চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বগৈড় গ্রামে মৃত মায়ের নামে ভুয়া দলিল তৈরি করে পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মেজো ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪৪)। মৃত ব্যক্তি কিভাবে জমি দাতা হতে পারেন—এই নিয়ে এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বগৈড় গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ ও মৃত হাজেরা বেগম দম্পতির ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। আব্দুল লতিফ ২০২৩ সালের ১১ জুন এবং তার স্ত্রী হাজেরা বেগম ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে আব্দুল লতিফ ২০০৫ সালে স্ত্রী হাজেরা বেগমকে ৮৪০ দাগে ৮ শতক ও ৮৩৬ দাগে ২ শতক—মোট ১০ শতক জায়গা দলিল দেন, যেখানে সকল সন্তান মিলেমিশে বসবাস করে আসছিলেন।
তবে হাজেরা বেগমের মৃত্যুর পর তার মেজো ছেলে দেলোয়ার হোসেন একটি জাল দলিল (নং-২৩৬০/২০২৩) সামনে এনে অন্য ভাইবোনদের ভিটেবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হাজেরা বেগম মারা যাওয়ার ৪ দিন পর দলিলটি গুণবতী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিবন্ধিত করা হয়েছে।
অন্যান্য ভাইবোনেরা জানান, হাজেরা বেগম মৃত্যুর প্রায় ৭ মাস আগে থেকেই ব্রেনস্ট্রোক করে শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি কথা বলতে, স্বাভাবিক খাবার খেতে বা চলাফেরা করতে পারতেন না। এমন একজন মুমূর্ষু রোগীর পক্ষে গুণবতী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থিত হয়ে জমি কাওয়ালা দেওয়া সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য ও জালিয়াতিপূর্ণ।
মৃত্যু হাজেরা বেগমের মৃত্যুর সনদের বিষয়ে জানতে চাইতে ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রব জানান,
হাজেরা বেগমের বিষয়ে স্থানীয় গণশুনানি ও ব্যাপক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত তারিখ: স্বজন, প্রতিবেশী, জানাজা পড়ানো ইমাম, সিএনজি চালক এবং পারিবারিক ছবি/ভিডিওর তারিখ অনুযায়ী হাজেরা বেগম ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এবং ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়।
বিদেশে অবস্থানরত সন্তানের প্রমাণ: আরেক ছেলে আমির হোসেন মাতার দাফন-কাফন শেষ করে ১৩ সেপ্টেম্বর বিদেশে যান, যা তার পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমান টিকেট পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়।
জাল সনদের দাবি: অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ০৯-১২-২০২৩ ইং তারিখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃক প্রদত্ত একটি মৃত্যু সনদ দাবি করলেও এর স্বপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ১০০-১৫০ জনের গণশুনানিতে প্রমাণিত হয় যে হাজেরা বেগম ৯ সেপ্টেম্বরই মারা যান। বর্তমানে ভুক্তভোগী অন্য ৪ ভাই ও ২ বোন তাদের প্রাপ্য পৈতৃক সম্পত্তি সমবণ্টনের দাবি জানাচ্ছেন এবং প্রতারক ভাই দেলোয়ার হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মন্তব্য করুন