চৌদ্দগ্রামে স্বামীর সম্পত্তির দখল চাওয়ায় বিধবাকে মারধর! আদালতে মামলা
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রভাবশালী কর্তৃক নাছিমা বেগম (৫০) নামের এক বিধবাকে মারধর, তার স্বামীর রেখে যাওয়া বসতবাড়িতে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে ব্যাপক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া এলাকার নোয়াপুর গ্রামে। এ ঘটনার প্রতিকার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যার দখল বুঝে পাওয়ার দাবিতে ভুক্তভোগী ওই নারীর মেয়ে মেরী আক্তার (৩২) বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখপূর্বক আদালতে একটি মামলা (সিআর-৫২১/২৬) দায়ের করেছেন।
আদালতে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ওয়াহাব মিয়া (৪৯), ছকিনা বেগম (৪৫), নার্গিস (৪০) ও আঁখি বেগম (২৫) এর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বাদী মেরী আক্তারদের বিরোধ চলে আসছিলো।
এরই জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে উল্লেখিত বিবাদীরা ঘটনার দিন গত বুধবার (১৭ জুন) সকালে বাদীর বয়োঃবৃদ্ধ মাতা নাসিমা বেগমকে একা পেয়ে দেশীয় লাঠি-সোঁটা দিয়ে অতর্কিতভাবে তার উপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে পরিবারের লোকজন সহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
তাৎক্ষনিক আহত ওই নারীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এদিকে ঘটনার দিন বিকালে দ্বিতীয় দফায় বিবাদীরা বাদীর বসতঘরে তালা মেরে তাদেরকে ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।
ভুক্তভোগিদের পরিবারে পুরুষ না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। বিচারের আশায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে চরম আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে ভুক্তভোগির পরিবার।
হামলাকারীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ না থামায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত বড় কোনো ঘটনা। পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা চাওয়ায় হামলাকারীরা এখনো বাদীর পরিবারকে বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। আরোও জানা যায়, হামলা কারীরা মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তারা বিভিন্ন সময় বাদীকে মাদক দিয়ে ফাসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে বসে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও হামলাকারীরা বেশ অর্থশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে মারধরের শিকার বিধবা কর্তৃক চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় দায়েরকৃত পৃথক অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহেদ আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবিলম্বে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।
মারধরের কথা অস্বীকার করে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওয়াহাব মিয়া জানান, তারা বাহিরের লোক নিয়ে এসে ঘটনার সমাধান করতে চায়। আমরা এটি হতে দিতে পারি না। আমাদের সমাজের কারও কথা তারা মানে না। তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছে। পুলিশ এসেছে। বিষয়টি এখন থানায় সমাধান হবে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন