ডেক্স রিপোর্ট:
নিরাপত্তার অজুহাতে ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যায়নি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এর জন্য বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল দায়ী করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গঠিত তদন্ত কমিটি।
এছাড়া ‘প্রবল চাপে’ সেসময় আসিফ নজরুলের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তৎকালীন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
৭ জনের ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীযুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক, জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
প্রতিবেদনে ১২ জন ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি জানায়, ‘যুব ও ক্রীড়া সচিবকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকার পর আসিফ নজরুল নিজেই তার সিদ্ধান্ত জানান।’
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, ‘(বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য) যে মানুষটি দায়ী, তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।’
ওই সময়ের বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন তদন্ত কমিটির কাছে বলেন, ‘ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে সরকার যদি এরকম সিদ্ধান্ত নেয়, ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘(তৎকালীন) ক্রীড়া সচিব পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সাবেক বিসিবি সভাপতি বুলবুল প্রবল চাপে ছিলেন, যেহেতু তিনি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছিলেন না। বিসিবির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত।
বিশ্বকাপে না খেলার কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আইসিসির গভর্ন্যান্স সংঘাত, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ‘সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল, ক্রিকেটাররা এবং সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন।’
উল্লেখ্য, এর আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি। এর ফলে ২০ দল নিয়ে আয়োজিত সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
এই জটিলতার শুরু হয়েছিল গত ৩ জানুয়ারি। সেদিন ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয়। এরপর ক্রমাগত আলোচনা চললেও আইসিসি বা বিসিবি—কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি। শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থার বলি হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয় বাংলাদেশ দলকে।
মন্তব্য করুন