ডেস্ক নিউজ
সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের প্রচলিত পদ্ধতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক সচিব মাহবুব কবির মিলন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি তুলে ধরেছেন, ‘যেখানে খোদ অভিযুক্তের কাছেই তদন্তের ফাইল পাঠানোর মাধ্যমে অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং সততার সাথে মাথা উঁচু করলেই সৎ কর্মকর্তাদের জীবনে নেমে আসে করুণ পরিণতি।’
তিনি লেখেন, ‘রংপুরের একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে। চোরকে মুরগি আদি দেয়া যায় না। “আদি” মানে বর্গা বা দেখভাল করতে দেয়া। ২০১৫ সাল থেকে রেল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেকবার মজার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।’
ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মনে করেন দুদকে বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রেলের বিরুদ্ধে কেউ বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ করল তথ্য প্রমাণ দিয়ে, তাতে দুর্নীতির মূল হোতা হিসেবে স্বয়ং ডিজি এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের নাম আছে।’
দুদক বা পিএম অফিস থেকে তদন্ত না করে সেই অভিযোগ পাঠানো হয় রেল সচিবের কাছে। রেল সচিব অভিযোগের ওপর মতামত দেয়ার জন্য ডিজি সাহেবের কাছে পাঠান। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারই কাছে মতামত।’
‘মতামত দেয়া হল, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। রেলের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা এহেন গর্হিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। উত্তরের সাথে একগুচ্ছ ফুল গেঁথে দিয়ে সেই মতামত পাঠানো হত দুদক কিংবা পিএম অফিসে।’
‘সবাই খুশি। রেল খুশি, মন্ত্রণালয় খুশি, দুদক খুশি। পিএম অফিস খুশি। মারা খেল মফিজ আবাল জনগণ। সকল মন্ত্রণালয় এবং দপ্তর অধিদপ্তরে জুনিয়র লেভেলের অনেক ভাল কর্মকর্তা আছে। তাদের স্প্রিট, মেধা, মনন, ভালবাসা, কর্মস্পৃহা আছে। দেশপ্রেম আছে। কিন্তু তাদের স্বাধীনভাবে ভাল কিছু করার ক্ষমতা নেই।’
‘রেলের শুধু ডিজি এবং এডিজি আরএস চোর হলেই রেল শেষ। ২০১১ সাল থেকে রেলের এই দুই পদের ৯৯.৯৯% তাই ছিল। মন্ত্রণালয় থাকতে সব শেষ হয় কিভাবে!! তাহলে মন্ত্রণালয়েও এসব অপকর্মের হোতা বা জড়িত। রেলের যত অভিযোগ দুদকে যেত, রেল মন্ত্রী সাথে সাথে তদ্বির করে ফাইল গায়েব করিয়ে দিতেন।’
‘যে দেশে ৯৯% সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী দুর্নীতিবাজ বা চোর। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কাদের দিয়ে কমিটি করবেন? মন্ত্রণালয়ের সচিব যদি দুর্নীতিবাজ হয়, সেই কমিটি কি তার নিজ সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে? কমিটি প্রধান যদি সচিব হয়, তিনি কি নিজের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেবেন!! কমিটি কি তার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারবে?’
যে দেশে পদোন্নতির প্রধানতম ক্রাইটেরিয়া দলদাস হওয়া এবং মেরুদণ্ড ফেলে দেয়া, সেখানে মন্ত্রণালয়ের কোনো কমিটির ক্ষমতা বা সাহস আছে সরকার বা তার দলের কারো বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা!! সেই রিপোর্ট অনুমতি বা এক্সেপ্ট করবে কে?
কমিটিকে কারো অনুমতি নেয়া ছাড়া সরাসরি চার্জশিট দেয়ার ক্ষমতা দেবেন??’
তিনি আরও লেখেন, ‘অনেক ভাল কর্মকর্তার এই হাল। পালিয়ে থাকে সবাই। জানে মাথা উঁচু করলেই চাকুরি জীবনের করুণ পরিণতি নেমে আসবে। কমিটি চেক করতে আর এক কমিটি লাগবে। তাকে চেক করতে আর এক কমিটি। সেই কমিটিকে………….. কমিটি!!!’
মন্তব্য করুন