ওমর ফারুক , লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে। বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি আধুনিক জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলোর করুণ অবস্থা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত মোট ৮টি আবাসিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনগুলোর চারপাশ জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে গেছে। দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে, বিভিন্ন স্থানে ভবনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের ভেতরে পুরোনো আসবাবপত্রের স্তুপ পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনগুলো এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, “হাসপাতালের পূর্ব পাশে প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য নির্মিত ৮টি ভবন রয়েছে। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। মাননীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের উদ্যোগে পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে যেন কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
সরকারি সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন