নিজস্ব প্রতিবেদক:
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক বিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এনআইবির সি-বাস (Seabass) গবেষণা প্রকল্পের জন্য মাছের খাদ্য ও জীবিত সি-বাস ফিঙ্গারলিংস ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান না করে ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (DPM) ব্যবহার করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের পণ্য সরবরাহে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে দেখিয়ে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পটির অনুমোদন, নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) প্রদান, মালামাল সরবরাহ এবং বিল পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২৩ লাখ টাকার বিল সংশ্লিষ্ট মালামাল যথাযথভাবে গ্রহণের আগেই পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনআইবির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ছগীর আহমেদ। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে সংশ্লিষ্ট মালামাল দেখানোর অনুরোধ করা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছেই রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি এবং এ সময়ের মধ্যে তিনি ভালো কাজ করে যেতে চান।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার পরামর্শ ও প্রভাবে মহাপরিচালক বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্রয় মূল্যায়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। সরকারি ক্রয়বিধির শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন না করেই ডিপিএম পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিল পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এছাড়া মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার, পছন্দের ব্যক্তিদের গবেষণা ফেলো হিসেবে নিয়োগ এবং নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে বর্ণিত বিষয়গুলো অভিযোগভিত্তিক। এসব অভিযোগ এখনো কোনো আদালত বা সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলের ওপরই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ভর করবে।
মন্তব্য করুন