ডেস্ক নিউজ
নির্বাচনের আগে মোট ৬৭ বার বিএনপির মৃত্যু ও সোশ্যাল ক্যাপিটাল পুরাপুরি নাই হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফাহাম আবদুস সালাম। তবে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা কমা মানে জামায়াতের বেড়েছে- এমনটি নয় বলেও মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে ফাহাম আবদুস সালাম লেখেন, ‘বিএনপি প্রথম শেষ হয়ে যায় পুরান ঢাকায় – পাথর দিয়ে হত্যা করার পরপর। নির্বাচনের আগে মোট ৬৭ বার বিএনপির মৃত্যু ও সোশাল ক্যাপিটাল পুরাপুরি নাই হয়ে যায়। জামাতে ইসলামীর নির্বাচনে জেতাটা তখন কিন্তু ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রতিদিনই দেখতাম অনেক জোকার উত্তেজিত যে বিএনপি আজকেই শ্যাষ। অনেকেই কান্নাকাটি করে ভিডিয়ো বানাত।’
তিনি লেখেন, ‘ক্লাস টু ও থ্রিতে থাকতে মাঠে মাইরপিট করে মাইর খাইলে আমি এরকম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতাম। আল্লাহর গজব পড়বে বলে মনে হতো। যে আমাকে মারছে সে ঠাডা পড়ে মারা যাবে কিংবা কোনোদিনও আর মাঠে আসবে না। অনেক কান্না করেছি আমি; ফরিয়াদ দিয়েছি। কিন্তু কেউ মারা যায়নি।’
‘জামাতে মুসলমানদের প্রতি আমার নিবেদন: বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা যদি জিরোতেও নামে – দ্যাট ডাজন্ট নেসেসারিলি মিন – যে আপনার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এই জিনিসটা মাথায় রাখবেন।’
রাজনৈতিক এ বিশ্লেষক লেখেন, ‘আপনাদের একটা ভ্রম আছে যে এইটা একটা টু ওয়ে ফাইট এবং একজন হারলেই আরেকজন জিতবে। নাহ! আপনারা এখনো সেই মোকামে আসেন নাই। Goldberg ও Hornswoggle এর মধ্যে একটা রিং এ ফাইট হওয়ার বা একই রিং এ ওঠার মানে এই না যে ঐটা রেসলিং। আপনাদের আলাদা একটা লড়াই আছে। সেটা বিএনপি বা আওয়ামী লীগের সাথে না। আপনাকে সরাসরি বাংলাদেশের মানুষকে কনভিন্স করতে হবে যে আপনারা ফাৎনা না। Hornswoggle না। যে আপনারা লায়েক হয়েছেন। বিএনপি ব্যর্থ হওয়া মানে এই না যে আপনারা সফল হয়েছেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘কখন বুঝবেন যে আপনারা আর ফাৎনা (বারিক) নাই? যখন দেখবেন যে সেকুলার ঘরানার মানুষেরা তার সারা জীবনের প্রফেশনাল অর্জনকে আপনাদের জন্য বাজি রাখছে। ছাত্রলীগ বা বিএনপির লুঙ্গির তলা থেকে বের হওয়া বলছি না কিন্তু। সারা জীবন শিবির করছেন – পাসপোর্ট সাইজের ছবি দেখলে বোঝা যায় যে পুরা ফ্যামিলি জামায়াত কিন্তু ক্লজেট থেকে আগে কোনোদিন বের হন নাই – আমি কিন্তু এই সিনারিওর কথা বলছি না।’
ফাহাম আবদুস সালাম লেখেন, ‘সমাজের দুটা উদাহরণ দেই। কাউকে ছোট করার জন্য না – বরং রিয়ালিটিটা বোঝানোর জন্য বলছি। নায়েল রহমান কিংবা ফাহিম মাশরুর। দুজনেই rabidly এন্টি-বিএনপি। দুজনেই জামায়াতে ইসলামীকে ভীষণ ভালোবাসে। তারা এখন সোশাল আপওয়ার্ড মোবিলিটিতে এমন জায়গায়, যেখানে বিএনপিতে কোনো এন্ট্রি নাই – কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর স্ট্রাকচার এমন যে যে কোনো সেকুলার ঘরানার ছেলে যার সুট আছে আর যে কোনো মেয়ে যে ব্লাউজ পরলে হাতের স্কিন দেখা যায় – এমন মানুষেরা জামায়াতের পক্ষে একটা শব্দ বললেই ইন্সট্যান্টলি তাদের নবী হয়ে যায়। কারণ জামাতে ইসলামীর প্রত্যেকে জানে যে তারা এখনো congregation of nobodies.’
‘কিন্তু মজার ব্যাপার দেখেন নায়েল রহমান কিংবা ফাহিম মাশরুররা সমাজের সামনে বলবে না – আমরা জামায়াতি হয়ে গেছি। কারণ তারা তাদের সোশাল ও প্রফেশনাল ক্রিডেনশিয়াল জামায়াতের জন্য বাজি রাখবে না। too costly কারণ তারা জানে যে যেই মুহূর্তে ক্লজেট থেকে বেরিয়ে এসে বলবে যে আজ থেকে মোরা জামায়াতি, নেই মোদের কোনো লাজ ও দ্বিধা – তাদের নিজেদের সমাজে এর একটা বিকট প্রতিক্রিয়া আছে। এই রিস্ক আবার কেউ নিতে চায় না।’
তিনি লেখেন, ‘দেখবেন যে স্টুপিড পিপলের বুদ্ধিজীবী হলে একজন মানুষ খুব সহজেই জামায়াতি হয়ে যায়। কারণ ছেলে সাঁতারুদের মধ্যে পৃথিবীতে যার ranking ৪৭৯ – সে যদি নিজেকে মেয়ে দাবি করে মেয়েদের সাঁতারে পার্টিসিপেট করে – ইন্সট্যান্টলি সে পৃথিবীর ১ নম্বর সাঁতারু। কিংবা যার বিএনপিতে ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ারও সম্ভাবনা নাই সে খুব সহজেই এনসিপির সাথে লেই লাগায় নির্বাচন করতে পারে।’
বিএনপিপন্থি এ অ্যাক্টিভিস্ট লেখেন, ‘আমার হাসি লাগে যে জামায়াতিরা যেরকম ট্রাইবাল – যে মুহূর্তে তারা ঐ সার্কেলে একচুয়ালি ঢুকবে – বুঝবে যে তারা কোনোদিনও জামায়াতি হতে পারবে না। তিনবার জন্মালেও না। গত নির্বাচনে জামায়াতিরা যত ভোট পাইছে তার অন্তত ২০% পাইছে ইলিয়াস ও পিনাকীর জন্য। মোস্ট সার্টেনলি জামাত যদি ১০০টা ভোট পেয়ে থাকে পিনাকী-ইলিয়াস দুইজন মিলে শফিক সাহেবের চেয়ে বেশি জনসমর্থন জেনারেট করছে। কোথাও দেখছেন জামায়াতিরা এদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাইছে? প্রথম দিন পার্লামেন্টে গিয়ে কাউরে বলতে শুনছেন যে আজকে আমরা ইলিয়াস ও পিনাকীর জন্যেই এইখানে বসতে পারছি? এমন কি ত্বহা কিংবা ইমরুল হাসানদের মতো নিঃস্বার্থ ও প্রেমী জামায়াতিদের প্রতিও কি জামাতিরা শুকরিয়া জানাইছে? কোথাও দেখছেন?’
‘এই ঘটনাটা কোনোদিনও ঘটবে না কারণ জামায়াতে মুসলমানদের যে পৃথিবী – ঐখানে কোনোভাবেই এরা ফিট করতে পারবে না। এটা এখনো এরা বোঝে না যে ঐ পৃথিবীটা কতোটা ট্রাইবাল।’
তিনি বলেন, ‘সব দলেই এবং সব শ্রেণীতেই বেশুমার লুচ্চা পিপল আছে – কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু একজন এমপি স্থানীয় মানুষের নিজের স্ত্রীর বোনের আন্ডারএইজ মেয়ের সাথে লুচ্চামি করতে হলে আপনাকে যে আলাদা একটা ওর্য়াল্ড ভিউ মেইনটেইন করতে হবে – এটা অনেকেই বোঝে না। আপনারা জানেন যে প্রায় সকল ইসলামিস্ট মনে করে যে সেকুলার দুনিয়ার সবাই সারাদিন শুধু সেক্স আর সেক্স করে। হাজার হাজার মেয়ের সাথে। কিন্তু আপনারা দেখেছেন ইসলামিস্টদের সেকচুয়াল নর্মস আসলে অনেক বেশি ল্যাক্স। হোটেলে ধরা খাবেন – দেন এন্ড দেয়ার বলবেন যে ও তো আমার রানিং ওয়াইফ – সেকেন্ড কিংবা থার্ড। কোনো অসুবিধা নাই। আর সেই রানিং ওয়াইফকে তার নিজের খালা চাচাও চিনে না কারণ সে মুখ ঢেকে রাখছে। এমেইজিং একটা এনোনিমাস সিস্টেম।’
‘আমার আসলেই মনে হয় যে বাংলাদেশের মতো এতো সহজে একটা বাইসেক্সুয়াল লাইফস্টাইল পৃথিবীতে আর কোনো গরিব সমাজে মেইনটেইন করা না-ও সম্ভব হতে পারে। পৃথিবীতে একটা ইম্পারফেক্ট এস্টিমেশন আছে যে কোনো সমাজে ৬-৮% মানুষ হোমোসেক্সুয়াল হয়। আমার অনুমান বাংলাদেশের ইসলামিস্টদের মধ্যে এই সংখ্যাটা অনেক অনেক অনেক বেশি। জীবনে শুনছেন যে শরিয়া আইন নিয়ে আকুল মওলানা হোমোসেক্সুয়ালিটি নিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করে? বলছি না যে প্রতিটি জামায়াতে মুসলমান বা ইসলামিস্ট কোনো অর্জিতে পার্টিসিপেট করছে। অবশ্যই না। কিন্তু এইটা একটা পিকিউলিয়ার ওয়ার্ল্ড এবং মনে করেন না যে খুব সহজেই আপনি এখানে ঢুকতে পারবেন।’
ফাহাম আবদুস সালাম আরও লেখেন, ‘বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের জন্যে দেখবেন যে বহু লোক তার প্রফেশনাল অর্জন বাজি রাখে। নবনীতা দেখেন তার সাংবাদিকতার সমস্ত ক্রেডিবিলিটি এই বয়সে এসে খোয়ায় দিয়ে এখন একদম নির্লজ্জ্বভাবে গুজব ছড়ায়। এই কাজটা সহজ না ভাই। একটা পার্টির জন্য জোকার হওয়া খুব সহজ না। বিএনপি যে সেকুলার আর্টিস্ট ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি খুব একটা রেস্পন্সিভ না – এটা জেনেই কিন্তু বহু আর্টিস্ট বিএনপিকে ওন করে। কারণ বিএনপি করা বা আগে মানুষ যে আওয়ামী লীগ করতো – ওটা কোনো সোশাল ট্যাবু ছিল না। ঐ জায়গায় জামায়াতে ইসলামী পৌঁছাতে পারে নাই। এখনো বহু দেরি। যখন দেখবেন যে নায়েল রহমান কিংবা ফাহিম মাশরুররা কিংবা পরীমনিরা (at prime) দলে দলে আজান দিয়ে বলবে যে-
মোদের নেই আর কোনো দ্বিধা সংকোচ, মোরা জামাতে মুসলমান
ইনফ্লুয়েন্সার, ব্যবসায়ী, নায়িকা, সবাই একই কাতারপ্রাণ।
ফওলাদ মোদের ঈমান – মোরা জামাতে মুসলমান।
সেদিন বুঝবেন যে আপনারা আর ফাৎনা নাই।’
আর যখন আপনাদের ফাৎনাডোম থেকে মুক্তি মিলবে – তখন যদি বিএনপির ক্ষতি হলে আনন্দ করেন – সেটা কিন্তু আসলেই ফায়দাওয়ার হবে। এখন আনন্দ করলে মনে হয় যে মেসি-রোনালদো নিয়ে তর্ক হচ্ছে – আপনি …. আশরাফুল (ফুটবলার) – এন্ড্রিকও না – অথচ আপনি মকসুদের সাথে মারপিট করছেন ম্যাসি ম্যাসি করে। বড় হওয়ার কাজটা কিন্তু আপনাদের সাথে জনগণের। আপনাদেরকেই কনভিন্স করতে হবে যে, আমাদেরকে চিপলে বিষ বাইর হয়, আমরা ওনেক বড়, আমরা ফাৎনা না।’
বিএনপি বা আওয়ামী লীগ আপনাদের জন্যে এই কাজটা করে দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন