ডেস্ক নিউজ
সকালটা তখনও পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়ক ধরে একের পর এক গাড়ি ছুটছে। কোথাও বাস থামছে, কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ছে। সড়কের পাশে হাঁটছে মানুষ। কেউ অফিসে যাচ্ছেন, কেউ স্কুল-কলেজে, কেউবা বাজারের পথে। একই রাস্তা ব্যবহার করছেন সবাই, কিন্তু সড়কের জায়গা ও যাতায়াতের সুবিধা যেন সবার জন্য সমান নয়।
এই শহরে প্রতিদিনের চলাচলের বড় অংশ নির্ভর করে গণপরিবহন, হাঁটা, রিকশা কিংবা অন্যান্য মাধ্যমে। অথচ সড়কের বড় একটি অংশ দখলে থাকে তুলনামূলক কমসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ির। ফলে যে শহরে মানুষের সংখ্যা বেশি, সেখানে রাস্তার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, রাস্তা কি মানুষের চলাচলের জন্য, নাকি গাড়ি রাখার ও চালানোর জন্য?
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কে আবাহনী খেলার মাঠের সামনে ‘কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহণকে অগ্রাধিকার না দিলে ঢাকার যানজট, দূষণ ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপ কমানো কঠিন হবে।
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার জানান, বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তাদের বক্তব্য, একটি বাসযোগ্য শহরের পরিবহন পরিকল্পনায় শুধু গাড়ির গতি নয়, মানুষের চলাচলকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিতে হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার সড়কে প্রতিদিন ৪০ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিমাণ ৫ থেকে ৭ শতাংশ হলেও সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা তারা দখল করে, এমন দাবি করেন বক্তারা।
অন্যদিকে নগরবাসীর প্রায় ৯০ শতাংশ গণপরিবহণসহ বিভিন্ন বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল বলে তারা উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ে ঢাকার আগের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনেও প্রায় একই ধরনের বৈষম্যের কথা উঠে এসেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি সড়কের প্রস্থের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করেছে।
এর অর্থ হলো, যানবাহনের সংখ্যা দিয়ে শুধু ঢাকার পরিবহন সংকট বোঝা যায় না। কে কত জায়গা ব্যবহার করছে, কত মানুষকে বহন করছে এবং সেই ব্যবস্থায় পথচারী বা গণপরিবহণের জন্য কতটা জায়গা থাকছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার আরেকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন বক্তারা। তাদের দাবি, শহরের প্রায় ৭৬ শতাংশ ট্রিপ দুই কিলোমিটারের মধ্যে।
দূরত্বটি খুব বেশি নয়। কিন্তু নিরাপদ ফুটপাত, হাঁটার পরিবেশ, রাস্তা পারাপারের সুযোগ এবং পথচারীবান্ধব নগর পরিকল্পনা না থাকলে এই ছোট দূরত্বও অনেকের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর থাকে না।
ফলে কাছের গন্তব্যেও মানুষ মোটরচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
মন্তব্য করুন