
সাব্বির হোসাইন
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদ্ধার করা প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আবদুল বারীকে প্রত্যাহার করে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইট ডিউটিতে থাকা উপপরিদর্শক এসআই মো. ইমাম উদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই হাফিজুর রহমান গাড়িটিতে তল্লাশি চালান।
অভিযোগ রয়েছে, তল্লাশির সময় তিনটি বস্তাভর্তি প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও তা নিয়ম অনুযায়ী জব্দ বা থানায় জমা না দিয়ে রাতেই ধাপে ধাপে কয়েকজন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো রঙের টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আবদুল বারী বলেন, “ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে একটি পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু ভিত্তিহীন অপবাদ মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন