ডেস্ক নিউজ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটি বলেছে, হামলার ঘটনায় শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়, রাজনৈতিকভাবে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা জানায়। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই এ ঘটনায় রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার মতো পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংগঠনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে না পারলে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। দলীয় নেতা কর্মীদের আচরণের কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাবিতে হামলা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকে প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ক্ষয়ের বৃহত্তর চিত্রের অংশ হিসেবে দেখছে টিআইবি। সংগঠনটির মতে, উপাচার্য ও শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবি, ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, দখলবাজি ও পেশিশক্তির প্রদর্শনের মতো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
টিআইবি বলেছে, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। উপাচার্য বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে পদত্যাগের দাবি আদায়ে দলীয় প্রভাব, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এমনভাবে ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব পালন করতে পারবে না এবং পুলিশ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হবে, এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হতে হবে আইন ও বিধি অনুযায়ী, কোনো দলীয় শক্তির দাপটে নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের সুরক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন