২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫:০৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই সামাজিক মাধ্যমে মনগড়া পোস্ট, ভোটাদের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়ানোর অভিযোগ

বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

সামাজিক মাধ্যমে মনগড়া পোস্ট, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব ও সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এমন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এমনকি কথিত জনমত জরিপও।

গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে আলোচনায় এসেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. শামারুহ মির্জা (সামা) ও তাঁর ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনের নাম। দুজনের মধ্যে কে আগামীতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা।

তাহলে কি সত্যিই তাঁদের দুজনের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করার প্রস্তুতি চলছে? পরিবারে কি এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? নাকি পুরো বিষয়টিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জন? এসব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন। তাঁর বক্তব্যে খুলেছে গুঞ্জনের জট।

তবে এ ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জনকে এখনই প্রার্থিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন। তাঁর দাবি আসনটি এখনো শূন্যই হয়নি। ফলে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আলোচনা করার সময়ও আসেনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব আলোচনা নিয়ে জেলার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন।

তিনি বলেন, একই পরিবারের দুজন প্রার্থী আসলে আমরা কেউই এখনো প্রার্থী নই। প্রার্থিতা নির্বাচন করার বিষয়টি এখনো আসেনি। এই আসন এখনো শূন্য হয়নি। এখনো বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি আছেন। দল তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। (২০ আগস্ট) নির্বাচন হবে। নির্বাচনের পর তিনি শপথ নেবেন, গেজেট হবে। এরপর সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। আসনটি শূন্য হওয়ার পরই প্রার্থিতার বিষয়টি সামনে আসবে।

See also  শার্শার নাভরন-সাতক্ষীরা সড়কে কাভার্ট ভ্যানের ধাক্কায় দুই মটর সাইকেল আরোহী নিহত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও ড. শামারুহ মির্জার নাম আলোচনায় আসার বিষয়ে ফয়সল আমিন বলেন, মির্জা ফখরুল আলমগীর সাহেবের বড় মেয়ে শামারুহ (সামা) অত্যন্ত স্বনামধন্য একজন বিজ্ঞানী। তিনি দেশে থাকেন না, বিদেশে থাকেন। তাঁর বাবার নির্বাচনের সময় তিনি দেশে এসেছিলেন, মানুষের সঙ্গে মিশেছেন এবং বাবার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। ফলে মানুষ তাঁকে প্রার্থী হিসেবে চাইতেই পারে। আমি সরাসরি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সে হিসেবে মানুষ আমাকেও চাইতে পারে। মানুষের এই চাওয়াটাই মূল বিষয়। তবে বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, আসলে তা সেভাবে নয়। এ নিয়ে আমাদের পরিবারের মধ্যে কোনো আলোচনা হয় নি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবারের মধ্যে এটা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এটা নিয়ে আমরা কেউ বিচলিতও নই। তবে একটা সমস্যা হচ্ছে, সাধারণ ভোটাররা বিব্রত হচ্ছে। কেন এভাবে আলোচনা বা জনমত জরিপ করা হচ্ছে। এসব গুঞ্জনে কান না দেয়াই ভাল।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কে বিএনপির প্রার্থী হবেন, সেই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা বা জনমত জরিপে হবে না বলেও মন্তব্য করেন জেলা বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, তাদের বিভ্রান্ত করে কোনো লাভ নেই। আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন, শূন্য আসনে কে নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন যেভাবে কাকে চান, কে আসবেন, জনমত জরিপ এসব করা ঠিক হচ্ছে না। আমাদের পরিবার থেকে এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু ভাইদের মধ্যে আমি রাজনীতিতে আছি, বড় ভাইও রাজনীতিতে ছিলেন, আমিও রাজনীতিতে আছি স্বাভাবিকভাবেই আমার প্রসঙ্গ আসে।

ড. শামারুহ মির্জা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামা রাজনীতি করেন না। তিনি একজন প্রবাসী বিজ্ঞানী। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অবশ্যই আসবেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আমার ভাই (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর)। এই বিষয়গুলো নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা করা মনে হয় ঠিক হবে না। নিয়মিত সামার সাথে ওভার ফোন কথা হয় সামাজিক মাধ্যমের কথা নিয়ে আলোচনাও হয়। সে বলে চাচা ভোট দুজনের ছবি খুব ভাসছে যোগাযোগমাধ্যমে যা অযথা।

See also  ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হলো না ৯৬ বছরের বৃদ্ধা মায়ের

তবে এসব বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, যেহেতু দল সিদ্ধান্ত নিয়ে মনোনয়ন কাকে দিবে। তবে এখানে পরিস্কার মির্জা ফখরুল স্যারের মেয়ে সামা আসছে না এ নির্বাচনে। কারণ অনেক জটিলতা আছে এই মুহুর্তে। তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। জেলা বিএনপির ভাল পদে নেই সামা। হয়তো তার রাজনীতিতে আসতে আরো সময় লাগবে। এছাড়া স্যারের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল জেলা বিএনপির সভাপতি পরিক্ষিত রাজনীতিবিদ। দল ভালভাবে চিনেন তাকে। যত কথাই হোক আসন শুন্য হলে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফয়সল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি প্রার্থী। আশা করা হচ্ছে দল তাকেই মনোনীত করবেন। আর জয়ও নিশ্চিন্ত হবে ইনশাল্লাহ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগীর

কালীর বাজার ইউপি চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের মনোনয়ন পেলেন আলহাজ্ব ফয়েজ আহমেদ মুন্সী

কুমিল্লায় ২৪ ঘন্টায় মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৫৬

‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান ঢাকার ডিসির

অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতে জামায়াত জোটে জোগ দেন আসিফ মাহমুদ: রাশেদ খান

জাতিসংঘ অধিবেশন: ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

‘একটি দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে – রুহুল কবীর রিজভী’

কুমিল্লায় পূর্ব বিরোধের জেরে যুবলীগ নেতা’কে কুপিয়ে হত্যা

নবাব ফয়জুন্নেছাকে স্মরণ নিয়ে ইতিহাসের তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

কুমিল্লায় ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ১, ছিনতাইকারী ১৪

১০

চৌদ্দগ্রামে শহীদ হাজী সুরুজ মিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট-২০২৬ইং অনুষ্ঠিত

১১

শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আটক

১২

বুড়িচংয়ে ‘মানবতা’ সংগঠনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুপারি গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

১৩

নিখোঁজ অটোচালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার 

১৪

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যান সভায় জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে দাউদকান্দি সার্কেল ও অফিসার ইনচার্জ

১৫

কুমিল্লায় কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত

১৬

সংসদে নতুন দায়িত্বে হুইপ দুলু

১৭

ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে মূল ভূখণ্ডে নিতে ৭ বছর লাগবে: প্রধানমন্ত্রী

১৮

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করলেন এমপি হানজালা

১৯

ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের রেকর্ড গড়ল ‘পাসুরি’

২০