নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজন, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সাথী নৃত্য একাডেমির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাতৃভূমি কালচারাল পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সাথী নৃত্য একাডেমির শিল্পী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর দায়রা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম লিটন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বঙ্গ সংবাদ-এর সম্পাদক ডা. মির্জা মাহফুজুল হাছান, জাসাস মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক মালেক সাগর এবং কল্পনা মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুয়েল হাওলাদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাধীন দিগন্তের সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম লিটন বলেন, একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের মেধা, মনন, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
তিনি বলেন, নৃত্য ও সংস্কৃতিচর্চা শিশুদের শৃঙ্খলাবোধ, সৌন্দর্যবোধ ও দেশপ্রেম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে সুন্দর ও মানবিক সমাজের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাথী নৃত্য একাডেমির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান আরও বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে—এটাই প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানের সভাপতি স্বাধীন দিগন্তের সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, নতুন প্রজন্মই আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করবে। তাই তাদের মেধা বিকাশ ও সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটবে। তারা শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, একজন সৃজনশীল, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। তাদেরকে সেই আসক্তি থেকে বের করে মাঠ, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এজন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মো. মেহেদী হাসান বলেন, নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মননশীলতা বৃদ্ধি করে। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার মধ্যে শৃঙ্খলা, সৌজন্যবোধ, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়। তাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে সাথী নৃত্য একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে নৃত্য পরিবেশন করেন একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিল্পীরা। তাদের নান্দনিক পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে একাডেমির শিশু-কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। শিল্পীদের পরিবেশনা শেষে উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।
সাথী নৃত্য একাডেমির পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ছিল শিল্পী, অভিভাবক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বক্তারা বলেন, সংস্কৃতির বিকাশ ও নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সুন্দর, মানবিক ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, আগামী দিনেও সাথী নৃত্য একাডেমি শিশু-কিশোরদের নৃত্য ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাবে। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আনন্দঘন পরিবেশ, শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং অতিথিদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাথী নৃত্য একাডেমির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজন।
মন্তব্য করুন