৬ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাড়তি বিলের আতঙ্কে গ্রাহকের বাধা, বন্ধ প্রিপেইড মিটার স্থাপন

ডেস্ক নিউজ

ডিমান্ড চার্জ ও বাড়তি বিলের আতঙ্কে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে আস্থা পাচ্ছেন না গ্রাহক। বিভিন্ন জায়গায় মিটার স্থাপনে বাধা দিচ্ছেন তারা। এতে থমকে আছে সরকারের সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম।

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয়। তবে কোনো মাসে রিচার্জ করা না হলে তা সমন্বয় করা হয় পরবর্তী রিচার্জে। প্রিপেইড মিটার ও পোস্টপেইড মিটার উভয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ-খরচ সমান।

প্রিপেইড মিটারে ব্যবহার করা বিদ্যুতের বিপরীতে রিচার্জ করা এনার্জির ওপর সরকার প্রণোদনা হিসেবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) দেয়। প্রিপেইড মিটার সংযোগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত লাগে না। পোস্টপেইড মিটারের মতো প্রিপেইড মিটারের অনুমোদিত লোডের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ কিলোওয়াট প্রতি মাসে ৪২ টাকা হারে (আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে) ও ভ্যাট ৫ শতাংশ নিয়ম অনুসারে কাটা হয়। সেই হিসেবে দুই কিলোওয়াট ব্যবহার হলে ৮৪ টাকা ডিমান্ড কাটা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আট লাখ পঞ্চাশ হাজার স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন (বিশেষ সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ঝুঁকিতে পড়েছে। ডিপিডিসির প্রায় সব এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন গ্রাহক।

নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ ইত্যাদি ব্যানারে একটি দল গত ২২ জুলাই ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর (দক্ষিণ) দপ্তরে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরোধিতা করে স্মারকলিপি দেয়। ফলে ওই এলাকায় মিটার স্থাপনের কাজ আপাতত স্থগিত।

এ ধরনের গ্রাহক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আগামী চার মাসের মধ্যে অবশিষ্ট সাড়ে তিন লাখ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিপিডিসির জন্য।

ডিপিডিসি জানায়, নানা কারণে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার স্থাপন কাজে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রায়ই অপপ্রচারকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছে, মসজিদে প্রিপেইড মিটার সম্পর্কিত নানা ধরনের অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ফলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে দেশে সাড়ে তিন লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্প। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

See also  দেশে মনে হয় আমিই একমাত্র অপরাধী, মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ চাই: জিয়াউল আহসান

প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮৭১ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ ছিল। তবে প্রস্তাবিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে কি না সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ডিপিডিসি।

প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের জন্য এরই মধ্যে মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। কারণ গ্রাহকদের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে মিটার স্থাপন কাজ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামী বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪টি নতুন বই: শিক্ষামন্ত্রী

১

জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার: জাহেদ উর রহমান

২

রিকনসিলিয়েশনের আগে অপরাধের স্বীকার ও অনুতাপ জরুরি: জাহেদ উর রহমান

৩

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতেই লটারিতে বদলি: আইনমন্ত্রী

৪

হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী

৫

‘মেসিকে সম্মান জানাতে এসেছি, কোনো গোল উপহার দিতে নয়’

৬

গাজার শিশুরাও আমাদের ‘শত্রু’: ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ

৭

চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

৮

ডেঙ্গু রুখতে সচেতনতার ডাক, বিরামপুরে মাঠে নেমেছে জামায়াত

৯

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিরামপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

১০

সাক্ষ্য দিতে না আসায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

১১

এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ

১২

ঢাকায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪৪৭, সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

১৩

আদালতে গলায় ছুরিকাঘাত, প্রধান অভিযুক্ত অপু গ্রেফতার

১৪

বাড়তি বিলের আতঙ্কে গ্রাহকের বাধা, বন্ধ প্রিপেইড মিটার স্থাপন

১৫

শিশু একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করলো ১৫০ শিশু

১৬

তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করবে সম্ভব-আলফা স্টার ফাউন্ডেশন

১৭

ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যাদায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য কবির আহামদ

১৮

ডাকাত-জলদস্যু দমনে সমুদ্রে কোস্টগার্ডের সাঁড়াশি অভিযান

১৯

তারকাদের বিচ্ছেদ বাড়ছে, ছড়াচ্ছে ভীতি

২০