ডেস্ক নিউজ
অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলেছেন লিওনেল মেসি। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার। মেসির বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।
মেসির এই বিদায়ী ম্যাচ দেখতে পাগলাটে কাণ্ড করেছেন এক ভক্ত। শুধু মাত্র মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে ভারতের কেরালায় নিজের গ্রাম কোদুনগালুর থেকে লন্ডন ও নিউইয়র্ক হয়ে বুয়েনস এইরেসে পা রাখেন ইকবাল। প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি। এতে সময় লেগেছে ৪০ ঘণ্টা।
দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে এতটুকু ক্লান্তি বা উৎকণ্ঠা কাজ করেনি ইকবালের মনে। ২০২২ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে আল–জাজিরাকে এই মেসিভক্ত বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছিলাম মেসি যেন বিশ্বকাপ জেতে। চার বছর আগে তিনি এটা অর্জন করেছে এবং আমি নিজের চোখেই দেখেছি। এখন কিছুই আর বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয় না।’
মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট অনলাইনে পাননি ইকবাল। ম্যাচের টিকিট ছাড়াই বুয়েনস এইরেসের পথে রওনা হন তিনি। তবে তার ভাগ্য সহায় ছিল। আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরেই আরাধ্য সেই ম্যাচের টিকিট পেয়ে যান ইকবাল। রিসেল মার্কেট (পুনর্বিক্রির বাজার) থেকে শেষ মুহূর্তে টিকিটটি সংগ্রহ করতে তার এক হাজার ডলার খরচ হয়েছিল। ইকবাল জানান, মূল দামের তিন গুণ বেশি দিয়ে টিকিট পেয়েছেন তিনি।
মেসির জন্য ইকবাল ৩২ মিটার লম্বা, ২০ ফুটবল প্রস্থের ম্যুরাল বানিয়েছেন। মেসির বিভিন্ন ট্রফি জয়ের মুহূর্তও রাখা হয় এ ম্যুরালে। ইকবাল বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জেতার পর আমি বাড়ির কাছে এটি তৈরি করিয়েছিলাম। তবে চলতি বছরের জুনে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর পর ইনস্টাগ্রামে এটি দেখতে পান মেসি। সেটাই ছিল আমার জীবনের সেরা দিন।’
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পঞ্চম সারিতে বসে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটি উপভোগ করেন ইকবাল। তিনি বলেন, ‘খুব কাছাকাছিই ছিলাম তার। প্রায় ১০ মিটারের দূরত্ব। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। হয়তো কিংবদন্তিদের ম্যাচে আমরা মেসিকে আবারও দেখবো। কিন্তু (জাতীয় দলে) প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তো আর দেখা যাবে না।’
এ দিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কোদুনগালু থেকে সড়কপথে ১৩ ঘণ্টা ভ্রমণ করে বেঙ্গালুরু যান ইকবাল। সেখান থেকে বিমানে লন্ডন ও নিউইয়র্ক হয়ে পৌঁছে যান বুয়েনস এইরেসে। সংবাদমাধ্যমটিকে ইকবাল বলেন, ‘জানি বড় ঝুঁকি নিয়েছি। ভারতে টিকিটের খোঁজ করেছি। প্রতারণার শিকার হতে পারি সেটাও জানতাম। তাই সেরা উপায় ছিল সেখানে গিয়ে টিকিট সংগ্রহ করা। সৌভাগ্যবশত একটি পেয়ে যাই, তবে তিনগুণ বেশি দাম দিতে হয়েছে। এই (মেসি) মানুষটা আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে। আমার হৃৎস্পন্দনে শুধু তারই দখল।’
মন্তব্য করুন