ডেস্ক রির্পোট
এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের জন্ম, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সরকারের পক্ষে নয়, বরং সরকারের বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ করলেই আমাকে ‘দলকানা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। একটু দৃঢ় কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করলেই সেটিকে বলা হয় ক্ষমতার অপব্যবহার। অথচ বিরোধী পক্ষের কেউ সরকারের বিরুদ্ধে অসত্য, প্রোপাগান্ডা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেই তাকে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়; কণ্ঠ যত উচ্চ, জনপ্রিয়তার তকমাটাও যেন তত ভারী!
এই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। রাজনীতির মাপকাঠি যদি দলীয় পরিচয় হয়, তাহলে সত্যের কোনো মূল্য থাকে না; আর যদি দলীয় আনুগত্যই সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড নির্ধারণ করে, তাহলে ন্যায়বোধ কেবল মুখের বুলি হয়ে দাঁড়ায়।
আমাদের শিখতে হবে—সাদা যখন সাদা, তখন তাকে সাদা বলার সাহস থাকতে হবে; কালো যখন কালো, তখন দল-মত নির্বিশেষে তাকে কালো বলার নৈতিক দৃঢ়তাও থাকতে হবে। কারণ রাজনীতি কোনো দলের অন্ধ আনুগত্যের নাম নয়; রাজনীতি মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর দায়িত্ব।
দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশকে, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে নীতিকে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সত্যকে স্থান দিতে না পারলে রাজনীতির মাধ্যমে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দাবি করা নিছক আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়।
কুমিল্লায় মার্কশিট-প্রশংসাপত্র দিতে ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে’ ৫০০ টাকা নিচ্ছেন অফিস সহকারী
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, এসএসির মূল মার্কশিট এবং প্রশংসাপত্র তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে দাবি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বোর্ড থেকে এগুলো ফ্রি দেওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে গেলেই বলে ৫০০ টাকা লাগবে।”
অভিভাবকরা বলছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের পক্ষে বারবার ৫০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধনুয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিগন্ত চন্দ্র পাল (দিগন্ত পাল) বলেন, “সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিচ্ছে, আমরাও নিচ্ছি। আপনি কিছু করতে পারলে করেন।”
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ জালাল বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।”
শিক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি ছাড়াই বিতরণ করার কথা। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি।
ই-পেপার