ডেস্ক নিউজ
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার আমলে যে নিয়মগুলো অলিগার্ক পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়িয়েছিল, বিএনপি আবার সেগুলো ফেরত আনছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ।
পোস্টে হাসনাত লেখেন, ব্যাংক সংস্কার আটকে দিচ্ছে সরকার, থাকবে অলিগার্কের পরিবারের প্রভাব। ব্যাংকগুলোকে পারিবারিক ব্যাংক বানানো বন্ধ করতে একসময় নিয়ম ছিল এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ ২ জন ব্যাংকের পরিচালক হতে পারতেন। একজন পরিচালক টানা ৬ বছরের বেশি থাকতে পারতেন না। এরপর হাসিনার আমলে, হাসিনার প্রতি লয়াল অলিগার্কদের ব্যাংক দখলের সুযোগ দিতে আইন পরিবর্তন করা হয়। ২০১৮ সালে পরিচালকের মেয়াদ ৯ বছর করা হয় এবং এক পরিবারের ৪ জনকে পর্ষদে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে পরিবারের সদস্য ৩ করা হলেও মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ১২ বছর করা হয়
সে সময় অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর এটির ব্যপক সমালোচনা করেছিলেন উল্লেখ করে হাসনাত লেখেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে আহসান মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্নর করা হয়। তার অধীনে সংস্কারের উদ্যোগে আগের মতো এক পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন এবং সর্বোচ্চ টানা ৬ বছর মেয়াদের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া পর্ষদের অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক হবেন এমন প্রস্তাবও করা হয়। এছাড়া, পরিচালকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের বিষয়টিও পরিচালকের দায়িত্ব হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি লেখেন, এরপরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আহসান মনসুরকে মব করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার জায়গায় বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভার্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অবশ্য তার আরেকটি যোগ্যতা হলো তিনি বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী হয়েছেন আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আমির খসরু।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এখন অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের ব্যাংকের প্রস্তাব নাকচ করে এক পরিবারের সদস্য তিনজনকেই ব্যাংকের পরিচালক হতে দিতে চায়। মেয়াদ হবে ৬ বছর না, ৯ বছর। পরিচালকের প্রতিষ্ঠানের খেলাপী ঋণের বিষয়টাও বাদ। এমনকি খেলাপি ঋণের কারণে পরিচালক পদ হারানোর পর আবার পর্ষদে ফেরার অপেক্ষার সময় ১ বছর থেকে ৬ মাসে নামানো হবে।
এনসিপির এই নেতা লেখেন, হাসিনা আমলে যে নিয়মগুলো অলিগার্ক পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়িয়েছিল, সেটাই আবার ফেরত আনছে বিএনপি। মাঝখান থেকে আহসান মনসুর ও অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টা গেল জলে।
শেষে তিনি লেখেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের টাকা নিয়ে চলে। এটা কোনো পরিবারের জমিদারি নয়। কিন্তু সংস্কার বাতিল করে দিয়ে বিএনপি চাচ্ছে ব্যাংকের জমিদারিগুলো আওয়ামী অলিগার্ক পরিবারের বদলে পাবে বিএনপির অলিগার্ক পরিবার, অথবা নব্য বিএনপি অলিগার্ক পরিবার।
মন্তব্য করুন