ডেস্ক নিউজ
মৃত্যুর পর স্থায়ী ঠিকানা মেলে না ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষের। যাদের নিজস্ব জায়গা নেই তাদের এক টুকরো অস্থায়ী ঠিকানায় ঠাঁই পেতেও মেলাতে নানান হিসাব-নিকাশ। সরকারের কোন কবরস্থান কোথায়, কোথায় নতুন দাফনের সুযোগ রয়েছে, স্বজনের কবরের অবস্থান- এসব তথ্য পাওয়াও দুষ্কর।
এই বাস্তবতায় কবরস্থান ব্যবস্থাপনাকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ (ডিএসসিসি) সিটি করপোরেশন। ‘Graveyard Management DNCC’ ও ‘Graveyard Management DSCC’ অ্যাপের মাধ্যমে কবরস্থান, দাফন ও কবরের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এক ছাতার নিচে আনার প্রচেষ্টা চলছে। কিছু কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা দিয়ে মানুষ সেবা নিচ্ছে। অ্যাপ উন্নয়ন চলমান।
কোন কবর কোথায়, কবে দাফন হয়েছে বা সংরক্ষণের মেয়াদ কবে শেষ হবে- এসব তথ্য সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজে থাকলে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হয়। পাশাপাশি কবর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন পর কেউ জিয়ারতে এসে ব্যক্তিগতভাবে কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে যেন নিজেই তথ্য খুঁজে পান, সে ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সিটি করপোরেশন। তবে এর জন্য প্রয়োজন নির্ভুল ও নিয়মিত হালনাগাদ ডেটা। সিটি করপোরেশন এসব বিষয়ে নিয়ে কাজ শুরু করেছে, যা উন্নয়নের কাজও চলমান।
বর্তমানে তথ্য ও সেবার জন্য কবরস্থানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে পোহাতে হয় নানা ধরনের ভোগান্তি। অনেক তথ্য সময়মতো খুঁজে পাওয়া যায় না। সময়ও লাগে অনেক বেশি।
বর্তমানে ডিএনসিসির উদ্যোগ অনুযায়ী, অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে কবরস্থানের তালিকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নিয়ম-কানুন দেখার পাশাপাশি ঘরে বসে দাফনের আবেদন করা যায়। আবেদনে মৃত ব্যক্তির নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, লিঙ্গ, মৃত্যুর তারিখ, কারণ ও সময়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কবরস্থানের ব্যবস্থাপকের কাছে পৌঁছানোর পর অনুমোদিত হলে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীসময়ে অনলাইন সনদ দেওয়া হয়।
শুধু নতুন দাফন নয়, আগে দাফন করা ব্যক্তির তথ্যও ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের কাজ চলছে। কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও কার নামে দাফন- এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকলে বহু বছর পরও স্বজনরা সহজে প্রিয়জনের কবর শনাক্ত করতে পারবেন।
কবরস্থানের কবরের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ প্রসঙ্গে ২০২৩ সালের ১৩ মে নগর ভবনের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নগরবাসীর সুবিধার জন্য উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব কবরস্থানের কবরের তথ্য নিয়ে একটি শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।
অনেকে কবরস্থানে গিয়ে তাদের স্বজনের কবর খুঁজে পান না। একটি কবরের ওপর কার কবর, তার ওপর কার কবর, তার ওপর কার কবর- এভাবে উত্তর সিটি করপোরেশনে যতগুলো কবরস্থান আছে, সবগুলোর তথ্য বের করে ডেটাবেজ করা হয়েছে।
স্মার্ট কবরস্থান ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপে বনানী, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী, রায়েরবাজার এবং উত্তরা ৪, ১২ ও ১৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি কবরস্থানের প্রতিষ্ঠাকাল, আয়তন, মোট কবর, সাধারণ ও সংরক্ষিত কবরের অনুপাত, দাফন সংখ্যা এবং ভবিষ্যৎ ধারণক্ষমতার হিসাব রাখা সম্ভব। ফলে এটি কেবল নাগরিক সেবাই সহজ করবে না, ভবিষ্যতের নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।
ডিজিটালাইজেশনের পথে এগোচ্ছে রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান। ইতোমধ্যে কবরস্থানে লেন নম্বর চালু করা হয়েছে এবং অচিরেই প্রতিটি কবরের নম্বর যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের মোহরার হাফিজুর রহমান।
