২৬ অগাস্ট ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

২০১৮ নির্বাচনের বিভীষিকাময় দিনলিপি

২০১৮ সাল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে তখন টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনা। কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। এ আসনে তিনি উন্নয়নের আরেক নাম। তাঁর জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী।
কিন্তু সেই পথ সহজ ছিল না।
তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানা ধরনের হয়রানি, মিথ্যা মামলা এহেন কোন ষড়যন্ত্র নেই যা করা হয়নি।
একটি মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় ২৪ অক্টোবর ২০১৮ সালে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এক মুহূর্তে যেন বদলে গেল সবকিছু।
একদিকে কারাগারের দেয়ালের ওপাশে একজন বাবা, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন রাজনৈতিক নেতা।  অন্যদিকে নির্বাচনের মাঠ, হাজারো কর্মী-সমর্থক এবং তাঁর স্বপ্নে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ।
এমন কঠিন সময়ে অনেকেই হয়তো ভেঙে পড়তেন। কিন্তু ভেঙে পড়েননি তাঁর কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
বাবা কারাগারে, অথচ তাঁর স্বপ্ন থেমে থাকতে পারে না, এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই তিনি নেমে আসেন মানুষের মাঝে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোটের পথে পথে ছুটে বেড়ান তিনি। মানুষের ঘরে ঘরে যান, তাদের কথা শোনেন, তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা জানেন। বাবার অনুপস্থিতিতে তাঁর নির্বাচনী বার্তা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা পৌঁছে দেন সাধারণ মানুষের কাছে।
সেই সময় তিনি শুধু একজন প্রার্থীর কন্যা ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন বাবার কণ্ঠস্বর, লক্ষ সংগ্রামী মানুষের স্বপ্নের বাহক এবং প্রতিকূল সময়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতীক।
কারাগারের দেয়াল হয়তো একজন মানুষকে বন্দি রাখতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, স্বপ্ন আর দায়বদ্ধতাকে বন্দি করতে পারে না,  ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস যেন সেই কথাটিই প্রমাণ করেছিলেন তাঁর পথচলায়।
বাবার কারাবরণের বেদনা বুকে নিয়েও তিনি থেমে যাননি। নিজের ব্যক্তিগত কষ্টকে আড়াল করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কর্মীদের সাহস দিয়েছেন এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হয়ে উঠেছেন।
সেই সময়ের প্রতিটি পথচলা, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রতিটি সাহসী পদক্ষেপ আজও স্মরণ করিয়ে দেয় সংগ্রামের সময় প্রকৃত আপনজনরা শুধু পাশে থাকেন না, তারা দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
২০১৮ সালের সেই কঠিন সময়ে একজন কন্যা বাবার জন্য শুধু অশ্রু ফেলেননি, তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে বাবার স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।
বাবা ছিলেন কারাগারে। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল মানুষের মাঝে। আর সেই স্বপ্নকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সেই কঠিন সময়ে মাঠে ছিলেন ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।।
Facebook Comments Box
See also  ​উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের দন্ত স্বাস্থ্য অধিকার: একটি বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ঘুরতে এসে যমুনা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার

১

বরুড়ায় বৃদ্ধ দর্জির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

২

তুরস্ক-পাকিস্তান-কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

৩

ইটের বদলে ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্য অধরা, নতুন করে তৎপর সরকার

৪

ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩৬৬

৫

নাটোরে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত

৬

কুমেক হাসপাতালে টয়লেটের সামনে রোগীর চিকিৎসা !

৭

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কর্ণফুলী ট্রেনের ইঞ্জিন ও ৪বগি লাইনচ্যুত! তদন্ত কমিটি 

৮

রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার

৯

চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তুলে ধরলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ

১০

অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে চলতো ডিজে পার্টি, নারীসহ আটক ৮৪

১১

বন্ধ কল-কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

১২

দেবিদ্বারে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেলাল উদ্দিন সরকার

১৩

রাশিয়ার যুদ্ধে নিহত কুমিল্লার সাগরের মরদেহ ফেরত চায় বাবা-মা

১৪

চৌদ্দগ্রাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাংবাদিক সাদিয়া রেজওয়ানা তন্বী

১৫

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ঢাবি শিক্ষার্থী নাফিজ ও তার পরিবারের ৬ জন নি হত

১৬

রাজনীতিবিদরা ইতিহাস লেখায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে: স্পিকার

১৭

দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা-উচ্চ শব্দে মাইক নিষিদ্ধ করতে নির্দেশনা

১৮

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ জায়গা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী, আজিমপুরে অপরিচ্ছন্নতায় অসন্তোষ

১৯

নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় আসবে: কৃষিমন্ত্রী ইয়াছিন

২০