মোহাম্মদ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সহজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ ৫৮ বছরের শিক্ষা ঐতিহ্য ধরে রেখে আজও এলাকার শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করে চলেছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি বর্তমানে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো, শিক্ষাবান্ধব শ্রেণিকক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে মোট ১১১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৫ জন এবং ছাত্রী ৪৬ জন। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৬ জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোমিনুল ইসলাম ১৯৮৮ সাল থেকে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি মাত্র ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় ছায়াবৃক্ষও এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। প্রধান শিক্ষক জানান, এসব গাছ তিনি নিজ উদ্যোগে তৎকালীন সকল শিক্ষককে নিয়ে রোপণ করেছিলেন। আজ সেই গাছগুলো শিক্ষার্থীদের নির্মল পরিবেশ ও শীতল ছায়া প্রদান করছে, যা বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে রঙিন শিক্ষামূলক চিত্র, বর্ণমালা, সংখ্যা, গ্রামীণ জীবন ও নিরাপত্তাবিষয়ক চিত্রাঙ্কন শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করেছে। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও শিশুদের জন্য স্থাপিত খেলাধুলার সরঞ্জামও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বিদ্যালয়কে আরও শিশুবান্ধব ও আধুনিক শিক্ষাঙ্গনে রূপ দিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এখনও কিছু খালি জায়গা রয়েছে। সেখানে একটি আধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা টিফিন বিরতি ও অবসর সময়ে নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে খেলাধুলা করতে পারে। তাঁর মতে, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়টি আরও আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ মোমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়কে শুধু পাঠদানের কেন্দ্র নয়, বরং শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় ও আদর্শ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে শিশু পার্ক নির্মাণসহ বিদ্যালয়ের আরও উন্নয়নে আমরা কাজ করতে চাই, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি একটি সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অর্ধশতবর্ষ ঐতিহ্য ধারণকারী সহজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
মন্তব্য করুন