এমনকি বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট কবরের অবস্থান দেখা যাবে বলে জানান তিনি।
ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। লেন নম্বর আমরা নিজেরাই করেছি, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এটাকে অ্যাকসেপ্ট করেছে। অচিরেই কবরের নম্বরসহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে আপনি ওয়েবসাইটে গিয়ে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে আপনার পরিবারের সদস্যদের কবর দেখতে পারবেন।-মোহরার হাফিজুর রহমান
‘ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। লেন নম্বর আমরা নিজেরাই করেছি, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এটাকে অ্যাকসেপ্ট করেছে। অচিরেই কবরের নম্বরসহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে আপনি ওয়েবসাইটে গিয়ে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে আপনার পরিবারের সদস্যদের কবর দেখতে পারবেন। গুগল ম্যাপের মতোই ডিজিটালাইজেশন হলে ওখান থেকেই দেখতে পারবেন।’
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, ডিজিটালাইজেশনের কাজ এগিয়েছে বেশ খানিকটা। যে কেউ চাইলে এখন আজিমপুর কবরস্থানে ভার্চুয়াল ট্যুর দিতে পারবেন। কবরের অবস্থান দেখতে পারবেন। তবে অন্য কবরস্থান এখনো দেখা যাচ্ছে না। কাজ চলমান।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ ও লিখিতভাবে প্রশ্ন পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ‘Graveyard Management DNCC’ অ্যাপটির ডাউনলোড সংখ্যা এক হাজারের সামান্য বেশি এবং মোট রিভিউ মাত্র ১৬টি। প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের নগরে এই ব্যবহার অত্যন্ত নগণ্য। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর একটি রিভিউতে একজন ব্যবহারকারী অ্যাপটিকে সহায়কের পাশাপাশি সেবা পেতে দেরি হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
অর্থাৎ, অ্যাপ চালু হওয়া এবং তা সাধারণ মানুষের ব্যবহারে আসার মধ্যে ব্যবধান এখনো বড়। প্রযুক্তি তৈরি হলেও প্রচার, নাগরিক সচেতনতা ও সেবার গতি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে।
রাজধানীতে প্রতিদিন নতুন দাফন হচ্ছে, কোনো কবর সংরক্ষিত হচ্ছে, কোনোটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, আবার নির্দিষ্ট সময় পর কবর পুনর্ব্যবহার হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ডেটাবেজে যুক্ত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থাটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য হারাবে। তাই কে তথ্য হালনাগাদ করবেন, তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে এবং ভুল সংশোধনের পদ্ধতি কী- এসব বিষয়ে স্পষ্ট জবাবদিহি থাকা জরুরি।
আজিমপুর কবরস্থানের মোহরার মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর দাফনের সংখ্যা বাড়লেও কবরস্থানের জায়গা বাড়ছে না। ফলে সাধারণ কবরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাপ বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এটি অনিচ্ছাকৃত হলেও বাস্তবতার কারণেই ঘটছে।’
তিনি বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকার আশপাশে নতুন সরকারি কবরস্থানের জন্য জমি খোঁজার ওপর জোর দেন। অন্যথায় আজিমপুরে দাফন কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানান।
আজিমপুর কবরস্থান ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে ডিএসসিসির সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান স্বীকার করেন, ‘দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কবরস্থানগুলোতে ডিজিটালাইজেশনের অনেক কাজ এখনো বাকি।’
