মোঃ ইব্রাহিম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ছোট যমুনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানির প্রবাহ ও স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রীপুর উত্তরপাড়া এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক এখন বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধের একটি বড় অংশ এবং সড়কের কিছু অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন অংশ ভেঙে পড়ছে, আর সেই দৃশ্য দেখে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ।
কয়েক দিন আগেও যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতেন, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতেন, আজ সেখানে ভয়াবহ ভাঙনের কারণে চলাচলই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নদীর তীব্র স্রোত বাঁধের নিচের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় পুরো বাঁধটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় আরও বড় অংশ ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন যদি দ্রুত রোধ করা না হয়, তাহলে শুধু একটি রাস্তা নয়, পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারবেন না, ফলে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এছাড়া শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবীসহ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন।
শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে অনেক পরিবার গৃহহীন হওয়ার পাশাপাশি জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে শুধুমাত্র পরিদর্শন নয়, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সাময়িকভাবে বালুর বস্তা বা জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
গ্রামবাসীরা বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ছোট যমুনা নদীর ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কিন্তু স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না থাকায় বছর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এবার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শ্রীপুর উত্তরপাড়ার মানুষের জীবন, জীবিকা, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা করা হবে।
এখন গ্রামের মানুষের একটাই প্রশ্ন—আর কত ভাঙলে প্রশাসনের নজর পড়বে? বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির আগেই যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন