মাহফুজ বাবু; কুমিল্লা
দেশের প্রতিটি জায়গায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্নতা বলতে শুধু রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করাকে বোঝায় না; বরং যেখানে যত নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রয়েছে, সেগুলোও পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি জায়গায় সরকার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে। পরিচ্ছন্নতা বলতে শুধু রাস্তার ময়লা-আবর্জনাকেই বুঝবেন না। পরিচ্ছন্নতা বলতে যেখানে যত নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড আছে, সেগুলোকেও বোঝায়। একদিনে সবকিছু করা সম্ভব নয়। তবে সবখানেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।”
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বারান্দা ও আঙিনা পরিষ্কারের পাশাপাশি ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলে। পরে মন্ত্রী নিজেও ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন।
এ সময় হাসপাতালের অনিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আমার এ হাসপাতালে আসার কথা নয়, আমি কৃষি সেক্টরের। যেহেতু আমার বাড়ি এখানে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিটি বড় হাসপাতালে একটি করে কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটির মধ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কমিটিতে প্রটোকল অনুযায়ী আমাকে সভাপতি করা হয়েছে। এখানে আমার বাড়ি হওয়ায় আমি সবাইকে চিনি।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে অনিয়ম আছে। সবকিছু একেবারে পরিষ্কার হয়ে গেছে, এটা সঠিক নয়। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যত ধরনের অপরিষ্কার বিষয় আছে, সবকিছু পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হবে। এটা শুধু ড্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচ্ছন্ন করার যত জায়গা আছে, সবখানেই জাতির প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে ও জনগণের প্রয়োজনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে।”
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাছুম হাছান এবং হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন