ডেস্ক নিউজ
টঙ্গীর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতা মো. মিঠু রহমান। ছোট দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করেন। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে ক্রেতা সেজে তার কাছে সিলিন্ডার কিনতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। তবে প্রথমে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলে সাফ জানিয়ে দেন। কিন্তু ‘গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্না হচ্ছে না, যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে দেন’— বলার পর ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকা দাম চান।
এই বিক্রেতা বলেন, ‘সিলিন্ডার এমনিতেই নেই। দাম ২ হাজার ৪০০ টাকা দেবেন। দেখি যদি ম্যানেজ করে দিতে পারি। বিকেলে একবার ফোন দিয়েন।’
শুধু টঙ্গী নয়, এমন বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রির চিত্র রাজধানী, রাজধানীর আশপাশের এলাকাসহ সারাদেশেই। অথচ ১২ কেজির এই সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অথচ নির্ধারিত এই দামে সিলিন্ডার বিক্রির নজির কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সিলিন্ডার নেই’ অজুহাত। রোববার সকালে রাজধানীর আজিমপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সিলিন্ডার গ্যাসের খুচরা দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। আর যেসব দোকানে অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে সিলিডার বিক্রি করা হয় সেসব দোকানেও সিলিন্ডার নেই। আজিমপুরের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘সিলিন্ডার দেওয়া যাবে, তবে ২ হাজার ৫০০ টাকা পড়বে। নতুন বোতলসহ কিনলে ৪ হাজার টাকা দিতে হবে।’
‘বাংলাদেশ এলপিজি সিলিন্ডার এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট গ্রুপ’ একটি ফেসবুক গ্রুপ। গ্রুপটিতে অনেকেই সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির তথ্য দিয়ে থাকেন। অনেক ক্রেতাও তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। গ্রুপে সুমাইয়া ইসলাম নামের একজন লিখেছেন, ‘দেশটা আসলে যাচ্ছে কোথায়? আজকে বসুন্ধরার ২ টা এলপি গ্যাস নিয়ে আসলাম ৪ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে।’
সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে দেশজুড়ে বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে দেশজুড়ে বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
‘১টি ২ হাজার ৪৫০ টাকা করে, চিন্তা করেন। যেই গ্যাস ক্রয় করতাম ১২০০/১৪০০ টাকা, আজ সেই গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া। আমরা সাধারণ মানুষ কী করবো? আমাদের কি মেরে ফেলতে চান? না কি বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করে ভুল করে ফেলছি? এই দেশের মানুষ শেষ হয়ে যাবে দেইখেন! আমি বলি আমাদের ওপর অন্যায়-জুলুম করা হচ্ছে।’ যোগ করেন তিনি।
বাবু মিয়া নামের একজন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে মজার ছলে একটি বাংলা গান জুড়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘২ হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে যাইতেছি।’
ফেসবুক গ্রুপটিতে শেখ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি পেজ থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের গাড়ির ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘কী এক অবস্থা, ডিপোতে নাকি মাল নাই। গাড়ি পাঠাইলাম ভোরে, মাত্র আসলো। এমনি কী ব্যবসা চলে না কিরে ভাই। আমার মতো কার এই অবস্থা কমেন্ট করেন কিন্তু।’
‘১২ কেজি একটা সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাইলে সাধারণ মানুষ কীভাবে কিনবে? সরকারের কাছে একটা দাবি, দ্রুত খরচা বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন’
পরে ক্রেতা সেজে ফেসবুক পেজে থাকা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিক্রেতা রাকিব বলেন, ‘সিলিন্ডার আছে, তবে কম। ২ হাজার টাকা চলতেছে। নরসিংদী থেকে নিতে হবে।’
‘৬৪ জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে মো. রাসেল পোস্ট করেছেন, ‘১২ কেজি একটা সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তাইলে সাধারণ মানুষ কীভাবে কিনবে? সরকারের কাছে একটা দাবি, দ্রুত খরচা বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন।’
‘এলপি গ্যাসের বাজার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে এক খুচরা ব্যবসায়ীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। ক্রেতা পরিচয়ে কথা বলে জানা যায় তিনি সাতক্ষীরায় ব্যবসা করেন। মো. লাবিব নামের এই ব্যক্তি বলেন, ‘গ্যাস আছে। আমরা ১ হাজার ৮০০ টাকা করে বিক্রি করতেছি। ওমেরা, আই গ্যাস, ফ্রেশ এগুলো আছে। অনেক বেশি নেই, টুকটাক আছে, বিক্রি করা যাচ্ছে। ডিলার পয়েন্ট কাছে তো — শহরের পাশেই। এজন্য আমরা পাই। গ্রাম-গঞ্জের কী অবস্থা বলতে পারবো না।’
মন্তব্য করুন