খাদিজা ইয়াসমিনের মা বলেন, “এখানে সিজারিয়ানের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমাদের বাইরে কোথাও যেতে হয়নি। কোনো হয়রানি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমার মেয়ে ও নাতি দুজনই সুস্থ রয়েছে।”
সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম রসূল রাখি সিজারিয়ান অপারেশন করা রোগীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তিনি রোগীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং হাসপাতালটিতে সিজারিয়ান সেবা চালুর বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে সিজারিয়ান সেবা চালু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এর ফলে প্রসূতি মায়েদের জরুরি প্রয়োজনে দূরের হাসপাতালে যাওয়ার ভোগান্তি কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ সময় তিনি দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উদ্যোগ ও এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিজ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান সেবা চালু হয়েছে।
পরে সিভিল সার্জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ্ আল মামুনকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান এবং চিকিৎসাসেবার প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিজারিয়ান সেবা চালুর মাধ্যমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদ মাতৃত্বসেবার ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এ সেবা পাওয়ায় প্রসূতি মা ও পরিবারের সদস্যদের সময়, ভোগান্তি ও ব্যয় কমার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. মোঃ আদনান আরাফাত, সহকারী অধ্যাপক এবং সার্জন ডা. মোছাঃ রোকসানা পারভীন (গাইনী অ্যান্ড অবস)সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন