নিজস্ব প্রতিবেদক:
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের হিসাব সহকারী মো. ফরিদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ টাকা গ্রহণ ও শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি থেকে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।
মাউশির সহকারী পরিচালক-২ কামরুন্নাহার রীমা স্বাক্ষরিত নোটিশে (১জুলাই) ২০২৬ তারিখে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশ সূত্রে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ ও তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মো. ফরিদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলো হলো: সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে রাখা, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে হাতে অবৈধ টাকা গ্রহণ, অধ্যক্ষকে সার্বিক কাজে অসহযোগিতা করা এবং নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের সহায়তা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত অর্থ নির্দিষ্ট খাতে বিধি মোতাবেক ব্যয় না করে ৫ মাস নিজের কাছে রেখেছেন হিসাব সহকারী ফরিদ আহম্মেদ।
এমতাবস্থায় উল্লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রেরণের জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশের অনুলিপি মাউশি পরিচালক, কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে, সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ গিয়াজ উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ফরিদ উদ্দিনের মতো লোকদের সরকারি চাকরিতে না এসে চোরি পেশায় ভালো মানাবে।
এসব ব্যক্তিরা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য খুবই ভয়ংকর। আমি অত্র কলেজে থাকা অবস্থায় হিসাব সহকারি ফরিদ উদ্দিনের এমন কর্মকান্ড দেখে তার থেকে ব্যাংকের সকল চেক বহি চিস করে পেলি।
২০২৩ থেকে ২০২৬ সালে কলেজ অডিটে অডিট কর্মকার্তরা ৭ লাখ টাকা হিসেবের মিল পায় নি। হিসেব সহকারি ফরিদ উদ্দিনকে চাপ প্রয়োগ করলে সে আত্নসাৎ কৃত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ বিদ্যান চন্দ্র মিত্র এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি সাবেক অধ্যক্ষের সময় আমি এসব বিষয়ে অবগত না।
অভিযুক্ত হিসাব সহকারী ফরিদ উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আমার বিরুদ্ধে মাউশিতে একটি মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমি মামলা করবো তার বিরুদ্ধে।
এক পর্যায়ে প্রতিবেদককে বলেন, ভাই নিউজটি না করলে আমার উপকার হয়। আমি আপনার মোবাইলে বিকাশ নাম্বারে চা খাওয়ার জন্য কিছু টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। সচেতন নাগরিকদের দাবী এমন দূর্নীতিবাজদের চাকরিচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার হওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন