ডেস্ক রির্পোট
এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের জন্ম, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সরকারের পক্ষে নয়, বরং সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ করলেই আমাকে ‘দলকানা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। একটু দৃঢ় কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করলেই সেটিকে বলা হয় ক্ষমতার অপব্যবহার। অথচ বিরোধী পক্ষের কেউ সরকারের বিরুদ্ধে অসত্য, প্রোপাগান্ডা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেই তাকে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়; কণ্ঠ যত উচ্চ, জনপ্রিয়তার তকমাটাও যেন তত ভারী!
এই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। রাজনীতির মাপকাঠি যদি দলীয় পরিচয় হয়, তাহলে সত্যের কোনো মূল্য থাকে না; আর যদি দলীয় আনুগত্যই সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড নির্ধারণ করে, তাহলে ন্যায়বোধ কেবল মুখের বুলি হয়ে দাঁড়ায়।
আমাদের শিখতে হবে—সাদা যখন সাদা, তখন তাকে সাদা বলার সাহস থাকতে হবে; কালো যখন কালো, তখন দল-মত নির্বিশেষে তাকে কালো বলার নৈতিক দৃঢ়তাও থাকতে হবে। কারণ রাজনীতি কোনো দলের অন্ধ আনুগত্যের নাম নয়; রাজনীতি মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর দায়িত্ব।
দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশকে, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে নীতিকে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সত্যকে স্থান দিতে না পারলে রাজনীতির মাধ্যমে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দাবি করা নিছক আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়।
মন্তব্য করুন