ঢাকার কবরস্থান পরিচালনার দায়িত্ব উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। নতুন কবরস্থানের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের একচ্ছত্র এখতিয়ার মেয়র ও সিটি করপোরেশনের। তারা সঠিক পরিকল্পনা করে প্রস্তাব পাঠালে সরকার অবশ্যই তা অনুমোদন করবে। সরকারের কাজ মূলত প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া।-স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম (সিটি করপোরেশন–১)
‘ঢাকার কবরস্থান পরিচালনার দায়িত্ব উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। নতুন কবরস্থানের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের একচ্ছত্র এখতিয়ার মেয়র ও সিটি করপোরেশনের। তারা সঠিক পরিকল্পনা করে প্রস্তাব পাঠালে সরকার অবশ্যই তা অনুমোদন করবে। সরকারের কাজ মূলত প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া।’
ডিজিটাল সেবা পূর্ণাঙ্গ করতে হলে আবেদন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দাফন ও সংরক্ষণ ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে এর ডিজিটাল সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। এছাড়া ফি ও নিয়ম-কানুনের যে কোনো পরিবর্তন অনলাইনে নিয়মিত হালনাগাদ না করলে নাগরিকদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
কাজেই, শুধু একটি অ্যাপ চালুর নাম ডিজিটালাইজেশন নয়। আবেদন, ফি প্রদান, অনুমোদন, দাফন, স্থান শনাক্তকরণ, সনদ প্রদান এবং পরবর্তীসময়ে ডেটা হালনাগাদ করার পুরো প্রক্রিয়াকে একটি একক সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
কয়েক বছর আগে ডিএসসিসির কবরস্থানের যাবতীয় তথ্য নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটা নাগরিক সেবায় যথেষ্ট নয়। তাই এখন ওই তথ্য হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার ডিএসসিসির কবরস্থানগুলোর কবরের নাম্বারিং করতে চাই। এ কাজটি আজিমপুর কবরস্থান দিয়ে শুরু করবো।-ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান
পূর্ণাঙ্গ ‘স্মার্ট কবরস্থান’ মানে শুধু একটি অ্যাপ নয়। এর সঙ্গে সঠিক ম্যাপিং, নিয়মিত ডেটা আপডেট, অনলাইন ফি প্রদান, অভিযোগ প্রতিকার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে এ অ্যাপের প্রচার বাড়ানো জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, প্রযুক্তি ও ভূমি পরিকল্পনাকে সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে।
‘কয়েক বছর আগে ডিএসসিসির কবরস্থানের যাবতীয় তথ্য নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটা নাগরিক সেবায় যথেষ্ট নয়। তাই এখন ওই তথ্য হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার ডিএসসিসির কবরস্থানগুলোর কবরের নাম্বারিং করতে চাই। এ কাজটি আজিমপুর কবরস্থান দিয়ে শুরু করবো।’
তিনি বলেন, ‘আজিমপুর কবরস্থানে ২৬ হাজার কবর রয়েছে। কিন্তু কোনো কবরের নম্বর নেই। ফলে কেউ তাদের স্বজনদের দাফন করে গেলে কয়েক মাস পরে গিয়ে তার কোনো চিহ্ন পান না। এখন আমরা সব কবরের ডাটাবেজ করবো। যাতে কাউকে দাফনের পর তার স্বজনেরা বলতে পারে, এটি আমার আত্মীয়ের কবর।’
আজিমপুর কবরস্থানে কবর ব্যবস্থাপনায় অ্যাপ চালু করা হবে জানিয়ে মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, ‘ওই বাজেট দিয়ে অ্যাপ তৈরি, কবরস্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকেরা জানতে পারবেন, সেখানে কয়টি কবর ফাঁকা আছে। এর মাধ্যমে কবরস্থান ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করবো। এছাড়া নাগরিকেরা যাতে মরদেহ দাফনের পর অনলাইনে মৃত্যু সনদ পেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।’
এ বিষয়ে ডিএনসিসির সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ডিএনসিসির ‘গ্রেভইয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট ডিএনসিসি’ অ্যাপটি তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। কিন্তু তখন এ অ্যাপটি ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে লিংক যুক্ত করা হয়নি। এখন ওই অ্যাপের লিংক ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে সার্টিফিকেশনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ সার্টিফিকেশন পেলে জনগণ অ্যাপটি ব্যবহারে
মন্তব্য করুন