মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত চাকরির মেলায় ৫০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীর সমাগম ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই মেলায় চাকরি প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা, নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা এবং কাঙ্ক্ষিত চাকরির সন্ধানে বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেলাপ্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
দিনাজপুর-৬ আসনের চার উপজেলার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় ৯৪টি স্টলে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও নিবন্ধন ছাড়া সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় মেলায় ৫০ হাজারের বেশি চাকরি প্রত্যাশীদের সমাগম ঘটে।
মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “এ অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে এবং তরুণ-তরুণীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে তাদের জাগিয়ে তোলা—এটাই আমাদের বড় কাজ।”
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে থাকা সম্ভাবনা ও প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে। এ জন্য তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা উদ্যোক্তা হোক।” তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে শ্রেণি-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) এলাকার চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। অনেকে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রত্যাশায় সিভি জমা দিয়েছেন বলে জানান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে অনলাইনে ২৪ হাজার ১২৯ জন চাকরিপ্রত্যাশী নিবন্ধন করেন। তবে নিবন্ধন ছাড়াও সরাসরি সিভি জমা দিয়ে চাকরির সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকায় মেলায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ (দিনাজপুর সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক,দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন। সঞ্চালনা করেন বিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল। বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগের বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
মেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকশ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা তৎপর ছিলেন।
এ চাকরির মেলার মাধ্যমে এলাকার বেকার তরুণ-তরুণীরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো উপযুক্ত কর্মী খুঁজে নিতে পারবে। একই সঙ্গে চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন